প্রবাস মেলা ডেস্ক: কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের বার্তা নিয়ে আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। ২০০৩ সালে কন্যাশিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৩০ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ঘোষণা করা হয়।
বর্তমান সময়ে দেশের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কন্যাশিশুদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের এগিয়ে চলার পথে এখনও নানা ধরনের প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে তাদের টিকে থাকা এবং ঝরে পড়ার হার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সময় নেওয়া উদ্যোগ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং মেয়েদের জন্য প্রবর্তিত বিভিন্ন উপবৃত্তির কল্যাণে গত কয়েক বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার ক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতা অনেকটাই অর্জিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক সাক্ষরতা ও নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রায় একটি বড় অর্জন। তবে এই প্রাথমিক সাফল্যের পরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে যখন শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকে পদার্পণ করে, তখন তাদের একটি বড় অংশের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার অত্যন্ত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
কন্যাশিশুদের এই ঝরে পড়ার পেছনে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, আর্থিক অসচ্ছলতা, বাল্যবিয়ে এবং পরিবারের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাসহ বিভিন্ন বহুমুখী কারণ জড়িত থাকে। মাধ্যমিক স্তরে পৌঁছানোর পর অনেক পরিবারে কন্যাসন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো কিংবা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা তাদের শিক্ষাজীবন চিরতরে থামিয়ে দেয়। তাই কেবল প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরে ভর্তির হার বাড়ালেই চলবে না, বরং কন্যাশিশুরা যেন তাদের পড়াশোনা সফলভাবে শেষ করতে পারে এবং উচ্চশিক্ষায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তার জন্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে আরও কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের জোরালো দাবি।