প্রবাস মেলা ডেস্ক: পাকিস্তানে ৬ সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টার নিখোঁজ হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১ আগস্ট ২০২২) বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ অভিযান পরিচালনার সময় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ওই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্স।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ বেলুচিস্তান প্রদেশের লাসবেলা জেলায় বন্যার ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছিল একটি এভিয়েশন হেলিকপ্টার। সোমবার (১ আগস্ট ২০২২) হঠাৎ করে বিমানের ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে হেলিকপ্টারটির।
এ ঘটনার পর পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, হেলিকপ্টারটিতে একজন জেনারেলসহ মোট ছয়জন কর্মকর্তা ছিলেন। নিখোঁজ সেনা কর্মকর্তা ‘দক্ষিণ ১২ কোর’র কমান্ডার। ঘটনাস্থলের আশেপাশে তল্লাশি অভিযান চলছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। তবে কত সময় ধরে ওই হেলিকপ্টারটি নিখোঁজ রয়েছে সে বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের ডিরেক্টর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার আমজাদ হানিফ, কর্পস কমান্ডার লে. জেনারেল সরফরাজ আলি এবং দুই মেজরসহ মোট ছয় কর্মকর্তা ওই হেলিকপ্টারে ছিলেন।
স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই হেলিকপ্টারটি ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজের পর থেকে ওই হেলিকপ্টারটি ট্রেস করাও সম্ভব হয়নি। এছাড়া খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং থেকে বলা হয়েছে, নিখোঁজ হেলিকপ্টারের খোঁজে অনুসন্ধান অভিযান চলছে এবং কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আরও বিশদভাবে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে নিখোঁজ হেলিকপ্টারের তল্লাশি অভিযান সম্পর্কে পুলিশের খুজদার রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক পারভেজ উমরানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনকে বলেন, পুলিশ ও সম্মুখসারির কর্মীরা গত পাঁচ ঘণ্টা ধরে যৌথ অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করছে।
পুলিশ সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, যে এলাকায় হেলিকপ্টারটি নিখোঁজ হয়েছে সেটি দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড। ওই এলাকায় জীপ গাড়ি চলতে পারে এমন রাস্তাও নেই। আর এ কারণেই নিখোঁজ হেলিকপ্টারের অনুসন্ধানে উদ্ধার কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের সিনিয়র এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘হয় আপনাকে পায়ে হেঁটে বা মোটরসাইকেলে করে বা অথবা আকাশপথে নজরদারি চালাতে হবে।’
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেলুচিস্তানের বন্যা কবলিত জেলাগুলোতে ত্রাণ তৎপরতায় হেলিকপ্টারসহ সামরিক বাহিনী ও সরঞ্জাম নিয়োজিত রয়েছে। সোমবার (০১ আগস্ট) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আখতার নওয়াজের সঙ্গে বেলুচিস্তানে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ টুইটারে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আর্মি এভিয়েশনের হেলিকপ্টার নিখোঁজ হওয়ার খবর খুবই উদ্বেগজনক। বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা ও প্রত্যাবর্তনের জন্য গোটা জাতি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও সামরিক বিমান নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, আর্মি এভিয়েশনের হেলিকপ্টার নিখোঁজ হওয়া উদ্বেগজনক এবং আরোহী সকলের জন্য প্রার্থনা করছি।
এদিকে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের বহনকারী হেলিকপ্টার নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি।