নিউইয়র্ক থেকে হাকিকুল ইসলাম খোকন, লন্ডন থেকে নাজিম চৌধূরী, জাপান থেকে মাসুম জাকির,সিঙ্গাপুর থেকে এ কে এম মহসীন (মালহার):
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে ও মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের ও মানবতাবাদী অনেক বিদেশীদের ভূমিকা প্রশংসনীয়, অবিস্মরণীয়। স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশ থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশ স্বাধীনের পর থেকেই মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা কারণে নানাভাবে পাড়ি জমাতে থাকে। বর্তমানে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এককোটিরও উপরে বাংলাদেশের প্রবাসী ও অভিবাসী সমাজের বসবাস।

বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় শহর ও শহরতলীতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও বড় আকারে এখন বাংলাদেশের লোকজনদের কমিউনিটি ক্রমশ: বিস্তার লাভ করছে। সেইসাথে কমিউনিটি এক্টিভিজমকে কেন্দ্র করে দেশে বিদেশে লোকজন পরস্পর পরস্পরের সাথে মতবিনিময় করা সহজ হয়ে উঠেছে। অবশ্য প্রযুক্তির অস্বাভাবিক উন্নয়ন দেশ ও প্রবাসের মেলবন্ধন’কে ত্বরান্বিত করছে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, সোসাইটি, সমিতি ও নানা নামে প্রাথমিক অবস্থায় স্থানীয় কমিউনিটির স্বার্থ, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি তথা হেরিটেজ সংরক্ষণে সবাই মনোনিবেশ করতে থাকেন। তাই বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিবসকে কেন্দ্র করে দেশজ নাচ, গান ও সভা-সমিতির মধ্যেই মূলত: সীমিত থাকতে দেখা যায়।
তবে ১৯৮২ সালের পর থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং তৎপরবর্তিতে বেগম জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাড়িত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী অভিবাসীরা নিজেদের মাঝে একধরণের সেতুবন্ধন তৈরী করতে থাকে। যা ধীরে ধীরে প্রবাসী সচেতন মহলে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন তৎসাথে প্রবাসীদের অধিকার সমুহ প্রতিষ্ঠাকল্পে পারস্পরিক আলোচনার দ্বার উন্মূক্ত করতে থাকে।

প্রাথমিক অবস্থায় ইউরোপের দেশগুলো এগিয়ে আসে।ইউরোপের বিশিষ্ট কমিউনিটি এক্টিভিষ্টগণ নর্থ আমেরিকার (আমেরিকা ও কানাডা) বিশিষ্ট কমিউনিটি এক্টিভিষ্টদের সাথে যোগাযোগ সাধন করে। ইউরোপের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ২৯ ও ৩০ এপ্রিল, ২০১৬ সালে প্যারিসে মিলিত হন।অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ব্যক্তিগত পর্যায়ের এই সভায় নর্থ আমেরিকা থেকে কেউ উপস্থিত না হলেও টেলিফোনে সংহতি প্রকাশ করেন। উক্ত আলোচনা সভা শেষে ব্যাপক আকারে জার্মানী’র ফ্রাঙ্কফুটে ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ নামে সম্মেলনের ঘোষণা দেন। একই সময়ে প্যারিস কেন্দ্রিক ‘অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন’(আয়েবা) কর্তৃক মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে প্রবাসী অভিবাসী বাঙালিদের সমন্বয়ে আরও ব্যাপক আকারে ১৯ ও ২০ নভেম্বর সম্মেলনের ঘোষণা দেন এবং আয়েবা নেতৃবৃন্দ নর্থ আমেরিকার কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।


