হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: নিউইয়র্কের ব্রঙ্ক্সে বাংলাদেশি সাহিত্যপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো ছয় জন লেখকের নতুন ছয়টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা অনুষ্ঠান। গত রবিবার বিকেলে পার্কচেস্টারের বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা) পরিচালিত স্কুলে আয়োজিত এই সাহিত্য আড্ডা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ছয়টি বইয়ের রচয়িতা ও বিশিষ্ট আলোচকদের অংশগ্রহণে।
উন্মোচন করা ছয়টি বই হলো: সোনিয়া কাদিরের হিপহপ জনপদঃ ব্রঙ্ক্স ও অন্যান্য, আহবাব চৌধুরী খোকনের করোনা কালের ডায়েরি, মাসুম আহমেদের যাপিত জীবনের গপ, বেনজির শিকদারের দ্বিপ্রহরের দ্বিধা, সুমন শামসুদ্দিনের ইশারার মৌমাছিরা এবং ইমরান আলী টিপুর যে আলো শুধু অন্ধকারে জ্বলে।
বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন করেন সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা। আহবাব চৌধুরীর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মেরিল্যান্ড থেকে আগত কবি শিউল মনজুর। সোনিয়া কাদিরের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মোশাররফ হোসেন, মাসুম আহমেদের বইয়ের ফরিদা ইয়াসমিন, সুমন শামসুদ্দিনের বইয়ের শামস আল মমীন, বেনজির শিকদারের বইয়ের মনজুর আহমেদ এবং ইমরান আলী টিপুর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন কৌশিক আহমেদ।
মোড়ক উন্মোচনের পর লেখকেরা তাদের বই নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সোনিয়া কাদির বলেন, ‘আমার লেখার উদ্দেশ্য হলো আমার চিন্তা–ভাবনাকে নতুন প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া, যাতে আমি মানুষের মন থেকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে না যাই।’ আহবাব চৌধুরী জানান, ‘করোনাকালে ঘরে বন্দি অবস্থায় প্রতিদিন যা ঘটেছে তা লিখে রাখতাম, পরে তা বিভিন্ন পত্রিকায় পাঠাই। সেগুলোকেই গ্রন্থিত করেছি।’ মাসুম আহমেদ বলেন, ‘জীবনের ছোট ছোট ঘটনা আর অনুভূতিই আমার বইয়ের বিষয়বস্তু।’ কবি সুমন শামসুদ্দিন বলেন, ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না—এই স্লোগান আমার প্রিয়। বহুদিন কবিতা লিখলেও এখনো আমার কাব্যদিনের সূর্যোদয় হয়নি।’ বেনজির শিকদার বলেন, ‘লেখালেখিই আমার একমাত্র আনন্দ ও আশ্রয়।’ আর ইমরান আলী টিপু বলেন, ‘যা অন্য কোনোভাবে প্রকাশ করা যায় না, সেটি প্রকাশ করার জন্যই আমি কবিতা লিখি।’
এরপর ছয়টি বই নিয়ে আলোচনা করেন ছয়জন সাহিত্যবোদ্ধা। আহবাব চৌধুরীর করোনা কালের ডায়েরি সম্পর্কে কবি শিউল মনজুর বলেন, ‘এই বই পড়তে পড়তে চোখ ভিজে যাবে, লেখকের অনুভব পাঠককে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই দুঃসময়ে।’ মাসুম আহমেদের যাপিত জীবনের গপ সম্পর্কে আমিনুল হক চুন্নু বলেন, ‘এখানে প্রবাসীদের স্বপ্ন, বাস্তবতা ও সংগ্রামের প্রতিফলন আছে।’ সুমন শামসুদ্দিনের কাব্যগ্রন্থ ইশারার মৌমাছিরা সম্পর্কে এবিএম সালেহউদ্দিন বলেন, ‘এই কবিতাগুলোয় জীবন, মাটি ও দেশপ্রেম—সবকিছুর সুর আছে।’ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সোনিয়া কাদিরের বইটি নাগরিক জীবনের ঘাত–প্রতিঘাত, সংগ্রাম ও আত্মপ্রকাশের গল্প বলে।’ মনজুর আহমেদ বলেন, ‘বেনজির শিকদার তার কবিতায় দ্বিপ্রহরের দ্বিধার মধ্য দিয়ে আত্মজিজ্ঞাসার ছবি একেছেন।’ আর ইমরান আলী টিপুর কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন মিয়া মোহাম্মদ আশকির।
অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত তিনটি বাংলা পত্রিকার সম্পাদক—আবু তাহের (বাংলা পত্রিকা), ইব্রাহিম চৌধুরী (প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা) ও কৌশিক আহমেদ (সাপ্তাহিক বাঙালি) এবং কমিউনিটি লিডার সিরাজউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তারেক আহমেদ। পুরো আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)। অনুষ্ঠানের শেষভাগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাসুম আহমেদ সবাইকে ধন্যবাদ জানান।