প্রবাস মেলা ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পার্লামেন্ট নির্বাচনে দাপট দেখাচ্ছে ভিবাসনবিরোধিতাসহ নানা কর্মকাণ্ডে সমালোচিত ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। এদিকে আশানুরূপ ফল পায়নি মহাদেশটির মধ্যপন্থী, সোশ্যাল, ধর্মভিত্তিক ক্রিশ্চিয়ান দল, গ্রিন পার্টি কিংবা বাম দলগুলো। খবর বিবিসির।
ইউরোপজুড়ে হয়ে গেল ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচন। এতে মোট আসন ৭২০টি। বুথ ফেরত জরিপে দেখা গেছে বেশিরভাগ আসনে ইউরোপের প্রায় সবগুলো দেশেই কট্টর রক্ষণশীল এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় বদলে যেতে পারে গোটা ইউরোপের ভৌগোলিক রাজনীতি।এতে করে অভিবাসনবিরোধী শক্তি আরও প্রকট রূপ ধারণ করবে।
চলতি মাসের ৬ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত ফিনল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, সুইডেন, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, ডেনমার্কসহ ইউরোপের ২৭ দেশে হয়ে গেল ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচন। এবারের ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে দাপট দেখাচ্ছে অভিবাসনবিরোধিতাসহ নানা কর্মকাণ্ডে সমালোচিত ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ৭২০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্ষমতাসীন দলগুলোর মধ্যে ইপিপি ১৮৬ আসন, সোশ্যাল পার্টি এসএন্ডডি ১৩৩ ও বামদল ৩৬ আসন, রিনিউ ইউরোপ ৮২, গ্রিন পার্টি ৫৩ আসনের বিপরীতে ইইউ ইউনিয়নের সমালোচক দলগুলোর মোট আসন সংখ্যা ২৩০।
এবারের নির্বাচনে ইতালিতে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী জর্জিও মেলোনির ফ্রাটেলি ডে ইটালিয়ার দলের ফলাফলও ছিল সন্তোষজনক। দেশটি থেকে ৭৬ জন প্রতিনিধি ইইউ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করবেন। বাকি সদস্যরা ইউরোপের অন্য ২৭ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। অন্যদিকে ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে হতাশ জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজের নেতৃত্বে জার্মানির জোট সরকার। দেশটির বিরোধীদল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সিডিইউ ও সিএসইউ ৩০ শতাংশ ভোট পেলেও শলজের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এসপিডি পেয়েছে মাত্র ১৪ শতাংশ।
অন্যদিকে বরাবরের মতো চমক দেখিয়েছে ভাইডোলের কট্টর ডানপন্থি দল আল্টারনেটিভ ফর ডয়েচলান্ড। নির্বাচনে তাদের ঝুলিতে পড়েছে ১৬ শতাংশ ভোট। সব মিলিয়ে জার্মানি থেকে ইইউ পার্লামেন্টে প্রতিনিধি সংখ্যা হবে ৯৬ জন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, মাল্টা ও জার্মানিতে ১৬ বছর ও গ্রিসে ১৭ বছরের যেকোনো নাগরিক এবারের ইইউ পার্লামেন্টের নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পায়। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশেই রক্ষণশীল কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান নিরাপত্তা, জলবায়ু ও অভিবাসনের মতো নীতিগত বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।