অবশেষে বাংলাদেশের সাবেক ছাত্রনেতা পরবর্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খানের উপস্থিতিতে জার্মানী’র ও প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব গোলাম কিবরিয়া, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট লেখিকা ও সাংবাদিক নাজমুন নেসা পিয়ারী, হাবিব বাবুল, হারুনুর রশীদ লন্ডনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আবু তাহের মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন খিজির, নাজিম চৌধুরী, সৈয়দ আবদুল মাবুদ, ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমদ, শিব্বির আহমদ তালুকদার, লন্ডন টাইমসের সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, সুইজারল্যান্ডের কাজী আসাদুজ্জামান, প্যারিস থেকে মনচুর চৌধুরী, ইতালী আমিন হিসাবে পরিচিত ইতালী থেকে নূরুল আমিন ও আঁখি সীমা কাওসার সহ অনেক কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সম্মেলনে মত বিনিময়ে কিছুটা মতবিরোধ থাকলেও পরিশেষে সম্মলনের সফল সমাপ্তি ঘটে। অনুপস্থিতিজনিত কারণে অনলাইন ও টেলিফোনে নর্থ আমেরিকার কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির জন্য যথাসময়ে ছুটি’র ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে নর্থ আমেরিকা থেকে এহসান হক, সিকদার গিয়াসউদ্দিন, এ বি এম সালেহ উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, হাকিকুল ইসলাম খোকন এবং সিঙ্গাপুর থেকে মহসীন মালহার সহ অনেকেই মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আয়েবা আয়োজিত এই সম্মেলনে যোগ দেন। উক্ত সম্মেলনে নর্থ আমেরিকার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত স্বর্ণালী কোর্ট পিন, মানচিত্র সম্বলিত ধাতব সোনালী ম্যাগনেটিক ষ্টিকার, টি শার্ট, ইকো ট্যুরিজমকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বটল গ্রীনের উপর লাল সূর্য্য স্থাপন করে ইংরেজীতে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার কেন্দ্রিক বাক্য বিন্যাস করে ছোট ছোট প্লেকার্ড সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।সর্বোপরি প্রবাসীদের অধিকার ও বাংলাদেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন কেন্দ্রিক ৩০ দফা বিশিষ্ট একটি সুন্দর বুকলেট আকারে ছাপানো ইশতেহার আগত সকলের মাঝে বিলিবন্টন করা হয়। অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও আকর্ষণীয় আয়েবা আয়োজিত এই সম্মেলনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্যারিসের কাজী এনায়েত উল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ হচ্ছেন যথাক্রমে গ্রীসের জয়নাল আবেদিন, অষ্ট্রিয়ার কাজী ফিরোজ আহমেদ,পর্তুগালের রানা তসলিম উদ্দিন, ফ্রান্সের ফখরুল আকম সেলিম, স্পেনের মাহারুল ইসলাম মিন্টু, শফিক খান, ইতালীর নূরুল আমিন, মঈনুল ইসলাম এবং সুইজারল্যান্ডের কাজী আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশের তানভীর সিদ্দিকী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রথিতযশা অনেক সম্পাদকের উপস্থিতি ছিলো।

উক্ত সম্মেলনে সেমিনারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা, সমন্বয়ের অভাব এবং ইউরোপীয়দের অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে একধরণের বিভ্রান্তি তৈরী করে।নর্থ আমেরিকা ও অন্যান্য দেশ থেকে আমন্ত্রিত প্রতিনিধিবৃন্দ একদিকে যেমন ইশতেহার পাঠ করতে পারেনি অন্যদিকে বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহনকে কেন্দ্র করে নাজুক পরিস্থিতির উদ্ভব দেখা দেয়। সময়ের অভাব ও পরিবেশের সাথে সঙ্গতি রেখে সকলেই আন্তরিকভাবে উদ্ভূত সমস্যা নিরসনে একযোগে কাজ করে। পরে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সম্মেলনের সার্বিক তত্বাবধায়ক হিসাবে কাজী এনায়েত উল্লাহ আগত প্রতিনিধিদের সাথে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। সেমিনারের কর্মকর্তাদের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। শেষ বিচারে রাজকীয় অথচ আন্তরিক এই সম্মেলনটি প্রবাসের এলিট ও দেশবিদেশের ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষাকারী কিনা-উপস্থিত অনেককে সংশয় প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সাধারণ প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে সম্মেলনে তেমন জোরালো কোন উদ্যোগ ও আয়োজন ছিলোনা বলে অনেকে মনে করেন।

