প্রবাস মেলা ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের পড়তি অবস্থা রুখতে উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের পক্ষ থেকে সৌদি আরব একা এই ভার বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আল জাজিরা এবং ব্লুমবার্গের পৃথক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সৌদি আরব একা বর্তমান উৎপাদনের চেয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল কম উৎপাদন করবে। রোববার (৪ জুন) দেশটির কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে। আগামী জুলাই থেকে তেল উৎপাদন কমানোর বিষয়টি কার্যকর হবে।
বিশ্ববাজারে রাশিয়ার কম মূল্যের জ্বালানি তেলের কারণে জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক এবং ওপেক প্লাস চেষ্টা করেও বিশ্ববাজারে তেলের দামের স্থিতাবস্থা ধরে রাখতে পারছিল না। এর আগে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি তেলের উৎপাদন কমানোর জন্য দুই দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।
অবশেষে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ওপেক প্লাসের সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীদের দীর্ঘ সাত ঘণ্টার বৈঠক শেষে সৌদি আরব এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সৌদি একাই নয় জোটগতভাবে মোট ১৪ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানো হবে। যেখানে সৌদি আরব একা ১০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমাবে এবং ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ সৌদিসহ বাকী সদস্যরা মিলে প্রতিদিন মোট ১৪ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমাবে।
তেলের উৎপাদন কমানোর বিষয়ে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী আব্দুলআজিজ বিন সালমান বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তির দিন, কারণ এই চুক্তির যে গুণগত মান তা অসাধারণ নজিরবিহীন।’ তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের উৎপাদন কমানোর এই সিদ্ধান্ত অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং ন্যায্য।’
উল্লেখ্য, ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের অশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এককভাবে উৎপাদন করে থাকে। এর ফলে সহজ হিসাব বলছে, সৌদি আরবের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত তেলের দামের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।