জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: শরিয়তপুরের ৩ আসনের সংসদ সদস্য জনাব নাহিম রাজ্জাক যুক্তরাজ্যে আগমণ করেন। তার আগমণ উপলক্ষে ১২ নভেম্বর ২০২১, শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের ইষ্ট হামের অভিজাত একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে তিনি বৃটেনে আসেন। আহমেদ রাজু বাবুলের উপস্থাপনায় কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, মজিবর বেপারি, মামুনুর রশিদ, মামুন ফকির, জাহাঙ্গীর ছৈয়াল সাজাহান সহ অনেকেই। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত শরিয়তপুরবাসী তাদের মাননীয় এমপিকে নিজেদের মাঝে পেয়ে খুশি প্রকাশ করেন। শরিয়তপুর বাসীর ৩ আসনের মাননীয় এমপি নাহিম রাজ্জাক শত ব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং প্রস্তাবিত যোগাযোগের মাধ্যম জাহাঙ্গীর আলম শিকদারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার স্বাগত বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশি শরিয়তপুরের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এলাকার জন্য কাজ করা এবং দেশের জনগনের জন্য জাতীয় সংসদে, জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারা প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের একটা নৈতিক দায়িত্ব থাকে।

আমরা যখন একটি রাষ্ট্রে আসি সেখানে ভাই, বোন, আত্মীয় স্বজন ছাড়াও আওয়ামীলীগ পরিবারের যারা আছেন তাদের সাথে কথাবার্তা বলব। জনাব নাহিম রাজ্জাক তার বাবা উপমাহাদেশের প্রখ্যাত এবং দেশের জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের এদেশের মানুষের ভালবাসার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি শরিয়তপুরের মানুষের জন্য কাজ করে গিয়েছেন।
তারপরেও মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের ছেলের প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি প্রত্যাশা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে আবারও আসবো। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের লোকসংখা বেশি এবং এখানে কোন অঞ্চল বা কারো সাথে যেন বিভেদ, বিভাজন না থাকে। কারণ আমরা শরিয়তপুরবাসী, কিন্তু আমরা বাংলাদেশি নাগরিক।

এখানে ইউকের বাহিরে ইতালি, জার্মান, অস্ত্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, লিবিয়া, সউদি ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শরিয়তপুরের লোক যারা বসবাস করেন। তাদের সাথে সমন্বয়ের জায়গাটা তৈরি করার জন্য প্রয়োজনে পরিচিত নিজেদের মধ্যে আলাপ আলচনায় বসবেন। এখানে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগ, আওয়ামীলীগের সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কিংবা বিভিন্ন সংগঠন ও অঙ্গসংগঠন রয়েছে। সবার সাথে তিনি আওয়ামীলীগ পরিবারের একটা সুসম্পর্ক উন্নয়নেরও আশা ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ছোট একটি কমিউনিটি শরিয়তপুরের কিন্তু বিভিন্ন গ্রুপ বা বিভাজন থাকলে আমাদের জন্য সময়ের সংকীর্ণতা কিংবা সবার সাথে দেখা করা একটু সমস্যা হয়ে দাড়ায়। জানুয়ারিতে এসে এই জায়গাটা একটু নিরসনের চেষ্টা করবো। ব্যক্তিগতভাবে আশা ও উদ্যোগ প্রকাশ করেন এখানে শরিয়তপুর প্রবাসীদের একত্রীভূত হয়ে একটি সমিতি থাকবে গণতন্ত্র মোতাবেক এবং ওপেন মেম্বারশিপ থাকবে। যেখানে সময়ের দাবীতে সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করতে পারব। তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দুঃখ করে বলেন, কোভিড-১৯ এ কত লোক বিয়োগ হয়েছে যা সব খবর পাননি।
কারণ তার বাবা পানিমন্ত্রী মরহুম জনাব আব্দুর রাজ্জাকের সাথে পারিবারিকভাবে কিংবা তার সাথে যুক্তরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে সম্পৃক্ততা রয়েছে যুক্তরাজ্যের বাঙ্গালী প্রায় প্রতিটা মানুষের সাথে। এই সম্পৃক্ততার মানুষ কখন মৃত্যুবরণ করল তা জানতে না পারা কষ্ট ও দুঃখজনক। সেই যাগয়াটা ঘাটতি পূরণ করা হলেও প্রয়োজন একটি সমিতির কার্যকারিতা।

জনাব নাহিম রাজ্জাক এমপি বলেন, প্রবাসে যারা পারিবারিক অথবা সামাজিকভাবে কিংবা জায়গা জমি নিয়ে হেয় প্রতিপন্ন হন আমাদের কে অবহতি করবেন আমরা সমাধান করার চেষ্টা করব। এবং আরও বলেন প্রবাসীদেরকে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চিন্তাও করেন। এছাড়া আমাকে যেহেতু মহান জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য করেছেন স্বাভাবিকভাবেই আপনাদের ব্যাপারে আমাদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। এবং যেখানে হাই কমিশন রয়েছে এবং হাই কমিশন কেন্দ্রিক যেসব আলোচনা রয়েছে সেখানেও কথা বলার সুযোগ রয়েছে। যেমন ডিজিটাল এমআরপি পাসপোর্ট কাগজপত্র কিংবা ডকুমেন্টের জন্য যেসব সহযোগিতার প্রয়োজন সব ধরনের সহযোগিতার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি সফল প্রোগ্রামে ধন্যবাদের সাথে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, আপনারা দেশে বিনিয়োগ করবেন কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু করে শরিয়তপুর তথা দক্ষিণাঞ্চলের যে সম্ভাবনার জোয়ার হচ্ছে তা দেশের মানুষ এখনো উপলব্ধি করতে পারছেনা।
তিনি আমাদের জন্য কতটুকু করছেন এবং শরিয়তপুর সহ সারা বাংলাদেশি প্রবাসীদেরকে বিনিয়োগ করার অনুরোধ জানান এম পি জনাব নাহিম রাজ্জাক। এতে করে সরকার থেকে বিভিন্ন রকম সুবিধাও আছে। সুতরাং প্রতিটা প্রবাসীকে বিনিয়োগ বান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান।

সবশেষে মাওলানা সফিকুর রহমান বিপ্লবীর মোনাজাত ও প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।