প্রবাস মেলা ডেস্ক: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এরই মধ্যে কর্মীদের জন্য কোটা বরাদ্দ ও এম্বাসি অ্যাটেস্টেশনের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। কয়েকজনের অ্যাটেস্টেশন সম্পন্নও হয়েছে। তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইন্টারভিউসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরুর প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় আটকে রয়েছে পুরো প্রক্রিয়া। এতে নির্ধারিত সময়ে কর্মী পাঠাতে না পারলে বাজার হারানোর আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সদস্য ও আর্থ স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কোটা বরাদ্দ ও এম্বাসি অ্যাটেস্টেশনের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইন্টারভিউসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরুর প্রয়োজনীয় অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় সাড়ে ২ লাখ কর্মীর কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কর্মীর এম্বাসি অ্যাটেস্টেশনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। কয়েকজন কর্মীর অ্যাটেস্টেশন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নির্দেশনা না পাওয়ায় কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা যাচ্ছে না।
বরাদ্দ পাওয়া কর্মীদের দ্রুত নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, শ্রমবাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত হলেও প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে কর্মীদের মালয়েশিয়া যাত্রা পিছিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকায় ১৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এখনো এসব প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোটা বরাদ্দ এবং ই-অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া এগোলেও পরবর্তী কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় দেশটির নিয়োগকর্তা ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর মালয়েশিয়ার বিভিন্ন নিয়োগকর্তা ও রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। তাদের অনেকেই কোটা পেয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও নির্দেশনার অভাবে কর্মী নিয়োগের পরবর্তী ধাপ শুরু না হওয়ায় নিয়োগকর্তাদের একটি অংশ বাংলাদেশি কর্মীদের পরিবর্তে অন্য দেশের কর্মী নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।
বায়রার সদস্য ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোটা বরাদ্দ ও ই-অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও পরবর্তী কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় নিয়োগকর্তা ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সময়মতো বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো সম্ভব না হলে কিছু নিয়োগকর্তা অন্য দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে বাংলাদেশ কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাতে পারে।
তাই বরাদ্দ করা কোটা অনুযায়ী দ্রুত কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ইন্টারভিউ, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে নিয়োগকর্তারা যেন অন্য দেশের দিকে চলে না যান, সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।