সোয়েব সাঈদ, রামু, কক্সবাজার থেকে: রামুতে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী কর্তৃক এক ব্যক্তির বসত ঘর ও ভিটে বাড়ি দখলের চেষ্টাসহ নানাভাবে হয়রানির গুরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালাক দেয়ার পূর্বে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ সহ স্বামীর টাকায় নিজের নামে জমি কিনেও প্রতারণা করেন আমেনা বেগম নামের ওই নারী। সম্প্রতি স্বামী সাইফুল দেশে আসলে কৌশলে একটি মামলায় আটক করান স্ত্রী। এছাড়া ওই নারীর নানা প্রতারনা ও অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে সাইফুল ইসলাম তাকে তালাক প্রদান করে। এরপরও তালাকপ্রাপ্ত ওই আমেনা বেগম এখনো জোরপূর্বক সাবেক স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করে বাড়িটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হয়রানির শিকার সাইফুল ইসলাম (৪০) রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নাদেরপাড়া এলাকার হাজ্বী কবির আহমদের ছেলে।
সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন- ২০০৫ সালে তিনি রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া মইশকুম এলাকার মৃত ইউছুপ আলীর মেয়ে আমেনা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৮ সালে তিনি জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব চলে যান। দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাস জীবনে তিনি স্ত্রী আমেনা বেগমের কাছে ব্যাংক ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় এক কোটি টাকা পাঠান।
দীর্ঘদিন ধরে আমেনা বেগম এলাকার কতিপয় ভূমিদস্যু ও বখাটে লোকজনের সহায়তায় নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। এসব কুচক্রী ব্যক্তিদের ইন্ধনে আমেনা বেগম স্বামীর পাঠানো টাকায় নিজের নামে একাধিক জমি কিনেন এবং সেসব জমি বিক্রি করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেন।
স্ত্রীর এসব অপকর্মের প্রতিবাদ জানালে আমেনা বেগম উল্টো স্বামী সাইফুল ইসলামের সাথে প্রায় দূর্ব্যবহার করতেন এবং দেশে আসলে হয়রানির হুমকি দিতেন। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি সাইফুল দেশে আসলে স্ত্রী আমেনা বেগম কৌশলে একটি বন মামলায় পরদিন (২৭ জানুয়ারি) সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করান। ১৬দিন কারাভোগ শেষে সাইফুল জামিনে এসে বাধ্য হয়ে রামু সদর নিকাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রার অফিসের মাধ্যমে স্ত্রী আমেনা বেগমকে তালাক প্রদান করেন। সম্প্রতি (১২ জুন) এ তালাক কার্যকর করেন রামু সদর নিকাহ রেজিষ্ট্রার ও কাজী মাওলানা এরশাদ উল্লাহ।
সাইফুল ইসলাম আরো জানান- তালাক দেয়ার পর আমেনা বেগম তার বাড়ি থেকে চলে যায়। কিন্তু এলাকার কতিপয় ব্যক্তির ইন্ধনে এক রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তালাকপ্রাপ্ত ওই স্ত্রীকে আবারো জোরপূর্বক এবং অন্যায়ভাবে আবারো তার বাড়িতে ডুকিয়ে দেয়। এখনো আমেনা বেগম তার (সাইফুল) ঘরে অবস্থান করছে, যা চরম দূঃখজনক। অবিলম্বে আমেনা বেগমকে বাড়ি থেকে বের করতে তিনি আইনী প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।
সাইফুল ইসলাম আরো বলেন- বিদেশ থেকে স্ত্রীর নামে পাঠানো এক কোটি টাকার কোন হদিস তিনি পাননি। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টাকা তিনি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। যার প্রমান (ব্যাংক রশিদ) তার হাতে রয়েছে। আমেনা বেগম সম্প্রতি আমার (সাইফুল) নামে ক্রয়কৃত দুটি জমি নিজের নামে ভূয়া কাগজপত্র সৃজন করে বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমার কেনা ৩টি পিকআপ (মিনিট্রাক) এর মধ্যে ২টি পিকআপও সে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমার এসব টাকা আত্মসাৎ করে আমেনা বেগম বিভিন্ন ব্যাংক এবং ব্যক্তির মাধ্যমে মজুদ করেছে। বর্তমানে তার ১০টির মতো অটোরিক্সাও রয়েছে। নামে-বেনামে রয়েছে আরো অনেক ব্যবসা এবং ব্যাংক লেনদেন। আমেনা বেগমের এসব অপকর্মে সবসময় এলাকার কতিপয় ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে ইন্ধন যুগিয়ে আসছে। এমনকি ওইসব কুচক্রী ব্যক্তি স্থানীয় সরকার দলীয় এক নেত্রীকে ম্যানেজ করে জোরপূর্বক তার বাড়িতে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী আমেনা বেগমকে ডুকিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরো জানান-বিপুল টাকা আত্মসাৎ সহ উশৃঙ্খল জীবনযাপন নিয়ে প্রতিবাদ করলে সাম্প্রতিক সময়ে আমেনা বেগমের সাথে তার মনোমালিন্য হয়। এনিয়ে আমেনা বেগম উল্টো তার বিরুদ্ধে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদ ও রামু থানায় হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু এসব অভিযোগের সুরাহা করার জন্য বারবার ডাকা হলেও সাড়া দেননি অভিযোগকারি আমেনা বেগম।
এদিকে তালাক কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও আমেনা বেগম সম্প্রতি সাইফুল ইসলামের বাড়িতে জোরপূর্বক অবস্থান করে উল্টো সাইফুল ইসলামকে মাদক, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। অব্যাহত হুমকীর কারনে ২ সন্তানের জনক সাইফুল ইসলাম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন এবং বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতেও বাধ্য হচ্ছেন। এতে নিরুপায় হয়ে সাইফুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।