মোস্তফা ইমরান রাজু, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ার ক্লাং শহরের মেরু’র একটি বাজারে কাগজপত্রবিহীন অবৈধ অভিবাসি বিরোধী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দেশের ৬৩০ জনের কাগজপত্র যাঁচাই বাছাই শেষে ৫৯৮ জন’কে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ২ জন নারিও রয়েছে।
দেশটির অভিবাসন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (অপারেশনস) জাফরি এমবোক তাহা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজ (শনিবার) ভোররাতে সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে এসব অভিবাসীদের আটক করা হয়। অভিবাসন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে এসময় মেরুর পুরো বাজার এলাকা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ে এবং লোকজন এদিকে ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। অনেকে টেবিলের নিচে, ড্রেনে কিংবা গোপন স্থানে লুকিয়ে ছিলো তবে তাদের বেশিরভাগকে খুঁজে বের করে আটক করতে অভিবাসন বিভাগ সামর্থ হয়। আটককৃতদের অনেকেই ইউএন কার্ডধারি বলে দাবি করলেও তার বৈধতা পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আটকের পর শাহরিয়াল জিমিন ( ৪০ ) নামে এক বিদেশি বলেন, ইমিগ্রেশনের উপস্থিতি টের পেয়ে আমি পালাতে গিয়ে আহত হয়েছি। আসলে বৈধ কাগজ না থাকায় আমি পালাতে চেয়েছিলাম বলে মন্তব্য করেন তিনি। ২০০৪ সালে মালয়েশিয়ায় আসেন শাহরিয়াল তবে ২০০৬ এ অভিবাসন বিভাগ আটক করে তাকে দেশে পাঠান। এর পর ২০২২ সালে তিনি আবারো মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন তবে গেলো ২ বছর ধরে তার বৈধ কাগজপত্র নেই বলে জানান, এ অভিবাসী।
আটককৃতদের মধ্যে ৮৫ বাংলাদেশী ছাড়াও সবচে’ বেশি ৫৩০ জন মিয়ানমারের নাগরিক। বাকিরা ইন্দোনেশিয়া ( ৭ ) ভারত ( ৫ ) ও নেপালে’র ( ১) নাগরিক।
আরেক ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক মেরি মানু ( ৩৫ ) বলেন, মাছ কিনতে এই বাজারে এসে আটক হয়েছেন তিনি। তবে তার কাছে ইউএন কার্ড আছে যদিও তার মেয়াদ গেলো বছরের নভেম্বরে শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালে নৌকায় করে মালয়েশিয়ায় এসেছেন তিনি, এর পর থেকে পাইকারি বাজার থেকে মাছ কিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করেন।
এদিকে আটককৃতদের সিমিনি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তথ্য আরো যাঁচাই বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানান, অভিবাসন বিভাগ।