প্রবাস মেলা ডেস্ক: ছেলের অপেক্ষায় মা। দৃঢ়বিশ্বাস ছেলে তার ঘরে ফিরবেই। আর এমন বিশ্বাসেই দিনের পর দিন তিন বেলাই হাঁড়িতে ভাত বসাতেন ছেলের জন্য। এমনকি রাতে দরজা খোলা রেখেই রাত পার করতেন মা। কারণ, দরজা বন্ধ পেয়ে যদি ছেলে ফিরে যায়। তবে রাত শেষ হলেও মায়ের অপেক্ষার পালা যেন শেষ হওয়ার নয়। মুক্তিযুদ্ধের এমনই অবিচ্ছিন্ন সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওমর ফারুকের মা’।
১৭ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবার ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছে। ছবিটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক জাহিদুর রহমান বিপ্লব। ছবিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরটিভি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার এই কাজটিতে বাংলা ভাষার যথোপোযুক্ত ব্যবহার, আমাদের দেশের মানুষের যাপিত জীবন চিত্র তুলে ধরেছি। এক টুকরো পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ দৃশ্যমান। কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থেকেই আমার নিজের কিছু স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সিনেমা তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরতেই আমার এই প্রচেষ্টা।
নির্মাতা আরও বলেন, ছবিটির গল্পের বিশেষত্বের কারণেই মূলত এটি ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার শোতে গেছে। ‘ওমর ফারুকের মা’ চলচ্চিত্রের নির্মাণ ও প্রদর্শনী স্মরণ করিয়ে দেয় বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন মুক্তিযুদ্ধকে। যে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের মহত্তম অধ্যায়। এর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের বিজয় ও স্বাধীনতা।
জাহিদুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সার্বিক বাস্তবায়নের জন্য বেসামরিক লড়াইটা অব্যাহত রাখাটা মুক্তিযুদ্ধকে আরও সফলতার দিকে নিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের সুফলটা তখন বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাবে। সেইসঙ্গে দেশপ্রেমের চেতনাবোধ জাগ্রত রাখতে ‘ওমর ফারুকের মা’-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো আমাদের শিক্ষাক্রমে, বিশেষ করে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন নির্মাতা। আত্মপচিরয় তুলে ধরতে তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘ওমর ফারুকের মা’ চলচ্চিত্রটিকে নিয়ে যাওয়াটাই এখন মূল উদ্দেশ্য।
‘ওমর ফারুকের মা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে অভিনেত্রী দিলারা জামান বলেন, ‘আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ এটি, এরকম একটি কাজ না করতে পারলে আমার আফসোস থেকে যেত।’
প্রসঙ্গত, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সকারের অনুদানে নির্মিত হয়েছে ‘ওমর ফারুকের মা’। ছবির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান। এছাড়া এতে আরও অভিনয় করেছেন খাইরুল আলম সবুজ, সালমা রহমান, বন্যা মির্জা, সাহেদ শরীফ খান, প্রণব ঘোষ, নাজনীন হাসান চুমকি, আইনুন পুতুল, এবিএম মোতাহারুল ইসলাম, রিপন চৌধুরী, কাজী রাজু, সৈয়দ শুভ্র, মুকুল সিরাজ, রোশেন শরিফ ও তুহিন আহমেদ প্রমুখ।