২০১৬ সালে একদিকে কানেক্ট বাংলাদেশ আয়োজিত জার্মানী’র ফ্রাংকফুট সম্মেলন অন্যদিকে আয়েবা আয়োজিত মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর সামিট থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার আলোকে নর্থ আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ কানেক্ট বাংলাদেশের ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ম্যাসেন্জারের মাধ্যমে পারস্পরিক মতবিনিময় ও আলোচনা চালিয়ে যান।

অবশেষে ইতালী’র রোমে ২৬, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ২০১৮ সালে সম্মেলনের দিন ধার্য্য করা হয়। উক্ত সম্মেলনে নর্থ আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের সংখ্যাধিক্য ছিলো। ভিসা জটিলতা কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে বেশীর ভাগ প্রতিনিধি আসতে পারেননি। তবে সার্বক্ষণিক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত ছিলো। রোম শহর থেকে অনেক দূরে সম্মেলনের ভেন্যু নির্বাচন অনেকের মন:পুত হয়নি।প্রাথমিক অবস্থায় অনেক প্রতিনিধি যথাসময়ে সম্মেলনের স্থানে পৌঁছুতে না পারায় যথাসময়ে সম্মেলন উদ্বোধন ব্যাহত হয়। তাই বিষন্নতার চাপ থাকলেও একসময় তা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। সম্মেলনে গঠনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা ও মতপার্থক্য নিরসনের একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে মতবিরোধ তুঙ্গে উঠে। কনভেনশনাল কমিটি এবং যৌথ নেতৃত্বের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে ব্যাপক আলাপ আলোচনা সমালোচনা হয়।
উল্লেখ্য যে, ফ্রাঙ্কফুর্ট সম্মেলনে গঠনতন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন মতবিরোধ চুড়ান্ত করা না গেলে রোম সম্মেলনে তা মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। কানাডার বাবু দীলিপ কর্মকারের সভাপতিত্বে ও সুইজারল্যান্ডের কাজী আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক অথচ খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হয়। বিশেষ সেশনে যথাক্রমে লুৎফা হাসীন রোজী, শিব্বির আহমদ তালুকদার, মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া, কাজী জাকারিয়া, মজিবর রহমান, আখি সীমা কাওসার, শামসুল হক পাখী, মনচুর চৌধুরী, জাফর আজাদী, নূরুল আমিন, ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, শিবলী সাদিক, আব্দুন নূর দুলাল, তোফায়েল আহমেদ মুক্তা, বাবুল তালুকদার, নওশাদ চৌধূরী, মোহাম্মদ আবু তাহের, সিকদার গিয়াসউদ্দিন, এ বি এম সালেহউদ্দিন, হাকিকুল ইসলাম খোকন, হারুনুর রশিদ, আফসার হোসেন নীলু সহ আরো অনেকেই ছিলেন। সমাপ্তি অধিবেশনে রোমের প্রবাসী বাংলাদেশি ও সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডার মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া ও পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের সিকদার গিয়াসউদ্দিন। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সভাপতি সহ লুৎফা হাসীন রোজী, মোহাম্মদ আবুতাহের, শিব্বির আহমেদ তালুকদার, ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমদ, মনচুর চৌধুরী, নূরুল আমিন, শামছুল হক পাখী। রোম সম্মেলনে নওশাদ চৌধুরী নিজেকে লুকিয়ে রেখেও ভূমিকা ছিলো স্মরণ করার মতো। সম্মেলন শেষে কাজী জাকারিয়ার নেতৃত্বে স্থানীয় শিল্পীদের অনুষ্ঠান অত্যন্ত উপভোগ্য ছিলো। শিল্পীরা উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের স্টেজে ফুল দিয়ে বরণ করেন।

