হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: ৭ মার্চ ২০২১, রবিবার সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়।
ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি সংগঠনের সভাপতি মোয়াজ্জেম ইকবালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফকরুল আহসান শেলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে এই ভাষণের রেকর্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসার আহমেদ চৌধুরী আজকের আলোচনায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে তার অমূল্য বক্তব্য দেন। তিনি প্রতিকূল পরিবেশে ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে এই ঐতিহাসিক ভাষণকে সংরক্ষণ করেছিলেন তার বিশদ ব্যাখ্যা দেন। এরপরে উপদেষ্টা মাহবুব মিলন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ছিল স্বাধীনতা ও মুক্তির অমিয় বাণী, প্রেরণার প্রদীপ্ত বাতিঘর। আবিদ আমির উল্লেখ করেন, উনেস্কোর ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজের মেমোরি অব ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে এ ভাষণ অন্তর্ভুক্তি ও স্বীকৃতি বঙ্গবন্ধুকে অসামান্য গৌরবে অধিষ্ঠিত করেছে। এই ভাষণের সফল পরিণতি স্বাধীন বাংলাদেশ, একাত্তরে গুঁটি কয়েক রাজাকার ছাড়া বাকী সাড়ে সাত কোটি বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এই ভাষণে মো: জসীম। শামসুস তোহা বলেন, এই ভাষণ পৃথিবীতে পঞ্চাশ বছরে সর্বাধিক ভাষায় পঠিত অনুবাদিত ও প্রচারিত হয়ে বিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়েছে। সামুর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নাম নয় শতবর্ষের অসাধারণ ইতিহাস। ইলিয়াস ঠাকুর তার সুন্দর উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এশিয়ার অর্থনীতিতে দ্রুততম টাইগার হিসাবে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। করিমুজ্জামান বলেন এই ভাষণ ছিল মুক্তিযুদ্বের কৌশল রণনীতি রাষ্ট্র ও জনতার প্রতি বঙ্গবন্ধুর সুস্পষ্ট নির্দেশনা। ইতিহাসের গতি পাল্টানোর ভাষণ ছিল বলে আমরা বিজয় পেয়েছিলাম, এ কথা বলেন রুমেল। প্রবাসে কষ্ট করে দল করছি সুবিধাবাদিদের জায়গা করে দিতে নয়। ইসতিয়াক বাবু বলেন , দলকে কুক্ষীগত করতে বিভাজন নীতি পরিহার করুন। কেহ কেহ ক্ষমতার দাপটে এখন নৈব্য আওয়ামীলীগ সেজে ব্যক্তি ছবি পোস্ট করে অর্ল্যান্ডোবাসীর ঘুম হারাম করছে, এই চিত্রের বর্ণনা দেন কনক। মো: নূরের ভাষায় বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সপ্নের সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। শাজাহানের কথায় আঠারো মিনিটের ভাষণটি কোনো সাধারণ বক্তৃতা ছিল না, এটি একটি অমর কবিতা। স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো তার বিশদ বিশ্লেষণ দেন ফখরুল আহসান শেলী। সকলকে সুন্দর বক্তব্যের জন্য সভাপতি মোয়াজ্জেম ইকবাল ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অন্ধকার পেরিয়ে আলোকোজ্জ্বল সূর্য রশ্মি স্ফ্যুরিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে, যা আজ বিশ্ব নিপীড়িত পৃথিবীর মুক্তির পথ। এর প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে মানুষের স্বপ্ন সংগ্রাম যুদ্ধ স্বাধীনতা মানবতা বেঁচে থাকার জীবন কথা। তা আজ বিশ্বের প্রত্যেক কর্নারে পৌঁছে দিতে হবে। আজকের সভা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের নিকট দাবী জানাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সংরক্ষক নাসার আহমেদ চৌধুরীর বীরোচিত কর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন করতে। প্রায় দুঘন্টা আলোচনা শেষে আলোচনা পর্বটি সমাপ্ত হয়।