মৌ মধুবন্তী, মন্ট্রিয়াল, কানাডা: কানাডার মন্ট্রিয়ালে একুশের বইমেলার এবারের শিরোনাম ছিলো দূরের একুশ। এবার বাংলা একাডেমীর অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে কাছে পাইনি, তাই দূরের একুশই আমাদের জন্য অভাবনীয় আনন্দের। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে মন্ট্রিয়ালের এই বইমেলায় যাচ্ছি গত তিনবছর ধরে। প্রথমত আয়োজক ছোট ভাই জিয়া ও রানা দুজনেই ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী এবং তারা স্বক্রীয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিল। আবার রানা আবৃত্তি, উপস্থাপনা ইত্যাদিও করছে। তাই একটা আন্তরিক মিল তো আছেই। বন্ধু বৎসল এই দম্পতিকে সহযোগীতা করতে মন্ট্রিয়ালের অন্যান্য আবৃত্তিকার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে যেতেই ইচ্ছে করে। গত দুবছর আমার সাথে ছিল অটোয়া থেকে কবি বন্ধু সুলতানা শিরিন সাজি। বন্ধু অন্তঃপ্রাণ ইশরাত আলম এবারের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বইমেলায় প্রথম বছর দেখা হয়েছিল ঔপনাস্যিক সেলিনা হোসেনের সাথে, দ্বিতীয় বছর দেখা হয় কবি আইরিন জামানের সাথে, এবছর দেখা হলো নাট্যব্যক্তিত্ব ফাল্গুনী হামিদ ও সংগীত লিজেন্ড কাদের কিবরিয়ার সাথে। এইবার সাজিকে খুব মিস করেছি। ফাঁকা ফাঁকা লেগেছিল। আরো একটা ব্যাপার আছে। শিল্পী শিখা আক্তারীর সাথে এক গাড়িতেই প্রতি বছর মন্ট্রিয়াল বইমেলায় যাচ্ছি। এটাও একটা অবিমিশ্র আনন্দের বিষয়। আগের দুবছর সাথে ছিলেন কবি ইকবাল হাসান । এই বছর তিনি আছেন ঢাকার বইমেলায়। এইসব আড্ডার কারণেই তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আনন্দ পাই।

এবার বলি দ্বিতীয় কারণ, ঢাকার বইমেলায় বই বেরিয়েছে, সেই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে দূরের একুশ বই মেলায়। আরো তিনজন লেখক ও কবি
অপরাহ্ণ সুসমিতো, সদেরা সুজন এবং বিদ্যুৎ ভৌমিকের সাথে, সেটাও একটা আকর্ষণ। আমার বই আমি এক খন্ড বাংলাদেশ –এর মোড়ক উন্মোচন করেছেন যৌথভাবে মাননীয় হাই কমিশনার মিজানুর রহমান এবং নাট্যব্যক্তিত্ব ফাল্গুনী হামিদ। একুশের স্বরচিত কবিতার আবৃত্তি তো প্রতি বছরই করি এই বইমেলায়। এবার স্বরচিত কবিতার সাথে বাংলা একডেমীর মহাপরিচালক প্রিয় কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজীর একুশ ছড়াটিও আবৃত্তি করেছি।
মেলার উদ্বোধনে বরাবর অটোয়া থেকে মাননীয় হাইকমিশনার মিজানুর রহমান থাকেন। মনে হলো এক কপি প্রবাস মেলা নিয়ে যাই সাথে করে। যেমন মনে হলো তেমনি সুন্দর করে প্যাকেটে ভরে নিলাম প্রিয় প্রবাস মেলা। কিন্তু আমার মেডিসিন নিতেই ভুলে গেছি। তাতে কষ্ট পেলেও মন খারাপ হয়নি এই জন্য যে, মাননীয় হাই কমিশনার মিজানুর রহমান কে দেখা মাত্রই বললাম, আপনার জন্য একটা উপহার আছে, বলেই প্রবাস মেলা তুলে দিলাম উনার হাতে এবং বললাম, বাংলাদেশ থেকে নিরলস পরিশ্রম করে ও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে প্রিয় টিভি উপস্থাপক ও আবৃত্তিকার মামুন ইমতিয়াজ এই ম্যাগাজিন প্রকাশ করছেন গত ৫ বছর ধরে। ১৫ জানুয়ারি ২০২০ পত্রিকাটি ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করলো। এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে আমাদের প্রজন্ম গৌরব ডলি বেগমের কভারেজ। তিনি হাসিমুখে ম্যাগাজিন হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখে সানন্দে গ্রহণ করে ছবিতে অংশ নিলেন। এটাই আমরা চাই। প্রবাস মেলা’র ব্যাপক পরিচিতি ও সমর্থন বাড়াতে আমরা আরো নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে পারি।
আমরা প্রবাসীরা প্রবাস মেলাকে ভালোবাসি তারা সবাই মিলে একটা উদ্যোগ নিয়ে প্রবাস মেলা‘র সার্বিক উন্নতির জন্য একটা ফান্ড তৈরী করতে পারি। কানাডায় থেকে আমি প্রতিনিয়ত নিউজ এবং আন্তরিক সহযোগিতা দিয়ে সমর্থন করছি। কিন্তু মানি ম্যাটার্স। তাই আসুন প্রিয় প্রবাস মেলা’র জন্য আমরা আমাদের সুন্দর হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের জন্য গেটওয়ে এই পত্রিকার পাশে দাঁড়াই। টরন্টো থেকে প্রবাস মেলা চলে গেছে মন্ট্রিয়াল হয়ে অটোয়াতে। আগামীতে আরো অনেকের কাছেই যাবে বলে আশা রাখি। প্রবাসমেলা প্রবাসীদের কথা বলে। প্রবাস মেলা’র সকল কর্মকর্তার জন্য শুভকামনা।