প্রবাস মেলা ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে সিডনিতে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলাভাষী পত্রিকা সুপ্রভাত সিডনি-এর আয়োজনে রকডেলের স্টার ফাংশন সেন্টারে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র, শিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, অভিবাসন ও বহুসংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী এবং সংসদ নেতা টনি বার্ক এবং ইমিগ্রেশন বিষয়ক উপমন্ত্রী ম্যাট থিসলোয়েইট।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রকডেল মসজিদের ইমাম ড. শাহ ফয়জুল্লাহ কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অর্জন তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুপ্রভাত সিডনির প্রধান সম্পাদক আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামীম। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক জোরদারে কমিউনিটির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঢাকায় পুনরায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন স্থাপনের পিছনের ভূমিকার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সম্মাননা জানান কমিউনিটির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব শাহজাহান পাটোয়ারী, ইব্রাহিম খলিল মাসুদ, এ এন এম মাসুম, ইকবাল চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের পাশাপাশি সদ্য ঢাকা মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ-কেও অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ ড. ফজলে রাব্বি এবং সহ-উপস্থাপনায় ছিলেন প্রফেসর শফিকুর রহমান।
মন্ত্রী টনি বার্ক তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘমেয়াদি বন্ধু। রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের উদারতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। সুপ্রভাত সিডনি বহুসংস্কৃতিবাদী অস্ট্রেলিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’ উপমন্ত্রী ম্যাট থিসলোয়েইট বলেন, ‘বাংলাদেশি কমিউনিটি অস্ট্রেলিয়ায় শুধু জনসংখ্যায় নয়, অবদানে অন্যতম। অভিবাসন নীতি সংস্কারে তাঁদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে তরুণ কমিউনিটি প্রতিনিধি ফারদিন আলম প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে উল্লেখ ছিল: অভিভাবক ও ভাইবোন ভিসা সহজীকরণ, দীর্ঘমেয়াদি অননুমোদিত প্রবাসীদের বৈধতা প্রদান, সেন্টারলিংক সুবিধা, স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ওয়র্কিং হলিডে ভিসা পুনর্বহাল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রবাসীদের জন্য আলাদা সংসদীয় আসন, দূতাবাস সেবা ও জনবল বৃদ্ধি এবং অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের কাজে সম্পৃক্ত করার বিষয়। এই দাবিপত্রটি মন্ত্রী টনি বার্ক-এর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং একইসঙ্গে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান চৌধুরীর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছেও পাঠানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী, একাডেমিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, নারী সংগঠক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ, টনি বার্ক, ম্যাট থিসলোয়েইট এবং কমিউনিটির অবদান রাখা ব্যক্তিদের। বিশেষ ধন্যবাদ দেওয়া হয় আব্দুর রহমান খান এবং ডা. মইনুল ইসলাম-কে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রভাত সিডনির কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য ছিল নৈশভোজ। খাবারের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রন্ধনশিল্পী সেতু এবং স্টার বিরিয়ানির স্বত্বাধিকারী মনজুরুল আলম বুলু। হল ব্যবস্থাপনায় ছিলেন এ. এন. এম. মাসুম; অভ্যর্থনায় শারমিন, জাফরিন, মিথিলা, অনিক, নাসির আহমেদ ও বাচ্চু এবং সরাসরি সম্প্রচারে যুক্ত ছিলেন ওহিদ ইসলাম।