পরিকল্পনা কমিশন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা হয়। যেকোন সমস্যা সমাধানকল্পে ও বিশেষ অধিবেশন তলব করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অনলাইনে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।পরিশেষে সময়ের স্বল্পতাহেতু কিছু বিষয় অসমাপ্ত রেখে সম্মেলনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এমতাবস্থায় ম্যাসেন্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিটি নিয়মানুযায়ী কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে থাকে। গঠনতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা আলোচিত হলে পরিকল্পনা কমিটি স্পেনের বার্সেলোনায় ২২ ও ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ সালে জরুরী বিশেষ অধিবেশন তলব করেন। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ অধিবেশনে অবশেষে ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’কে “কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল” হিসাবে চুডান্তভাবে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে “কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালে”র ইশতেহারও ঘোষিত হয়।
উল্লেখ্য যে, বিশেষ অধিবেশনের উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্যের সৈয়দ আবদুল মাবুদ। সমাপ্তি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কানাডার মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া ও পরিচালনা করেন ফ্রান্সের রহমতুল্লাহ সাদী। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন যুক্তরাজ্য থেকে আবুতাহের গিয়াসউদ্দিন আহমদ খিজির, ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ফারুক চৌধুরী, ডা. মাহমুদুর রহমান মান্না, হান্নান শাহ, নূরুল আমিন, বাবুল তালুকদার, তোফায়েল আহমেদ মুক্তা, সুইজারল্যান্ড থেকে সালাউদ্দিন আইরেন, ইউসূফ খান মজলিশ, সুইডেন থেকে কুদরতউল্লাহ, ইতালী থেকে আখি সীমা কাওসার, ফ্রান্স থেকে হাবিব রহমান, মনচুর চৌধুরী, রহমতুল্লাহ সাদী, জাফর আজাদী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাকিকুল ইসলাম খোকন, এ বি এম সালেহউদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান বাবুল, সিকদার গিয়াসউদ্দিন সহ অনেকেই।স্পেন সাংবাদিক সমিতির বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও প্রদান করেন উপস্থিত পরিকল্পনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ। ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি গঠনতন্ত্র বাস্তবায়ন কমিটি করা হলেও আর কার্যকরী করা যায়নি। বার্সেলোনা মধুর কেন্টিনের স্বত্বাধিকারী আয়েবা সদস্য শফিক খান অনুষ্ঠানের পরিবেশন ও ডেকোরেশন, সঙ্গীতানুষ্ঠান সহ অনেক কিছুতেই সার্বিক সহযোগিতা করেন।

এক পর্যায়ে পরবর্তি সম্মেলন লন্ডন না প্যারিসে হবে তা নিয়ে মতবিনিময়ের প্রাক্কালে ব্যক্তি পর্যায়ে আক্রমণের প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হলে সভার সভাপতি বিকাশের সংস্কৃতি ছাড়া দোষারোপের সংস্কৃতি বরদাস্ত করা হবেনা বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পর পিনপতন নীরবতা চলে আসে। অবশেষে বিশেষ অধিবেশনের সফল সমাপ্তি ঘটে।

ইতিমধ্যেই ‘কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল’ লন্ডন শাখার কার্যক্রম যুক্তরাজ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সাথে লন্ডন শাখার নেতৃবৃন্দের আলাপ আলোচনার মাধ্যমে লন্ডনে সম্মেলন করার বিষয়টি চুড়ান্ত হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ সাধিত হয়। ’মুক্তিযুদ্ধের বিজয়-বীর বাঙালীর অহংকার’ এবং ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের অধিকার’ শ্লোগানকে সামনে রেখে লন্ডন সম্মেলনকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য একটি এড হক কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা আলোচিত হয়।

