কোলকাতা, ভারত প্রতিনিধি: আগেও বারবার কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে নিজেদের স্থায়ী রেখাচিত্র তৈরি করেছে কথামঞ্জরী। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। জন্মের পর থেকে কয়েক বছরের মধ্যেই নিজেদের সোচ্চার উপস্থিতি জানান দেয় এই সংগঠন। ফলে শিশির মঞ্চে তাদের অনুষ্ঠান নিয়ে আগেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এবার অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল বাংলাদেশ এবং তার উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী, যেমন মুক্তিযুদ্ধের অর্ধশতবর্ষ, ২১’র ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর অতিক্রান্ত জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি। অনুষ্ঠান শেষে বলতে হয় সবার উপস্থাপনাই উল্লেখযোগ্য। আলাদা করে দুই একজন শিল্পীকে খুঁজে নেওয়া মুশকিল। তাই এই শিশির মঞ্চ ১ নভেম্বর ২০২২ অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুর বেঁধে দিল- ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন কলকাতা পৌরসভার মেয়র পারিষদ সদস্য দেবাশিস কুমার। তাঁর নান্দনিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানকে সামনের দিকে এগিয়ে দিল। এরপর মঞ্চে এলেন অধ্যাপক, সাহিত্যিক ও সংগঠক ডক্টর ইমানুল হক। তাঁর বক্তৃতার স্বভাবসিদ্ধ রসবোধ দর্শকদের প্রাণঢালা আনন্দে ভাসালেন। অনুষ্ঠান আরও এগালো আপন গতিতে।

এরপর একে একে এলেন শিল্পীরা। একক আবৃত্তির উপস্থাপনা করে মন কাড়লেন- আয়ুষি পাল, শ্রীদাত্রী মুখার্জি, দৃশানা সাধু (গান), মিতুল সরকার, সঞ্চিতা চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ কর, পরিমল মালাকার, শিখা বসু, শিঞ্জিনী বসু, কৃষ্ণা ঘোষ, গার্গী গঙ্গোপাধ্যায়, কেয়া দেব, রত্না বাগচী, ঈন্দ্রানী বাড়ুই, বেবী বালা প্রমুখ। এছাড়াও কবিতা কোলাজের মাধ্যমে যারা বিষয় ভাবনাকে তুলে ধরলেন, তারা হলেন তিয়াশা গুপ্ত, স্বপ্না মুখার্জি, তন্ময় বক্সি, কেয়া চৌধুরী, নীলাব্রত সাহার পরিচালনায় মেঘ পিওন, অনুসুয়া দের পরিচালনায় ঐকতান। সুন্দর দুটি শ্রুতিনাটক উপহার দিলেন নন্দিনী সরকারের পরিচালনায় সারথি বেলুর এবং কবিতা ভট্টাচার্য’র পরিচালনায় কালের মন্দিরা।
অভিনব নৃত্যনাট্য ভাবনায় ও উপস্থাপনায় স্বাতী কর ও চন্দ্রালী কর দর্শকদের মন জয় করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুন্দর ভাবে পরিচালনা করেন আইভি ধর।
অনুষ্ঠান তখন মধ্যগগনে। কথা রাখলেন ওঁরা। একে একে মঞ্চে এলেন অতিথিরা। এলেন রাসেল জামাদার দ্বিতীয় সচিব (কনসুলার) বাংলাদেশ উপ হাই কমিশন, কলকাতা, কবি ও সম্পাদক-আজ শুক্রবার ও সংগঠক চয়ন ভট্টাচার্য, বাচিক শিল্পী ও সঞ্চালক সুদীপ্ত রায় এবং সভাপতি অধ্যাপক গৌরগোপাল চৌধুরী। তাঁদের বক্তৃতা প্রতিষ্ঠা করল বাংলার দৃপ্ত পদধ্বনি। এটি মুলত একটি আলোচনাচক্র ছিল যেটি সাংবাদিক চয়ন ভট্টাচার্য’র দক্ষ পরিচালনায় খুবই মনগ্রাহী হতে ওঠে। কথামজ্ঞরী’র আহ্বায়ক সায়ন্তনী বসু বললেন, এ আমাদের দায়বদ্ধতা। বাংলা ভাষা একটা লড়াইয়ের নাম। এই ভাষা আমাদের গর্বের ভাষা। বাঙালি হিসেবে আমরা গর্বিত। আর সেই দায় থেকেই মুক্তিযুদ্ধ সহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষযগুলি মাথায় রেখে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন।
‘…বাংলাটা ঠিক আসে না…’ এটা অসহ্য বলেই হয়ত কথামঞ্জরী কলকাতার বুকে আর একটা দিন রেখে গেল বাংলার পদচিহ্ন, যা আগামীর জন্য অনুসরণযোগ্য।