আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: ইতালির রোমসহ ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও চাহিদা রয়েছে। এক সময় বাংলাদেশি পোশাকের বিক্রয় স্থল কেবল ইউকেতেই বেশি ছিল । আমাদের ১লা বৈশাখ, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬শে মার্চ, ১৬ ই ডিসেম্বর এবং আমাদের দুই ঈদে বাংলাদেশিরা বেশিরভাগই বাংলাদেশি পোশাক পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ যেমন করে, তেমন আনন্দও পায় ।
বাংলাদেশের সাথে ইতালির বুটিকস গুলোর সালোয়ার-কামিজ শাড়ির মান যেমন ভালো তেমনি দাম খুব একটা বেশি নয় তাই বাংলাদেশি মেয়েরা, মহিলারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব বুটিকস গুলো থেকে নানান রঙের শাড়ি সালোয়ার-কামিজ গহনা পাঞ্জাবি কিনে থাকে। মাঝেমধ্যে লক্ষ্য করা যায় ইতালিয়ানরাও তাদের বিয়ে কিংবা জন্মদিনে বাচ্চাদের আকিকাতে বাংলাদেশি বুটিকস গুলো থেকে পোশাক কিনে থাকে । তাদের কাছে আমাদের দেশীয় জামাকাপড় খুব প্রশংসনীয়, তাদের ভাষায় অতুলনীয় অসাধারণ সৌন্দর্য আমাদের বাংলাদেশের পোশাক।
বিভিন্ন বুটিক্সের কর্ণধারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা যখন একটি পোশাক বিক্রি করে তাদের হাতে লাভ খুবই কম থাকে, কারণ এই ড্রেসগুলো যখন তারা বাংলাদেশ অথবা ইন্ডিয়া থেকে নিয়ে আসে তখন ট্যাক্স সহ নানা রকম খরচ অনেক চলে যায় । তাই তারা অনুরোধ জানিয়েছে যদি বাংলাদেশ সরকার প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের, (বিশেষ করে যারা বুটিকস এর সাথে জড়িত আছে) সুবিধার কথা ভেবে এসব বুটিক্সের পোশাক এবং গহনাগুলো আনার ব্যাপারে যদি আরো একটু নমনীয় থাকতো তাহলে তারা হয়তো একটু লাভবান হতো, যেহেতু বাংলাদেশ থেকে তারা, এখানে বেশি ট্যাক্স পে করে কোন রকম ফাঁকি দেয়ার উপায় নেই । শপগুলোতে যদি একজন কর্মচারী রাখা হয়, তার বেতন মিনিমাম ১১শত ইউরো এবং তার কন্টাকের খরচ এবং তার ট্যাক্স সহ বেতন আরো বেশি পড়ে যায় দেখা যায় মালিকের লাভ তেমন একটা থাকে না। তবুও বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এসব ব্যবসায়ীরা এখনও খুবই অল্প লাভে ব্যবসা গুলো করে যাচ্ছে ।

ইতালিতে অনেকদিন থেকেই বিশ্ব মন্দা ভাব চলে আসছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশীরাই ধৈর্যের সাথে নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে । বাংলাদেশি পোশাকের বুটিকস ছাড়াও বাংলাদেশী প্রবাসীরা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ব্যবসায় ইটালিতে খুবই ভালো করছে । তাই সরকারের কাছে অনুরোধ থাকলো দূতাবাসের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবসাকে আরো বেশি প্রসারিত করার জন্য এবং ব্যবসায়ীদেরকে ব্যবসা খাতে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।
উল্লেখ থাকে যে, ইতালীর বিভিন্ন শহরেও অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের সাথে বাংলাদেশী প্রবাসীরা ছোট ছোট মিনি মার্কেট, সুপার মার্কেট গড়ে তুলেছে। এইসব শপগুলোতে সাধারণত বাংলাদেশের আগোরা স্টাইলে, প্রায় সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায় । বর্তমানে ইতালীতে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দেশের তৈরি পোশাকের মালিকদের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে । ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও চীনের তৈরি পোশাকের বাজার এক সময় তাদের দখলে ছিল, কিন্তু বর্তমানে এসব দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পাল্লা দিয়ে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে বাংলাদেশি পোশাকও বিক্রি হচ্ছে।
ইতালির রোমে Via Tuscolana 695 মেট্রো নুমিদিও কোয়াদরাতো (গ্যালারি) বক্স নং ৩৫ এ নিত্যনতুন ডিজাইনের রুচিশীল পোশাকের বিপুল সমাহার নিয়ে শুভ উদ্বোধন হয়ে গেলো Khan’s বুটিক এর শোরুম। এখানে শুধু বাংলাদেশি নয়, ইন্ডিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে রপ্তানিকৃত পোষাক সুলভ মূল্যে ক্রয় করতে পারবে ক্রেতা সাধারণ।
২২ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার Khan’s বুটিকসের যৌথ মালিকানাধীন সানজিয়া হক শশি, কাহিনুর খান এর যৌথ পরিচালনায় জিয়াউল হক জিয়া, সেলিনা আক্তার শিলার উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রোমের সামাজিক আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ইতালীয়ান নাগরিক সহ রোমে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন ।
খান বুটিক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেক অতিথি এসময় বলেন আমরা অত্যন্ত আনন্দিত প্রবাসে থেকেও আমরা আমাদের পছন্দ অনুযায়ী বাংলাদেশি পোষাক ক্রয় করে পরতে পারি। এক সময় আমরা বাংলাদেশ থেকে লাগেজ ভরে জামাকাপড় নিয়ে আসতাম এখন আর সেই ঝামেলাটা করতে হয় না। আমরা আমাদের বিভিন্ন জাতীয় দিনগুলোতে নিজেদের পছন্দমত এইসব বুটিকসগুলোতে পোশাক ক্রয় করে থাকি, পাশাপাশি তারা Khan’s বুটিক এর কর্ণধার কে শুভেচ্ছা এবং সাধুবাদ জানান। ।
বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকেই মনে করেন প্রবাসের মাটিতে ‘অল্প মুনাফা, (বাংলাদেশের মতো অনেক টাকা সালামি কিংবা চাঁদা দেয়ার কোন ঝামেলা নেই, উল্লেখ্য ইতালিতে মোটামুটি ১৮শত স্কয়ার ফিটের একটি দোকান নিতে মাত্র দুই চার মাসের এডভান্স দিতে হয়, অথচ বাংলাদেশে এরকম একটি দোকান দিতে মিনিমাম ইতালিয়ান টাকা ২৫/৫০ হাজার ইউরো সালামি দিতে হবে , যা ইতালিতে একেবারে দিতে হয় না । ) তথাপি ন্যায্যমূল্য, নিত্যনতুন ডিজাইন এ টিকসই মান এসব ঠিক রেখে যদি ক্রেতার ভালোবাসাকে পুঁজি করতে পারে তাহলে তারা এগিয়ে যেতে পারবে এবং বিদেশীরাও জানতে পারবে বাংলাদেশের তৈরী পোষাক সম্বন্ধে।
এখানে সব বয়সী নারী, পুরুষ, শিশুদের পোশাক পাওয়া যাবে পরিশেষে খান বুটিকস এর কর্ণধার সকল আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত হওয়ায় অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।