জাহাঙ্গীর আলম সিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার পরই ইউরো ফুটবল কাপের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি ইউরোকাপ কার না জানা, উপচে পরা ওয়েম্বলি মাঠের দর্শকের মত না হলেও আগ্রহের কমতি ছিলনা ১১ জুলাই ২০২১ রবিবার ইস্টলন্ডনের রমফোরড রোড এর প্রিন্স কফি শপে ইউরুকাপের ফাইনাল খেলায়।
মাত্র দুই মিনিটে দোন্নারুম্মাকে বোকা বানিয়ে গোল করেছিলেন লুক শ। ইউরোর ইতিহাসে এর আগে কখনো ফাইনাল না খেলা দলটিই করে বসেছিল ফাইনালের ইতিহাসের দ্রুততম গোল। শুরুতেই তাঁকে চমকে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে অচেনা ইতালির ধারহীন খেলার ফায়দা তুলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল ওয়েম্বলির উপচে পড়া ভিড়ের উৎসাহ নিয়ে খেলতে নামা ইংল্যান্ড। বিরতির পর সব বদলে গেছে এবং ইতালি ২২ মিনিটের দিকে এনে দিয়েছে সমতা। কিন্তু ৯০ মিনিটে ম্যাচের মীমাংসা হয়নি এবং শেষ হয়নি অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও। টাইব্রেকারেই দোন্নারুম্মার দুর্দান্ত দুটি হাতের সুবাদে ৩-২ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরো জিতে নিয়েছে ইতালি। ইতালিকে ৫৩ বছর পর ইউরোর স্বাদ এনে দিল পেনাল্টি শ্যুটআউটে জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে । প্রথম দুটি শট থেকে গোল করা ইংল্যান্ড পরের তিনটি শটেই হয়েছে ব্যর্থ।

অধির আগ্রহে থাকা দর্শক প্রথমার্ধের খেলা দেখে প্রথমেই প্রশ্ন জেগেছে- এ কোন ইতালি? টুর্নামেন্ট জুড়ে আক্রমণাত্মক ও পাসিং ফুটবল দিয়ে মুগ্ধ করেছিল ইতালি। শুরুতে ইতালি পাসিং ফুটবল খেলেছে ঠিকই কিন্তু তাতে আক্রমণের ধার ছিল কম । নিচ থেকে পাস দেওয়া হচ্ছিল মাঝমাঠে। সেখানে একের পর এক পাসে বল এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাচ্ছিল। ঘুরে ফিরে বাঁ দিক থেকে ডান দিক। ডান দিক থেকে বাঁ দিক। দ্রুততম ফাইনালের গোলের দিন সবচেয়ে বেশি বয়সীর ফাইনালে গোল দেওয়াও দেখে ফেলল ইতালি। ৩৪ বছর বয়সী বোনুচ্চির চেয়ে বেশি বয়সে কেউ ইউরোর ফাইনালে গোল করেননি। ইতালি আরও দুবার গোল করলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। মাঝমাঠের দখল ফেরাতে ডেকলান রাইসকে তুলে নিয়ে হেন্ডারসনকে নামান ইংলিশ কোচ সাউথগেট। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময়টাও এগিয়ে ছিল ইতালি। কিন্তু গোল আর করা হয়নি ইতালির। ওদিকে প্রতিআক্রমণের সুযোগ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ডও পারেনি ম্যাচ বের করে নিতে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট তাই ১-১ সমতায় শেষ হয়।
টাইব্রেকারে ইতালির দ্বিতীয় শটই ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। বেলোত্তির শটের বুঝে ফেলেছিলেন ইংলিশ কিপার। আর ইংল্যান্ডের ভুল তৃতীয় শটে। পেনাল্টি নিতেই যাঁকে নামানো সেই মার্কাস রাসফোর্ডে পোস্টে বল লাগান। একই উদ্দেশ্যে নামা জাডোন সাঞ্চোর শটও কোনো কাজে আসেনি। সেটি ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা। ৪ শটের পর ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইতালি। পঞ্চম শটে গোল করলেই ইতালির জয়।