সৈয়দ আশরাফুল হক সুমন:
আমি এখন প্রতিদিন দেখি শালিক চড়ুই এর বিবাদ।
ফিঙ্গে, দোয়েল পেছন থেকে উস্কানি দিয়ে বাড়িয়ে দেয় বিবাদ।
শালিক যতই বলে তোর দোষ, তোর দোষ।
চড়ুই ততই বলে না না না না।
অগত্যা কি আর করা, সন্ধ্যা নামার আগেই বকের নেতৃত্বে বসে শালিস।
দুই পক্ষের মধ্যস্থল, কেটে রাখা পাকা ধানের উপরই বসে বিচারকার্য।
কানি বকটা ধানক্ষেতে বসে শেষ বিকেলের রোদ একটু গায়ে মেখে ফর্সা শরীরে ঘরে ফিরবে,
তা না, বাচ্চা চড়ুইটা বিচারের যন্ত্রণা একদিনও ঠিকমতো হতে দেয় না।
বিরক্ত মনে কানি যাওয়ার সময় যেভাবে সঙ্গী বকটার দিকে তাকালো, তাতে বকের চোখ মুখ আর বিচারে থাকে কি করে!
কোন রকম বিচার শেষ করে উঠতে পারলেই আজ বেঁচে যায়।
কানিবককে নিয়ে বকের ভয় যখন চরমে, ঠিক তখনি কোথা থেকে একপাল কাক এসে চিৎকার করে বলতে থাকল- যা যা যা। যা যা।
বুদ্ধিমান বক মাথা উঁচু এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে সর্বনাশ।
বকটা মনে মনে খুশিই হলো। ভালোই হল। জলদি বাড়ি গিয়ে কানিটার অভিমান ভাঙ্গাই।
একটু সময় নেয়া যেত। কাছে এসে পড়লে কাক, ভাই বাচ্চাদের লাথিতে সরিয়ে দিতে।
এখনো দূরে বিধায় সতর্ক করছে।
কিন্তু বক বুদ্ধিকরে চড়ুই শালিককে ধমক দিয়ে বলল, পালা পালা পালা।
চড়ুই শালিকও লাফিয়ে দেখলো ধানক্ষেতের মালিক লাঠি হাতে এদিকেই আসছে।
কি করবে? যেই না ভাবছে, তখনি সাদা বক কালো কাক ধমকে উঠল মিলে যা মিলে যা।
চড়ুই তাকায় শালিকের দিকে শালিক মাথা নেড়ে সম্মতি দিতেই,
চড়ুই মনের সুখে উড়তে উড়তে ডাকে আয় আয় আয় আয়।
দোয়েলও সকলকে নিয়ে ধানক্ষেত ওয়ালার মাথার উপর মনের সুখে ঘুরে বেড়ায় আর গেয়ে চলে- আমরা আমরাই, আমরা আমরাই, আমরা আমরাই।
পাখিরা সবই পারে মানুষ যদি পারত!