জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনন্য নেতা এবং আফ্রো-এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার নির্যাতিত জনগণের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৮ তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ১৭ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের আপটন পার্কের The Italian Pizza and Grill House রেস্টুরেন্টে একটি মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী ভাসানী সমর্থক ও অনুসারীরা এই সভার আয়োজন করেন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ভাসানী সমর্থক এবং ভক্তবৃন্দ। বক্তারা বলেন, মাওলানা ভাসানী ছিলেন একজন সত্যিকারের আদর্শিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ছিলেন সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের ধারক বাহক। তাঁর নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার অর্জনের জন্য প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। ভাসানী ছিলেন অত্যাচারী জমিদার, শাসক, এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অদম্য সাহসী নেতা, যিনি সহজেই জনমত তৈরি করতে পারতেন।
ভাসানী ছিলেন মানবতার মুখপাত্র এবং সকল ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল জাতীয়তাবাদ এবং বৈষম্যবিরোধী, যা তাঁকে গণমানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি আল্লাহর একজন ওলি ও সুফি সাধক ছিলেন এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য বহু সাধনা করেছিলেন, যা তাঁর যুগের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ছিল ব্যতিক্রম।
ভাসানী চিন সফর করেন এবং চিনের চেয়ারম্যান মাও সেতুং এর সঙ্গে সাক্ষাত করে বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করেন। মাও সেতুং তাঁকে একটি ট্রাক্টর উপহার দেন, যা ভাসানীর কৃষক-শ্রমিকের উন্নতির প্রতি গভীর আস্থা এবং দেশীয় প্রযুক্তির ওপর বিশ্বাসের প্রতীক ছিল।
১৯৫৭ সালে ভাসানী “কাগমারী সম্মেলন” আয়োজন করে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের আদলে মানুষের মৌলিক অধিকার অর্জনে সর্বদা সক্রিয় ছিলেন। ভাসানী বিশ্বাস করতেন, আমাদের দেশের জনগণ কেরোসিন তেল এবং লবণ ছাড়া সব কিছু নিজেই উৎপাদন করতে সক্ষম, এবং এজন্য তিনি কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন।
ভাসানী ছিলেন একজন দক্ষ তাত্ত্বিক এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর জীবন দর্শন এবং আদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে আলোচকবৃন্দ আলোচনা করেন।
এই আলোচনা সভায় মনোয়ার মোহাম্মদের “ভাসানী ও শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কুড়েঘর” গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সভার সঞ্চালক ছিলেন আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে মনোয়ার মোহাম্মদ এবং দোয়া পাঠ করেন সিমি নূর।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: অধ্যাপক শামসুল হুদা, কবি ও লেখক মজিবুল হক মনি, ভাসানী গবেষক সিমি নূর, আব্দুস সালাম, পল্টু আহাম্মেদ, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর সিকদার, শাম্মী হুদা, জুবায়ের হোসেন, সহিদ মাতব্বর প্রমুখ।
শেষে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।