‘কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালে’র নেতৃবৃন্দ
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সূযোগ সুবিধাগুলো নিয়ে প্রবাসে সচেতনতা তৈরী করা, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আইডিয়া একচেঞ্জ জরুরী মনে করা হয়। দেশ-প্রবাসের মেলবন্ধন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে জরুরী সমস্যা সমাধানকল্পে বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ গমনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। লন্ডন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিকাশের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পূর্ব প্রস্তাবিত বিশেষজ্ঞ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ঢাকা থেকে একটি এডহক কমিটি ঘোষণা করার প্রস্তাবে চুড়ান্ত ঐকমত্য পোষণ করা হয়। দুদক চেয়ারম্যান, প্রবাসী ও কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ইনভেস্টম্যান্ট ডেভেলপম্যান্ট অথরিটি (BIDA)’র চেয়ারম্যানের সাথে প্রবাসীগণের বিভিন্ন অধিকার, সুযোগ সুবিধা, সমস্যাসমূহ নিয়ে মত বিনিময়ের প্রস্তাব আলোচিত হয়।

অত:পর সর্বসম্মত প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইতালী, ফ্রান্স মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী’র মাঝামাঝি সময়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিনিধিবৃন্দ ঢাকায় সমবেত হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা আলাপ আলোচনার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সালে সেনাকল্যাণ সংস্থা, ঢাকা পরিচালিত ক্যাপ্টেন ওয়ার্ল্ডস থেকে ‘ঢাকা ডিক্লারেশন’ নামে একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব ঘোষণা করে। পরবর্তি দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা থেকে অক্টোবর, ২০২০ সালে অথবা বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তি যে কোন সুবিধামত সময়ে লন্ডন সম্মেলন সাফল্যমন্ডিত করার লক্ষ্যে ‘কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালে’র এডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। লন্ডন সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও সকল কর্মকান্ডের বিস্তারিত তথ্য, ইতিবৃত্ত এবং গঠনতন্ত্র প্রকাশের ঘোষণার কথা জানানো হয়।


স্বল্পতম সময়ে প্রবাসীদের অধিকার, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মাননীয় দুদক চেয়ারম্যান, প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্হান মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়, সর্বোপরি BIDA’র সম্মানিত চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ আলোচনার জন্য যথাক্রমে আবু তাহের গিয়াসউদ্দিন আহমেদ (খিজির), মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া, সিকদার গিয়াসউদ্দিন, ড. সাবের শাহ ও আমিন নূরুল’কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

‘কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালে’র নেতৃবৃন্দ
উল্লেখ্য যে, কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ দু’দকের মাননীয় চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি ও সচিব মহোদয় সলিম রেজা সহ অন্যান্য কর্মকর্তার সাথে এবং BIDA’র এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মহোদয় মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সহ সকলের সাথে অত্যন্ত আনন্দঘন সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশে প্রবাসীদের নানা ধরনের সমস্যা, অধিকার, সমাধান ও প্রবাসে প্রবাসীদের সচেতনতা তৈরী সহ নানা বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলাপ আলোচনা ও মতবিনিময় করেন।

অনেক সমাধানও খুঁজে বের করার মধ্যদিয়ে এবং ভবিষ্যতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সমস্যা ও সমাধানে উত্তরণের জন্য পারস্পরিক সহযোগীতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় ভবিষ্যতে কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিবৃন্দ সূচারুরূপে তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।

‘কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালে’র নেতৃবৃন্দ
অবশ্য প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে দু’দকের মাননীয় চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এবং BIDA’র নির্বাহী চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাতের জন্য পরিকল্পনা পরিষদের আই এম ই ডি’র সচিব আবুল মনচুর মো: ফয়েজউল্লাহ এনডিসি মহোদয় আন্তরিক সহযোগীতা প্রদান করেন। বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে কোন এক সময়ে কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহীরা সকল আলাপ আলোচনার ফলাফল প্রকাশ করবেন বলে জানান।