প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ইউরোপে যেকোন দেশে যাবার পূর্বে ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে, আগামী পাঁচ বছরে দশ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
ইতালিতে কাজের জন্য ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রত্যাসী অভিবাসী কর্মীরা দীর্ঘ প্রায় ৬/৭ মাস অপেক্ষার পরও অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ায় নানাবিধ ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট চালুর মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটনাতে ইতালী ও বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনাসহ ও ইউরোপের যেকোন দেশে যাবার পূর্বে ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের উপর জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবী জানিয়েছে, বাংলাদেশ মাইগ্রেশন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (বিএমডিএফ), ইতাল-বাংলা সমন্বয় উন্নয়ন সমিতি এবং বাংলাদেশের প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি।
বাংলাদেশ মাইগ্রেশন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (বিএমডিএফ), ইতাল-বাংলা সমন্বয় উন্নয়ন সমিতি ও বাংলাদেশের প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে, ইতাল-বাংলা সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান বলেন, বর্তমানে ঢাকায় ইতালিয়ান দূতাবাসের চলমান ভিসা সংকট শুধুমাত্র জনবল সংকটের কারণে ইতালিয়ান দূতাবাস তাদের স্বাভাবিক সক্ষমতা বছরে ১৫ থেকে ২০ হাজার ভিসা প্রসেসিং করতে পারেন। সেখানে একসাথে এক লাখের উপরে ওয়ার্ক পারমিট বাংলাদেশে আসার কারণে বিশাল পরিমাণে ভিসা আবেদন জমা হয়েছে। দূতাবাসের জনবল সংকটের কারণে ভিসা প্রসেসিং ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ইউরোপে এক কোটি শ্রমিক ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে ইতিমধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বিশেষ করে ইতালি ও জার্মান সরকার বাংলাদেশ হতে শ্রমশক্তি আমদানি করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে এখানে একটি সমস্যা বিরাজ করছে সেটা হচ্ছে, আমাদের বাংলাদেশ থেকে যারা ইউরোপে যাচ্ছেন তারা নিজেদেরকে সঠিকভাবে প্রস্তুত না করেই সেখানে যাচ্ছেন, যার ফলে সেই শ্রম বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যেখানে এক কোটি লোকের ঘাটতি অন্যদিকে প্রয়োজনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ দক্ষতা ও ভাষা জানা শ্রমিকের অভাব থাকার কারণে ইউরোপের এই বাজারটিকে আমরা পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছি।
এই বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সাথে একযোগে কাজ করার জন্য ইতিমধ্যেই কর্মসূচিতে হাত দিয়েছি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)র সাথে ট্রেনিং সেন্টার সমূহে ইতালিয়ান ভাষা ও ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে শ্রমিকদের প্রস্তুত করার কার্যক্রমের জন্য প্রস্তাব জানিয়েছি। আমরা আশা করি, আমাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ১০ লক্ষ বাংলাদেশের কর্মীকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করতে সক্ষম হব। ইতিমধ্যে বাংলা ড্রিম প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা একটি পরীক্ষামূলক পাইলট প্রজেক্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এখানে আমরা বাংলার ড্রিম প্রজেক্ট এর মাধ্যমে ১০ জন কর্মী দক্ষ ও ইতালিয়ান ভাষা শিখেছেন। এমন কর্মীদের জন্য অল্প সময়ে ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলা ড্রিমের কর্মীগণ আগামী সপ্তাহে ইতালিতে তার কর্মস্থানে যোগদান করবেন। আমরা আশা করি আমাদের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের জন্য ইউরোপের বাজারে ব্যাপক কর্মসংস্থান করতে সক্ষম হব।
বাংলাদেশ মাইগ্রেশন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (বিএমডিএফ) এর সভাপতি, জনাব খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, ভুক্তভোগীদের সাথে ভিএফএস গ্লোবাল কর্মী/অফিসারদের অসৌজন্যতা মূলক অচরন ও সকল ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়া পর্যন্ত ব্যাকলগে থাকা ইমেল চেকিং ও ট্রেকিং এর মাধ্যমে সর্বশেষ অবস্থা জানার সুযোগ দিতে হবে।
বাংলাদেশ মাইগ্রেশন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (বিএমডিএফ) এর সাধারন সম্পাদক, সামসুন নাহার আজিজ লীনা বলেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে যে কোন ধরনের বানিজ্য, দালালের দৌরাত্ব, প্রতারকদের হয়রানি সহ সকল হয়রানির পথ বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ মাইগ্রেশন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (বিএমডিএফ) এর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, ল্যাঙ্গুয়েজ, ভোকেশনাল ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম অধিকতর জনপ্রিয় করতে এবং প্রশিক্ষণার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সরকারী ও বেসরকারী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহকে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএমডিএফ ও ইতালবাংলা সদস্যবৃদ মোহাম্মদ আলী, শাহ আবিউর রহমান, মাসুদ পারভেজ, রাজী, আনোয়ার হোসেন পান্না, আমিনুল ইসলাম সহ শতাধিক ইতালীতে কাজের জন্য ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রত্যাসী অভিবাসীকর্মীগণ।