প্রবাস মেলা ডেস্ক: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার প্রবাস মেলা অফিস পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ, ইতালি’র সভাপতি অলিউদ্দিন শামীম এবং সিনিয়র সহ সভাপতি মাফিজুল ইসলাম রাসেল। এসময় প্রবাস মেলা কলাকুশলীদের সাথে আলোচনায় উঠে আসে তার প্রবাস জীবনের নানা কথা। আলোচনার এক ফাঁকে তাদের হাতে প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজু।
উল্লেখ্য, প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ, ইতালির সভাপতি অলিউদ্দিন শামীম প্রবাসে থাকলেও সবসময় দেশের টান অনুভব করেন। সেই টান থেকেই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চান। তিনি তা করেও যাচ্ছেন। সিলেটের বিয়ানীবাজারের কৃতি সন্তান অলিউদ্দিন শামীম। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ইতালির রোমে বসবাস করছেন। সেখানে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরির পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বেশ পরিচিত মুখ তিনি। ইতালিতে তিনি ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের প্রবাসীদের কাগজপত্রের দোভাষী এবং অনুবাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।
আলাপচারিতায় তিনি জানান, আমার বর্তমান পেশায় নিয়োজিত থেকে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির সেবা করতে পারছি। বিশেষ করে যে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কোনো আইনি ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন আমি আমার পেশাগত কাজের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে তাদের কাজগুলো করে দিতে পারি। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এ কাজগুলো করতে পেরে আমি নিজেকে নিয়ে খুব গর্ববোধ করি। প্রবাসীদের জন্য আরও বেশি কাজ করার আকাঙ্খা নিয়েই আমরা বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ গঠন করি। এই সংগঠনটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এই সংগঠনটি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী প্রবাসীদের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া বাংলাদেশের কৃষ্টি কালচারও প্রবাসের মাটিতে তুলে ধরবে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশে সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান শামীম। তিনি আরও জানান, ইতালিতে প্রবাসীরা নানা সমস্যায় আক্রান্ত। তারমধ্যে পাসপোর্ট সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমরা এই সমস্যাটিকে সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইতালি সরকারের সরাসরি সমন্বয় সাধন করে এর একটা যৌক্তিক সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে আমরা ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে সরাসরি মিটিং করার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া ইতালিতে বাংলাদেশে বন্ধ থাকা সিজনাল ভিসা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি।
তবে আক্ষেপ করে অলিউদ্দিন শামীম বলেন, বাংলাদেশে সীমাহীন যানঝট, রাস্তা-ঘাটে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে আমাদের ২য় প্রজন্মের প্রবাসীরা বাংলাদেশে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এগুলো দ্রুত সমাধানের জোরালো দাবী জানান তিনি।
অন্যদিকে মাফিজুল ইসলাম রাসেল একজন কৃতি প্রবাসী। তিনি ২০০০ সালে ইতালিতে যান। প্রথমদিকে তিনি বিভিন্ন মেলায় স্টল দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে কাপড়ের ব্যবসা করছেন। তিনি একজন সোস্যাল এক্টিভিস্ট হিসেবে প্রবাসীদের নানা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ, ইতালির সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আলাপচারিতায় তিনি জানান, এ সংগঠনটি একটি প্রবাসবান্ধব সংগঠন। আমরা এ সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসীদের গ্রীণ কার্ড, এসাইলাম সমস্যা এবং পাসপোর্ট সমস্যার সমাধানে নানামূখী প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছি। এ সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় সাধন করে উপরোক্ত সমস্যাগুলোর আশু সমাধানের ব্যবস্থা করবেন।
ঢাকাস্থ সাভারের কৃতি সন্তান মাফিজুল ইসলাম রাসেলের পিতার নাম হাবিবুল্লাহ মাস্টার, মাতার নাম সাজেদা খাতুন। তারা ৫ ভাই ৩ বোন। বর্তমানে তিনি স্ত্রী, সন্তান নিয়ে ইতালিতে বসবাস করলেও দেশের জন্য তার খুব মায়া। বিদেশে বাংলাদেশের কথা তার খুব মনে পড়ে। তাই সময় পেলেই তিনি দেশে ছুটে আসেন। তবে শামীম ভাইয়ের সাথে একমত পোষণ করে দুঃখের সাথে বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশে আসতে চায় না। কারণ তারা যখনই বাংলাদেশের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা তাদের চোখে পড়ে। এজন্য তিনি এসব অবস্থাপনা, অনিয়ম সমাধানের জন্য সরকারের নিকট উদাত্ত আহ্বান জানান।