প্রবাস মেলা ডেস্ক: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বভাবসুলভ দাপট দেখিয়ে শুরু করলেও, কেপ ভার্দের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে বিপাকে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে তারা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। লিওনেল মেসি নিজের ২০তম বিশ্বকাপ গোল করে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান।
শনিবার (৪ জুলাই) মায়ামিতে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণের ধার সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডি পল, থিয়াগো আলমাদা ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সমন্বয়ে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে স্কালোনির দল। অবশেষে ২৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। নিজের অর্ধ থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের দেয়া নিখুঁত লম্বা পাস ধরে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করেন মেসি।
এই গোলটি ব্যক্তিগতভাবেও মেসির জন্য ছিল বিশেষ। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোল পূর্ণ করেন তিনি। পাশাপাশি টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য নজিরও গড়েন। শুধু গোলই নয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল তার ১২তম সরাসরি গোল-অবদান (৬ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট), যা ১৯৬৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী নতুন রেকর্ড।
তবে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
বিরতির পর খেলার চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলতে থাকে কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে মোরেইরার পাস থেকে রায়ান মেন্দেস ডান দিক দিয়ে উঠে নিখুঁত কাট-ব্যাক করেন। সেই বল থেকে কঠিন কোণ থেকেও ডেরয় দুয়ার্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে দূরের কোণে বল জড়িয়ে দেন।
গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা পাল্টা চাপ বাড়ায়। কোচ লিওনেল স্কালোনি আক্রমণে নতুন গতি আনতে একের পর এক পরিবর্তন করেন। কিন্তু বদলির পরও ভোজিনিয়াকে আর পরাস্ত করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৯২ মিনিটে মেসির নেয়া কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেডে বল বাড়িয়ে দেন। সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জড়িয়ে দেন জালের ওপরের কোণে।
কিন্তু কেপ ভার্দে হাল ছাড়েনি। ১০৩ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে গড়া দ্রুত আক্রমণে সিডনি কাবরাল বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ম্যাক অ্যালিস্টারকে কাটিয়ে বাঁকানো শটে গোল করে আবারও সমতা ফেরান।
দ্বিতীয় অতিরিক্ত সময়ে আবারও আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ১১১ মিনিটে মেসির নেয়া কর্নার থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড বোর্জেসের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শেষ মুহূর্তের মরিয়া আক্রমণেও কেপ ভার্দে আর সমতা ফেরাতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তির উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা।
এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা মিশরীয় বাধা মোকাবিলা করবে। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে মিশরে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে তারা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে নতুন ইতিহাস লিখেছে আফ্রিকার দলটি, আর এবার সেই স্বপ্নযাত্রার সামনে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনা।