সৈয়দ এম.হোসেন বাবু, লস এঞ্জেলস্, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: নিয়মিত খেলাধুলা শরীর ও মনকে প্রফুল্ল রাখে। নৈতিক মূল্যবোধ অবক্ষয় থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় খেলাধুলার বিকল্প নেই। কারণ খেলাধুলার মাধ্যমে পরষ্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মৈত্রীর বন্ধন গড়ে উঠে। এতে করে যুব সমাজের মধ্যে নতুন নতুন কাজের উদ্যেম সৃষ্টি হয়। যে যতবেশী শারীরিক পরিশ্রম করে, সে ততবেশী নিজেকে সতেজ অনুভব করে। অন্যদিকে, সুখ—কোথায়? মনোবিজ্ঞান বলে, উৎফুল্ল জীবনই আপনি কতটা সুখী অনেকটা তাই প্রকাশ করে। সুখী হতে চাইলে উৎফুল্ল মনন আর শরীর তৈরি করুন, মানুষের নিয়মিত অভ্যাস আর জীবনধারার ওপর নির্ভর করে আপনার উৎফুল্ল মননের শক্তি, এই শক্তিই আসলে মানুষের সুখ! তেমনি কথায় আছে আজকের যুবকরাই আগামী দিন রাষ্ট্র পরিচালনা করবে৷ তাই যুবকদের মাদক, দুর্নীতিমুক্ত আদর্শবান মানুষ হতে হবে৷ এর জন্য আমাদের যুবকদের দরকার নিয়মিত খেলাধুলা করা৷ কারণ খেলাধুলাই পারে যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে৷ খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা মানসিক বিকাশ ঘটায়, ভাতৃত্ববোধের সৃষ্টি করে এবং মানবিক আচার-আচরণের অনুশীলন ঘটায়। খেলাধুলা মানবজীবনে আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক। খেলাধুলা ও বিনোদনের উত্তম মাধ্যম।
প্রতিযোগীতামূলক বিশ্বে দিনে দিনে মানুষ যান্ত্রিক মানবে পরিণত হচ্ছে। ব্যস্ততা মানবজীবনকে এমনভাবে ঘিরেছে যেন দম ফেলার সামান্যতম ফুসরৎ নাই। কর্মঘন্টার কোন এক ফাঁকে একটু বিশ্রাম নিতে গেলেই যেন চলমান প্রতিযোগীতা থেকে মানুষ অনেক পিছিয়ে পড়ছে। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মানুষ মুক্ত জীবনে ফিরে যেতে পারছে না। তবুও মানুষ মূহুর্তের জন্য হলেও একটু বিশ্রাম খোঁজে। মানব দেহ তো আর যন্ত্র না যে সেটা মেশিনের মত অনবরত কাজ করতে পারবে। কাজ করতে করতে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের দেহ-মন অবসাদে আক্রান্ত হয়। শুধু পেটপুরে খেয়েই তো আর সুস্থ থাকা যায়না। দেহ-মনকে সুস্থ রাখার জন্য আনুষঙ্গীক আরও অনেক কিছুই দরকার। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাদ্য গ্রহণ আবশ্যক তেমনি মনকে প্রফুল্ল রাখার জন্য প্রয়োজন চিত্তবিনোদনের। মনের সুস্থতা ছাড়া মানুষ স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারে না। মন সুস্থ থাকলে দেহ এমনিতেই সুস্থ থাকে।

কর্মক্ষম থাকার জন্য মনটাকে সতেজ রাখা জরুরী। মনকে সতেজ রাখতে অনেকগুলো শর্ত পূরণ করতে হয়। খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদন মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখতে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। ক্যালিফোর্নিয়ার মোরেনো ভ্যালির শহরে বসবাসরত আল মাসুক, শামীম আহমেদ দেলোয়ার হোসেন, পলাশ রহমান, ফজলুল হক সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত মোরেনো ভ্যালির স্পোর্টস ক্লাব (MVSC)। প্রতি বছরের ন্যায় ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, রবিবার লেক প্যারিসে আয়োজন করে দাবা ও লুডু এবং বাচ্চাদের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বনভোজন। ১০০ ডিগ্রি তাপের মাঝেও লস এঞ্জেলেস ও তার পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশীর অনেকে একত্রিত হয়ে একটি ক্ষুদ্র বাংলাদেশ এর বাঙালিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়ে উঠে।

প্রচন্ড গরমে একটু স্বস্তি নিঃশ্বাস মিলে যেন লেক প্যারিসের লেকের পাড়ে। দাবা প্রতিযোগিতায় পারভেজ আহম্মেদ দাবা কিং মুকুট অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন শহীদ রহমান এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন অধিকারী মুন্না। লুডু কুউন এর মুকুট বিজয়ী হন এমা জামান। লাইভ টাইম এচিভম্যান্ট ক্রেষ্ট মোরেনো ভ্যালির স্পোর্টস ক্লাব (MVSC) পক্ষে প্রধান অতিথি মোরেনোভ্যালি সিটি মেয়র ইউনিসেফ ক্যাব্রেরা বাংলাদেশী জাতীয় ক্রীড়াবিদ এশিয়ান পদক বিজয়ী সৈয়দ এম হোসেন বাবু কে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব দাউদ বাফাটিয়া, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ লস এঞ্জেলেস বালা ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সৈয়দ এম হোসেন বাবু, বালা’র প্রাক্তন সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ক্যালিফোর্নিয়া শাখার বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান নিরু ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট শাখার নির্বাচিত সভাপতি শহিদ আহম্মেদ মিঠু,মাকসুদা ইয়াসমিন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাউলা বাবুল, কামরুল হাসান, মেহেদী সেলিম বিজয়ীর হাতে মোরেনো ভ্যালির মেয়রকে নিয়ে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠান সহযোগিতায় ছিলেন তামান্না, বুলবুল, চন্দ্রা, সিনথিয়া, সুমাইয়া এবং শিল্পী।