হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই একটি শিশু আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবে—এই কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য দম্পতি এখানে সন্তান জন্ম দিতে আসেন। তবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের বিধান বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।
বাবা-মা দুজনের অন্তত একজনের বৈধ কোনো স্ট্যাটাস না থাকলে—অর্থাৎ তাদের কেউ যদি সিটিজেন কিংবা গ্রিনকার্ডধারী না হন—তবে সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও সে নাগরিকত্ব লাভ করতে পারবে না। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে এটি কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে তা আপাতত আদালতে আটকে আছে।
ফলে এখনো বাংলাদেশিসহ অনেক বিদেশি মা-বাবা যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দিয়ে সন্তানকে আমেরিকান নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, অনাগরিকরা আমেরিকায় এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার ফলে দেশের নাগরিকদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপছে। (সূত্র: আইবিএননিউজ)
সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিলেও নাগরিকত্ব অনিশ্চিত—এই তথ্য জেনেও অনেক বাংলাদেশি দম্পতি সেখানে সন্তান জন্ম দিতে আগ্রহী। তাদের ধারণা, আদালতে বিষয়টি আটকে গেলে তারা সন্তানের নাগরিকত্ব লাভে সফল হবেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না। একজন দেশপ্রেমিক আমেরিকান বলেন, “ভিনদেশ থেকে এসে এখানে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়া অনুচিত। এতে দেশের প্রকৃত নাগরিকদের অধিকার খর্ব হয়।” তিনি আরও বলেন, “অনেকে হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর বিল পর্যন্ত পরিশোধ করেন না। চিকিৎসা শেষে বিল বাসায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে তারা সন্তানের সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেশে ফিরে যান। বিল তখন তাদের ঠিকানায় পাঠানো হলেও পাওয়া যায় না। ফলে তা বকেয়া থেকে যায়। ডেট কালেক্টরের কাছেও পাঠানো হলেও অর্থ আদায় করা সম্ভব হয় না, কারণ তারা তখন আর দেশে থাকেন না।”
তিনি আরও বলেন, “এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নিয়েছেন। এটি অনৈতিক। কোনো সৎ ও বিবেকবান ব্যক্তি এমন কাজ করা উচিত নয়।”
এ বিষয়ে একজন অ্যাটর্নি বলেন, “এই দেশে জন্ম নিলেই এখনো নিশ্চিতভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না। কেউ জন্ম নিলে, তখন সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বোঝা যাবে—সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ও পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে কি না, জন্মসনদে ‘আমেরিকান সিটিজেন’ লেখা হচ্ছে কি না। বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।”