রাশেদ কাদের, আম্মান, জর্ডান প্রতিনিধি: আম্মানের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.বি.বি.এস ও অন্যান্য উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন করা প্যালেস্টিনিয়ান ও জর্ডানিয়ান ডাক্তারদের সম্মানে এক সম্বর্ধনা ও নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান সকলকে স্বাগত জানান। মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী উক্ত অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে একটি ভিডিও বার্তা প্রেরণ করেন। মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ভিডিও বার্তায় উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি উল্লেখ করেন বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর শিক্ষাখাতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য প্যালেস্টিনিয়ান ছাত্রদের নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়/মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নের সুযোগ দিয়ে থাকে। তিনি বলেন বাংলাদেশ থেকে এম.বি.বি.এস সহ অন্যান্য বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন করা প্যালেস্টিনিয়ান ও জর্ডানিয়ান নাগরিকরা বাংলাদেশের এক একজন শুভেচ্ছা দূত। তিনি আশা প্রকাশ করেন এই শুভেচ্ছা দূতগণ জর্ডান সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে উন্নত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরবেন।
রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন প্যালেস্টিাইন ও জর্ডানের সাথে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। উভয় দেশই তাদের সল্প সম্পদ ও সীমিত ব্যবস্থাপনা স্বত্বেও বিশ্ব দরবারে নিজস্ব স্থান করে নিয়েছে। ভ্রাতৃপ্রতিম এই দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার সব সময়ই ফিলিস্তিন ইস্যুতে জর্ডানের পাশে রয়েছে। সহযোগিতার অংশ হিসেবে প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকার এম.বি.বি.এসসহ অন্যান্য বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের জন্য বৃত্তি প্রদান করছে। অত্যন্ত গর্বের বিষয় এই যে, আজকে জর্ডানে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত অনেকেই বাংলাদেশ থেকে তাদের এম.বি.বি.এস সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ আজ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য, প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাত বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় অবস্থা বাংলাদেশ এখন খাদ্য ও মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০১০ সাল থেকে ৮ মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র সিমার বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশে কৃষি সফলতার কারনে কোভিড কালীন সময়েও বাংলাদেশ ৫.২৪ জিডিপি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করা সকলকে বাংলাদেশের প্রকৃত ভাবমূর্তিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান ।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা জর্ডানিয়ান পেশাজীবীগণ বাংলাদেশে অবস্থান কালীন সময়ে তাদের সুখ স্মৃতি রোমন্থন করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশকে কাছ থেকে দেখতে পারা তাদের জন্য এক বিরল সৌভাগ্য। বাংলাদেশের মানুষের প্রাণ প্রাচুর্য ও অতিথেয়তার অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য এক স্মরণীয় স্মৃতি। প্রায় তিন যুগ পর সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে আসা ডাক্তার ইউসুফ বলেন আগামীর ভবিষ্যৎ কেবল বাংলাদেশের। তিনি বিগত দশকে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশ একটি সফল সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বক্তাগণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক তাঁদের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে। উল্লেখ করায় তাঁদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই ধরনের উদ্যোগের জন্য দূতাবাসের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সংস্কৃতি বিষয়ক একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য, এই প্রথমবারের মত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা প্যালেস্টিনিয়ান ও জর্ডানিয়ান ডাক্তারদের নিয়ে এই ধরনের একটি সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। জনকূটনীতির অংশ হিসেবে দূতাবাসের এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনির্মাণ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।