জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার থেকে: পর্যটন খাতের অন্যতম কেন্দ্র কলাতলী মোড়। বর্তমানে পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়কের শুরু কলাতলী মোড় থেকে। মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা শরণাপন্ন হয় কলাতলী মোড়ে ভিড় করে থাকা সিএনজি-অটো ড্রাইভারদের।
১৮ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার সকাল ১০.৪০ মিনিটে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষী হলেন প্রতিবেদক। ডলফিন মোড় থেকে টেকনাফ-সোনারপাড়া-ইনানী-হিমছড়ি-শামলাপুরসহ বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় পাবলিক-রিজার্ভ সিএনজি। সোনারপাড়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে একজন যাত্রী পরপর ২টা সিএনজিতে আসন গ্রহণ করার পর ও সোনারপাড়ার গাড়িতে চড়তে পারেনি। সিএনজি ড্রাইভারের বিভিন্ন বাহানা আর নিয়মের অযুহাতে পর পর সিএনজি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
সিএনজি ড্রাইভারদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই কয়েকজন সিএনজি ড্রাইভার উশৃংখল আচরণ আর আঞ্চলিক গালিগালাজের পাশাপাশি মারমুখী অবস্থান নেয়।
হয়রানীর শিকার যাত্রী কয়েকজন ড্রাইভারের মারমুখী অবস্থানের সামনে অসহায় ছিল, পরে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা নিয়ে সোনারপাড়ার উদ্দেশ্য রওনা হন।
কক্সবাজারের স্থানীয় এক যাত্রী জানান, আঞ্চলিক কথা বললে গাড়িতে বসতে দেয়না, ড্রাইভাররা বলে রিজার্ভ হলে যাবে এবং লাইনম্যান দ্বারা পরিচালিত লোকাল যাত্রী পরিবহনের জন্য সিরিয়ালে থাকা সিএনজিগুলো ও রিজার্ভ ভাড়া নেওয়ার ফাঁদ পেতে বসে থাকে। গন্তব্য এবং কর্মস্থলে পৌছাতে অনেককে ২/৩গুণ বেশি টাকা পরিশোধ করতে হয়।
কলাতলী-সোনারপাড়া সিএনজি লাইনের দায়িত্বরত লাইনম্যান দাঁড়িয়ে থেকে এসব অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করতে সহযোগিতা করে বলে জানা যায়। ড্রাইভারদের থেকে ওয়াবিল বাবদ যে টাকা উত্তোলন হয় তার থেকে ১০/২০ টাকা বেশি দিলে লাইনম্যান ড্রাইভারদের অন্যায়, যাত্রী হয়রানী এবং ভাড়ার অধিক টাকা আদায়ে পরোক্ষভাবে ইন্ধন জোগায়।
কক্সবাজারে ঘুরতে আসা গাজীপুরের মনির নামের এক পর্যটক জানান, কলাতলী থেকে হিমছড়ি একজনের ভাড়া সর্বোচ্চ ৩০-৪০ টাকা, লোকাল সিএনজি গুলো জোর পূর্বক ৬০-৯০ টাকা জনপ্রতি ভাড়া আদায় করেন। ড্রাইভারদের অপেশাদার আচরনের পাশাপাশি পর্যটকদের সাথে থাকা বোন-স্ত্রী-কন্যাদের ইভটিজিং এর শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে উখিয়া উপকেলা সিএনজি-অটোরিক্সা টেম্পু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলাতলী সোনারপাড়া সিএনজি লাইন কোর্টবাজারের একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করে। সে বিষয়ে কিছু জানা নেই।
দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রের যাত্রী সেবা প্রদানকারী বাহনগুলোর ড্রাইভারদের লাগাম টেনে না ধরলে ছিনতাই-হয়রানী বাড়তে থাকবে। ধারাবাহিকভাবে সিএনজি-অটো ড্রাইভারদের সহযোগিতাপূর্ণভাবে গড়ে না তুললে গণপরিবহনে ধর্ষণের মত অপরাধ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।