প্রবাস মেলা ডেস্ক: বীর মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিণীর বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়েছেন। সম্প্রতি তিনি দেশে এসে এক বিকেলে এসেছিলেন প্রবাস মেলা কার্যালয়ে। চা-চক্রে অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের রোমাঞ্চকর গল্পের পাশাপাশি তার প্রবাস জীবনের নানা গল্প শুনিয়েছেন। আলাপচারিতার এক ফাঁকে তার হাতে প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজু।
উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় কাটির হাট উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও নাজিরহাট ডিগ্রি কলেজ থেকে এইসএসসি পাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও এমএ ডিগ্রি নেন।
এক প্রশ্নের জবাবে কৃতি এই প্রবাসী জানান, আমি দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অনেকের মত আমিও পাক হানাদারদেও বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর ইতিহাসের সেরা হত্যাযজ্ঞ চালায় যাতে হাজার হাজার নিরীহ নারী, পুরুষ, শিশু প্রাণ হারায়। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ভারতে গমন করি, শুরুতে ত্রিপুরা রাজ্যের হরিনা ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থান পরে অম্পি নগরের ট্রেনিং সেন্টারে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে জুলাই মাসে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। এরপর ১ নং সেক্টরের অধীনে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাওজান ও চট্টগ্রাম মহানগরের বেশ কিছু এলাকায় পাক হানাদারদের বিরেুদ্ধে যুদ্ধে লড়াই করি।

এরপর ৯০ এর মাঝামাঝিতে মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া ভিজিট ভিসায় আমেরিকায় চলে যান। সেখানে তিনি নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব এডুকেশন (New York City Board of Education) এর অধীনে সাবস্টিটিউট টিচার (Substitute Teacher) হিসেবে কিছুদিন কাজ করে। তারপর নিউইয়র্ক সিটি গভর্ণমেন্ট এর অধীনে ৭ বছর Case Manager হিসেবে কাজ করেন। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে ইমিগ্রেশন নিয়ে স্থায়ীভাবে কানাডায় চলে যান তিনি। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ৯৭ সালে কানাডায় প্রফেশনাল ও দক্ষ লোক নেয়ার জন্য বিজ্ঞাপন দেখে আমি এপ্লিকেশন করে সেদেশের পারমানেন্ট রেসিডেন্ট এর অনুমোদন পেয়ে ৯৮’র ফেব্রুয়ারি মাসে কানাডায় চলে যাই। সেখানে আমি কানাডার নাম্বার ওয়ান কোম্পানি (Rogers Communication) এ Sales Consultant পদে এখনও কাজ করছি। এই কোম্পানিতে পুরো কানাডাতে আমি সেল্স কনসালটেন্ট হিসেবে প্রথম হয়েছি। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এটা নিয়ে আমি গর্ব করি।
জীবনের এই পর্যায়ে এসে পেশাগত, প্রবাসে বাংলাাদেশ কমিউনিটি, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকার ফলে অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া। ২০১০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল এর পক্ষ থেকে স্পীকার ক্রিস্টিন সি কুইন কর্তৃক উত্তর আমেরিকান কমিউনিটিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাকে প্রক্লেমেশন প্রদান করা হয়।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা এর আজীবন সদস্য, এছাড়া কাটির হাট মহিলা ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম এর প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ডেমোক্রেটিক এসোসিয়েশন নিউইয়র্ক এর সহ-সভাপতি, বাংলাদেশি আমেরিকান পাবলিক এ্যাফেয়ার্স ফ্রন্ট নিউইয়র্ক এর সহ-সভাপতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কানাডা শাখার সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ এবং কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা চট্টগ্রাম এর আজীবন সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ জেলা, উপজেলার নানা পর্যায়ে বিভিন্ন পদে দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।