প্রবাস মেলা ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানকে আগামী ১৭ মে পর্যন্ত কোনো মামলায় গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। ১২ মে ২০২৩, শুক্রবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পিটিআই চেয়ারম্যানকে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ২ সপ্তাহের জামিনের নির্দেশে এ কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারপতি মিয়ানগুল হাসান আওরঙ্গজেব ও বিচারপতি সামান রাফাত ইমতিয়াজের ডিভিশন বেঞ্চ ইমরান খানের জামিন আবেদনের শুনানি করেন। ইমরানের আইনজীবীরা আরও ৪টি আবেদন দায়ের করেছেন। ওই আবেদনে ইমরানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলার বিশদ বিবরণ সরবরাহে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার রাতে পুলিশি পাহারায় ইসলামাবাদ হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ ছেড়ে লাহোরে নিজ বাসভবন জামান পার্কের দিকে রওনা হন পিটিআই নেতা। ১১ ঘণ্টার নাটকীয়তার পর আদালত চত্ত্বর ত্যাগ করেন তিনি। এ সময় ইসলামাবাদ পুলিশের মহাপরিদর্শক তাকে জোরপূর্বক আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে গাড়িতে বসে এক ভিডিও বার্তায় জানান ইমরান খান। নিজ বাসভবনে পৌঁছার পর তাকে স্বাগত জানান পিটিআই সমর্থকরা। ইমরানের বাড়ির সামনে আনন্দ-উল্লাস করেন তারা।
এ সময় এক সমর্থক বলেন, আমাদের নেতা দুই সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন, তার জীবন রক্ষা পেয়েছে। আমি এত খুশি যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এর আগে শুক্রবার বিকেলে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেলেও ইমরান খান আদালতে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জামিনের লিখিত নির্দেশ দাবি করেন। পিটিআই নেতার আশঙ্কা ছিল, হাইকোর্ট থেকে বের হলে আবারও তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এদিন সকালে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় শুনানির জন্য ইসলামাবাদ আদালতে পৌঁছান পিটিআই প্রধান।
রাজধানী ইসলামাবাদজুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী। পরে জামিন আবেদন করেন ইমরান খান। শুনানি শেষে দুই সদস্যের ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। এতে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় দুই সপ্তাহের জামিন পান সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি হাইকোর্টের সামনে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন তাকে গ্রেফতার নয় বরং অপহরণ করা হয়েছিল।
ইমরান বলেন, আমি হাইকোর্টের ভেতর ছিলাম। আমাকে গ্রেফতারের কোন বৈধ কাগজ ছিলো না তাদের কাছে। জেলখানায় প্রথম গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখানো হয় আমাকে। সেনাবাহিনী আমাকে অপহরণ করেছিল, পুলিশ কোথায় ছিল। মনে হচ্ছে সামরিক আইন চলছে দেশে।