ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন প্রতিনিধি: লেবাননে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে প্রত্যাবাসন ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ সচেতনতামূলক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এ ব্রিফিংয়ে জেনারেল সিকিউরিটি থেকে প্রাথমিক ক্লিয়ারেন্সপ্রাপ্ত প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) ও দূতালয় প্রধান মো. আনোয়ার হোসাইন জানান, লেবানন সরকার অবৈধ প্রবাসীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়ে কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যারা এ সুযোগ গ্রহণ করে দেশে ফিরবেন, তাদের পাসপোর্টে জেনারেল সিকিউরিটি ‘মানা’ বা প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সিল দিচ্ছে।
তিনি জানান, আগে এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৫ বছর থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লেবাননে পুনঃপ্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
এদিকে, ১৫ বছরের এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি গোপন করে এক শ্রেণির অসাধু দালালচক্র প্রবাসীদের আবার লেবাননে ফিরিয়ে আনার মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দূতালয় প্রধান জানান, প্রতিশ্রুতির নামে এসব দালাল প্রবাসী ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।
দালালদের প্রতারণার কৌশল তুলে ধরে মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, তারা শুরুতে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আচরণ করে এবং ছোটখাটো সহযোগিতা কিংবা খাবারের বিল পরিশোধের মাধ্যমে প্রবাসীদের আস্থা অর্জন করে। পরে ভুয়া নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
বিশেষ করে নারী প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা বেশি ঘটছে বলেও সতর্ক করা হয়। অনেক সময় ভুয়া ভিসা দিয়ে তাদের বিমানবন্দর পর্যন্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের সময় আগের নিষেধাজ্ঞা ধরা পড়লে বিমানবন্দর থেকেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়। এতে দালালচক্র দায় এড়িয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রবাসী কর্মীরা চরম বিপাকে পড়েন।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে হুবহু নকল ভিসা তৈরি করা হচ্ছে, যা খালি চোখে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে কোনো ধরনের ভিসা বা কাগজপত্র যাচাই ছাড়া দালালদের কথায় বিশ্বাস না করার জন্য প্রবাসীদের সতর্ক করা হয়েছে।
দূতাবাসের নির্দেশনা
দালালদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে লেবাননস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কয়েকটি নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—লেবাননে পুনঃপ্রবেশের বিষয়ে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের আগে অবশ্যই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা।
কোনো নিয়োগকর্তা সত্যিই কোনো কর্মীকে পুনরায় লেবাননে নিয়ে আসতে চাইলে, তাকে নিজেই জেনারেল সিকিউরিটিতে আবেদন করে সংশ্লিষ্ট কর্মীর ওপর থাকা ‘মানা’ বা প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করতে হবে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে প্রস্তুত করা ভিসার ওপর নির্ভর না করে সরকারি স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সচেতনতাই প্রতারণা থেকে রক্ষার প্রধান উপায়। কোনো অবৈধ বা ভুয়া নথিপত্র কিংবা দ্রুত লেবাননে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রবাসীদের সরকারি নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।