প্রবাস মেলা ডেস্ক: ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, বৃহস্পতিবার বুধবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন পাক্ষিক ‘প্রবাস মেলা’ অফিসে সম্মানিত অতিথি ছিলেন গুণী অভিনেত্রী দিলারা জামান। এসময় তার অভিনয় জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন ‘প্রবাস মেলা’র কলাকুশলীরা। আলোচনায় উঠে আসে তার অভিনয় জীবনের কথা, শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে তার ভাবনার কথা। আলাপচারিতার এক ফাঁকে তার হাতে ‘প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজু ও অনলাইন রিপোর্টার আশরাফুল আলম মাসুদ।

উল্লেখ্য, দিলারা জামানের জন্ম ১৯৪২ সালে তৎকালীন বৃটিশভারতের বর্ধমান জেলায়। তার বাবা রফিক উদ্দিন আহমেদ তৎকালীন আহসান উল্যাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বৃটিশ সরকারের অধীনে চাকরি নিয়ে বর্ধমান চলে যান। তার শৈশবের কয়েক বছর সেখানে কেটেছে। তারপর তার বাবার বদলির সুবাদে তারা ১৯৪৭ সালে চলে আসেন তৎকালীন পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) যশোর জেলায়। সেখানেই তার শৈশব কৈশোরের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে।
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দিলারা জামানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় যশোর থেকে। সেখানকার মোমেনগার্ডেন স্কুল থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৫২ সালে তার বাবার ঢাকায় পোস্টিং হলে তারা ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫৩ সালে তিনি বাংলা বাজার গার্লস স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৫৮ সালে মেট্রিক (এসএসসি) পাশ করে ইডেন কলেজে ভর্তি হন। তিনি ইডেন কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ইন্টারমেডিয়েট (এইচএসসি) এবং ১৯৬২ সালে ইডেন কলেজ থেকে বিএ পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে এমএ তে ভর্তি হন।
দিলারা জামান অসংখ্য টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৬৬ সালে ত্রিধরা নাটক দিয়ে তার অভিনয়ের শুরু হয়। তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক সকাল সন্ধ্যা। নাটকের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি। সর্বশেষ তিনি শ্যাম বেনেগাল এর পরিচালনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বায়োপিক ‘মুজিব’ চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন।
দিলারা জামান ১৯৯৩ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০১০ সালে চন্দ্রগ্রহণ চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালে মহাসত্ত্ব নাটকে একক নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হন।