হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে ধারাবাহিক কঠোরতার মধ্যেও শিগগিরই কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভ্রমণ ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ ও ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের চলমান নীতিগত পুনর্মূল্যায়ন শেষের পথে রয়েছে। পর্যালোচনা সম্পন্ন হলে ইমিগ্র্যান্ট ভিসার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার বা আংশিক পরিবর্তন করা হতে পারে।
বাংলাদেশসহ প্রায় ৭৫টি দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং তা শেষ হলে পরবর্তী নীতিগত ঘোষণা আসতে পারে। ফলে যেকোনো সময় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার বা সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এর আগে জানিয়েছিল, ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই ও নীতিগত পর্যালোচনা চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য স্থায়ী বসবাসের ভিসা (গ্রিনকার্ড) ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এর ফলে পরিবারভিত্তিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির আবেদনকারীরা সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছেন। তবে পর্যটক, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনো পুনর্মূল্যায়ন শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দেশভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হতে পারে। এ সংক্রান্ত যেকোনো নতুন সিদ্ধান্ত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে জানানো হবে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কিছু শর্তসাপেক্ষ ছাড় দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে নাগরিকরা তাদের স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের আনার ক্ষেত্রে তুলনামূলক শিথিলতা পেতে পারেন। তবে বাবা-মা ও ভাইবোনদের স্পনসর করার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। আবেদনকারীকে নিশ্চিত করতে হতে পারে যে আগত সদস্যরা পাবলিক চার্জের সুবিধা গ্রহণ করবেন না; অন্যথায় নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া বিলম্বিত বা অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নির্ধারিত সাক্ষাৎকারগুলো সম্পন্ন হয়েছে, তবে এখনো কোনো ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে না। অনেক আবেদনকারীর পাসপোর্ট দূতাবাসে সংরক্ষিত রয়েছে, আবার অনেককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে সংশ্লিষ্টদের ডেকে ভিসা ইস্যু করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে “সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আলোর রেখা” হিসেবে দেখা যাচ্ছে এবং এখনো চূড়ান্তভাবে আশাভঙ্গের মতো কিছু ঘটেনি।
অন্যদিকে, ভিসা ছাড়া অবৈধভাবে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে প্রবেশকারীরা গ্রেপ্তার হলে তাৎক্ষণিক ডিপোর্টের নীতি কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে এসে আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নতুন নির্দেশনা প্রণয়ন করছে।
এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত কঠোর। অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে দালালের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়; গ্রেপ্তার হলে ডিপোর্টের পাশাপাশি জেল-জরিমানার আশঙ্কাও থাকে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিছু অঙ্গরাজ্যে অভিযান জোরদার হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে প্রকাশ্য অভিযান কিছুটা শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অবৈধ অভিবাসী, বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে আইসের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।