প্রবাস মেলা ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এক বিশেষ অভিযানে ১১ বাংলাদেশিসহ ২০ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। অভিযানে ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ৩৪১টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরের আমপাং জেলার তামান দাতুক আহমদ রাজালিতে এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৩ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এ অভিযান পরিচালনা করে পুত্রজায়ায় অভিবাসন বিভাগের সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগ। এতে সহযোগিতা করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের (আইআরবি) কৌশলগত কমপ্লায়েন্স শাখা এবং গোয়েন্দা ও প্রোফাইলিং বিভাগ।
তিনি বলেন, জনসাধারণের দেওয়া তথ্য এবং বিভাগের নিজস্ব গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন বাংলাদেশি পুরুষ, যাদের ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপক বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও রয়েছেন ছয়জন মালয়েশীয় নারী কর্মী এবং ১২ জন বিদেশি গ্রাহক। ওই ১২ জনের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি পুরুষ ও তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী।
অভিযানে ২৬৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ৬৩টি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট, ১২টি পাকিস্তানি পাসপোর্ট এবং একটি ভারতীয় পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে, এমন ৬ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত নগদ জব্দ করা হয়।
জাকারিয়া বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, চক্রটি কথিত ‘এ-টু-বি’ নিয়োগকর্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করত। এ ব্যবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠান (নিয়োগকর্তা এ) বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন করিয়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাসের আওতায় কর্মী নিয়ে আসত। পরে ওই কর্মীদের মূল নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করানোর পরিবর্তে মুনাফার বিনিময়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে (নিয়োগকর্তা বি) সরবরাহ করা হতো।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন পেতে চক্রটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থা ও পরিচিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়— এমন তথ্য জমা দিয়েছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
অধিকতর তদন্তে দেখা গেছে, মালয়েশিয়ায় আনা বিদেশি কর্মীরা কোটা চেয়ে আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করতেন না। বরং তারা স্বাধীনভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।
জাকারিয়া বলেন, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিটি কর্মীর বিপরীতে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত মুনাফা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর ফাঁকি দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রকৃত আর্থিক হিসাবের তুলনায় অনেক কম মুনাফা দেখাত। পাশাপাশি ২০২০ থেকে ২০২৩ করবর্ষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয়ের তথ্যও গোপন করা হয়েছিল।
সূত্র : নিউ স্ট্রেইটস টাইমস