জাহাঙ্গীর আলম সিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: ২৭ মে, ২০২০ বুধবার লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস মুভমেন্ট ইউকে’র উদ্যোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী’র আরোগ্য কামনায় এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। রাইটস মুভমেন্ট ইউকে’র আহবায়ক অধ্যাপক আব্দুল কাদির সালেহ এর সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুল আলম লিটনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে ভার্চুয়াল কনফারেন্সিংএর মাধ্যমে বৃটেনের বিভিন্ন শহর এবং জার্মানী, ফিনল্যান্ড ও বাংলাদেশ থেকে বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, উলামায়ে কেরাম , কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকগণ অংশ গ্রহন করেন।

দোয়া পূর্ব আলোচনায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর ভূমিকা এবং স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন । তাঁরা বলেন, অশীতিপর বয়সে নিজে কিডনি সমস্যা নিয়েও করোনা প্যানডেমিক মোকাবেলায় দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তড়িৎ ব্যবস্থা নিয়ে গণস্বাস্থ্যের করোনা টেস্টিং কীট উদ্ভাবনকে অসামান্য দেশপ্রেম ও জনস্বাস্থ্য সেবার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম অঙ্গীকারের ফল বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, গণস্বাস্থ্যের করোনা কীট নিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানর আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত । আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা গভীর ভাবে ডা. জাফরুল্লাহকে হেনস্থা ও অপমান করার প্রশাসনিক দৌরাত্ব লক্ষ্য করছি। বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসনের ভূমিকাকে আমাদের কাছে নিতান্ত বাড়াবাড়ি ও উদ্দেশ্যমূলক মনে হয়েছে। তাঁরা স্পষ্ট করে বলেন, ওষুধ প্রশাসনের কাজ জনস্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ন্ত্রণ, বাধাগ্রস্থ করা নয়। প্রতিদিন বিনা টেস্টিংএ অগণিত মানুষ মারা যাচ্ছে, অথচ গণস্বাস্থ্যের সনাক্ত করন কীট টেস্টিংকে এক অজানা কারণে তারা পদে পদে বাধাগ্রস্থ করছে। আমরা কঠোর ভাষায় বলতে চাই , ওষুধ প্রশাসনের ভূমিকায় আমরা খুবই বিরক্ত। এখন থেকে বাংলাদেশে বিনা টেস্টিং এ কোন রোগী মারা গেলে এর জন্য ওষুধ প্রশাসন এবং তদসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে।
সভায় ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও তাঁর প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয় ।পরিশেষে ডা. চৌধুরী সহ করোনা ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত বিশ্বের সকল মানুষের রোগ মুক্তি এবং করোনা প্যানডেমিক থেকে আশু পরিত্রাণ চেয়ে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়। অতিথিদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই, সাবেক রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী, শিল্পপতি ড. ওয়ালী তসর উদ্দীন এমবিই, শিক্ষাবিদ সৈয়দ মামনুন মোর্শেদ,পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাদাত হোসাইন, ভয়েস ফর জাস্টিস এর সেক্রেটারী কে এম আবু তাহের চৌধুরী, নিউহ্যাম কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার নাজির আহমদ, জার্মানী থেকে ইন্জিনিয়ার আবুবকর সিদ্দিক, লেখক গবেষক ড. এম এ আজিজ, মানবাধিকার নেতা মাহিদুর রহমান, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমেদ, ফিনল্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ইন্জিনিয়ার শাহিদ হোসাইন, ব্যারিষ্টার আব্দুল মজিদ তাহের, ইমাম মাওলানা সাদিকুর রহমান, বাংলাদেশ থেকে গোলাম সবুর এফসিএমএ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক মোস্তফা আনোয়ার খান, জার্মানী থেকে আলমগীর হোসাইন, সাংবাদিক শেখ মুহিতুর রহমান বাবলু, কমিউনিটি নেতা কারী আব্দুল মুকিত আজাদ, টিভি ভাষ্যকার হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির, ইমাম মাওলানা শাহ মিজানুল হক, আইনজীবি লিয়াকত সরকার, মিডল্যান্ড মুসলিম এসেসিয়েসনের সচিব এনামুল হাসান সাবীর, সাংবাদিক ও মনোবিদ নাজমুল হোসেন, চ্যারিটি সংগঠক জয়নুল আবেদীন, সাংবাদিক ও গীতিকার শিহবুজ্জামান কামাল, ইমাম মাওলানা তায়ীদুল ইসলাম, রাইটস কনসার্ন এর আহবায়ক শফিক খান, মানবাধিকার কর্মি মাসউদুর রহমান, সাংবাদিক আমীমুল আহসান তানিম, কমিউনিটি এ্যাক্টিভিষ্ট মাসুদ রহমান প্রমুখ ।