রাসেল আহমেদ, প্যারিস, ফ্রান্স প্রতিনিধি: প্রবাসীদের ভোটাধিকারের দাবিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদ, ফ্রান্স-এর উদ্যোগে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে অতীতের কোনো সরকারই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তরিক হয়নি। টানা ৫৪ বছর শুধু প্রতিশ্রুতির মুলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের ভোটাধিকার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবুল খায়ের লস্বর এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি ইমরান আহমদ। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, আইসা পরিচালক ওবায়দুল্লাহ কয়েছ, অনলাইন একটিভিস্ট মীর জাহান, ইউরো বার্তা সম্পাদক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম, বরিশাল কমিউনিটি সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম, এটিএন বাংলা রিপোর্টার রাবেয়া আক্তার সুবর্ণা, সাংবাদিক নেতা নয়ন মামুন, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইডনি মুসলিম উদ্দিন, প্যারিস বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনায়েত হুসেন সুহেল, সেক্রেটারি আব্দুল মালিক হিমু, কার্যনির্বাহী সদস্য ফারিয়া মাহবুবা আলম, বন্ধন পরিচালক শিউলি গিয়াস, পরিষদের ট্রেজারার আরিফুর রহমান, প্রবাসের আলো সম্পাদক ওমর ফারুকসহ কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা। এছাড়া ফরাসি ভাষায় বক্তব্য রাখেন শুভেচ্ছা শেখ এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন প্যারিস শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা।
বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদ-বিরোধী গণআন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সবসময় দেশের মানুষের পাশে থেকেছেন। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বন্ধ আন্দোলন দেশব্যাপী আন্দোলনে গতি দেয়। ফ্রান্সের প্লাস দো লা বাস্তিল, প্লাস দো লা নেশন এবং প্লাস দো লা রিপাবলিক-এ বাংলাদেশিদের বিশাল সমাবেশ হয়েছিল। এর মধ্যে প্লাস দো লা রিপাবলিক-এ প্রায় পাঁচ হাজার প্রবাসীর উপস্থিতি ইতিহাস হয়ে থাকবে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচনে যদি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করা হয় তবে আর কখনোই তা কার্যকর হবে না।
সমাবেশ শেষে বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদের সভাপতি আবুল খায়ের লস্বরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিত স্মারকলিপি পেশ করে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা জাতীয় সংকটে তারা সবসময় সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। কিন্তু তবুও তারা এখনও ভোটাধিকারের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রতিবেশী ভারত, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ বিদেশে বসবাসরত নাগরিকদের ভোটাধিকারের সুযোগ দিয়েছে। বাংলাদেশও এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর টাস্কফোর্স গঠন, দূতাবাসে উচ্চপদস্থ লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ এবং প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখেন না, তারা বাংলাদেশের দূত হিসেবেও কাজ করেন। তাই প্রায় এক কোটি পঞ্চাশ লাখ প্রবাসীকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে তারা দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের যাত্রায় প্রত্যক্ষ অবদান রাখতে পারবেন।