জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়, কোলকাতা, ভারত প্রতিনিধিঃ আমরা অনেক রিয়েলিটি শো দেখেছি টেলিভিশনের পর্দায়, কিন্তু বাচিক শিল্প নিয়ে সেরকম কিছুই দেখা যায় নি। সেই না দেখাকে বাস্তব করে দেখালো বাচনিক ইউটিউব। সম্প্রতি কোলকাতার শিশির মঞ্চে সম্পন্ন হলো বাচিক Idol Reality Show বাচিক আইডল জুনিয়র ২০২১ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল। বাচনিক ইউটিউব তাদের ইউটিউব চ্যানেলে শুধুমাত্র বাচিক শিল্পীদের নিয়েই ভিডিও পাবলিশ করে থাকে। করোনার আবহাওয়ায় যখন সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায় তখন বাচনিক ইউটিউব তাদের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বাচিক শিল্পীদের এক নতুন প্রাণ এনে দিয়েছিল। সেই সময় বাচ্চাদের কোনরকম এন্টারটেইনমেন্টের জন্য তারা নিয়ে আসে এক অভিনব বাচিক প্রতিযোগিতা।

বাচিক আইডল জুনিয়র ২০২১ শুরু হয় অক্টোবর ২০২১-তে। সম্পূর্ণ ভাবে অনলাইন এক প্রতিযোগিতা। ১৬ বছরের নিচে বাচ্চাদের নিয়ে শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। প্রাথমিক ভাবে ৬টি রাউন্ড থেকে ৮ জন কে বাছাই করে শুরু হয় একের বিরুদ্ধে একের লড়াই। প্রায় ১৫০ জন, ৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে থেকে এই ৮ জন কে বেছে নেওয়া বেশ কঠিন কাজ ছিল। এই কাজটি বিচারক মন্ডলী বেশ সূচারুভাবেই সম্পন্ন করেন।
বিচারকদের মধ্যে ছিলেন, সঞ্চিতা কবিরাজ, মোনালিসা শীল, জয়িতা সেন চট্টোপাধ্যায়, মিঠু ঘোষ এবং সুবীর ভট্টাচার্য। গত ১৬ই এপ্রিল ২০২৩ শিশির মঞ্চে দুজন ফাইনালিস্টের তুমুল লড়াই দেখা গেল। বিশিষ্ট বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় এবং কবি রিনা গিরি। তন্নিষ্ঠা দাস, না ঈশানী গোস্বামী কে হবে এবারের বাচিক আইডল, তা নিয়ে বিচারকদের মধ্যেও যথেষ্ট উত্তেজনা ছিল।

অবশেষে বিচারকরা তন্নিষ্ঠা দাস কে বাচিক আইডল ঘোষণা করেন। তন্নিষ্ঠা বাচিক আইডল হিসাবে ১৫০০০ টাকা নগদ পুরস্কার পায়। দ্বিতীয় স্থানাধিকারি ইশানী ৭.০০০ টাকা নগদ পুরস্কার এবং যুগ্ম তৃতীয় স্থানাধিকারি প্রত্যেকে ২০০০ টাকা পায়। এছাড়া ১১ জন প্রতিযোগীকে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ সকল প্রতিযোগী কে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। বাচনিক ইউটিউবের কর্নধার জয়দীপ রায়ের কাছ থেকে জানা যায়, প্রাথমিক ভাবে স্পনসর পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে তারা বিমুখ হন। বাচনিক ইউটিউবের সমস্ত সদস্যরা নিজেদের প্রয়াসে এই বিশাল কর্মকান্ড সফল করে তুলেছেন। এখানে সমস্ত কর্মকাণ্ডের দুজনের নাম না বলা হলে সঠিক হবে না। দুই সঞ্চালক ডোনা জানা এবং মঞ্জরী রায়। এই দুজনের সর্বার্থ প্রচেষ্টায় সকল অনলাইন অনুষ্ঠানগুলি সুসম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে মঞ্জরী রায়ের সুদূর মুম্বাই থেকে উড়ে এসে গ্র্যান্ড ফাইনাল পরিচালনা করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।