রানা সাত্তার, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: আজ বেশ কয়েক বছর হলো কয়েকটি বন্য হাতি অবাধে চলাফেরা আর ক্ষয়-ক্ষতি চালাচ্ছে আনয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায়। পূর্বেও আনোয়ারায় অনেক ক্ষেত, চাষাবা ও মানুষের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করেছে পাগলা হাতি। মানুষ মেরে ফেলাসহ হতাহতের মত ঘটনা ঘটেছে বহুবার।
ঠিক তেমনি ৬ জুন ২০২১, রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নে একটি বন্য হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে তিনটি ঘর, বাড়ির গাইড ওয়াল ভাংচুর ও ধান নষ্ট করেছে বলে জানিয়েছন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি মেম্বার আবদুর ছবুরে জানান, গত কয়েক বছর ধরে বন্য হাতির একটি দল কর্ণফুলীর দেয়াঙ পাহাড়ে এসে অবস্থান করছিলো। প্রায় রাতেই হাতির দলটি লোকালয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে। গত রাতের তাণ্ডবে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলানা মহিবুল্লাহ্ খান বাড়ির মৃত কবির আহমদের পুত্র আনোয়ার হোসেন, মৃত মকবুল আহমদের পুত্র মীর হোসেনের বসতঘর ভাংচুর ও বাড়িতে রাখা মজুদ ধান নষ্ট করেছে যার বাজার মুল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া আমার নিজের ঘর ও বাড়ির গাইড ওয়াল ভাংচুর করে। যার মূল্য লক্ষাধিক টাকা।

তিনি আরও জানান, রাতের আক্রমণ প্রতিহত করার বৃথা চেষ্টাও করে স্থানীয়রা। তাতে লাভ হয়নি। কারণ হাতি প্রতিহত করার কৌশল একমাত্র বিন-বিভাগই জানার কথা। তবে, বন্য হাতির এই তাণ্ডব আনোয়ারা-কর্ণফুলীর জন্য নতুন নয়। প্রায় সময় যেকোনো গ্রামের ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। শুধু তাই নয়, খাবারের খোঁজে পাহাড় থেকে লোকালয়ে আসে হাতিগুলো। হাতির ভয়ে এখন রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে গ্রামবাসীর। বহুবার বন বিভাগ কে জানানো হয়েছে তাতে কোনো ফল হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায়ই রাতের ভাংচুর আর হৈচৈ শব্দ কানে আসে। বুঝতে পারি যেকোনো একদিকে হয়তো হাতি নেমেছে। আজো শব্দ শুনে হঠাৎ দরজা খুলে দেখি বাইরে একটি হাতি আমাদের পাশের বাড়িগুলো ভাংচুর চালাচ্ছে। আর ঘরে ভেতরে থাকা ধানের বস্তা টেনে বাইরে বের করতে দেখে ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিই। আমাদের জীবন এখন সংকটাপন্ন।
এই ব্যাপারে পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে খাদ্যের অভাবে বন্যহাতি লোকালয়ে চলে আসছে খাবারের খোঁজে। ঘর ভাংচুরের ঘটনা শুনেছি। ক্ষতিগ্রস্তরা আমাদের কাছে আবেদন করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্ণফুলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা সুলতানা বলেন, পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া বন্য হাতিগুলোর বিষয়ে বনবিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। গত রোববারের তাণ্ডবের ঘটনাও জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন-২০১৯ সালে রাতে বন্য হাতির আক্রমণে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামে আমুর পাড়া এলাকায় এক শিশু গুরুতর আহত হয়। আহত শহিদুল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আবার ২৭ জুন (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টায় দেয়াং পাহাড় থেকে একটি হাতি এসে গুচ্ছগ্রাম এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছিল; এ সময় বৃদ্ধ মোমেনা রান্না করছিলেন। পেছন থেকে হাতি আক্রমণ চালিয়ে তাকে পায়ে পিষ্ট করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে মধ্যরাতের দিকে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এই সময়ে বটতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান চৌধুরী ‘হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধ মোমেনার নিহতের ঘটনাটি’ বন বিভাগ ও প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন।