সেলিম আকাশ, আম্মান, জর্ডান: যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে জর্ডানের আম্মানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ৪৯তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর ২০১৯) দূতাবাস প্রাঙ্গণে দিবসের শুরুতেই জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। কার্যদিবসের সূচনা করেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
এসময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও জর্ডানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলায়াত করেন কনস্যুলার সহায়ক মো: মহিউদ্দিন। প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান মো: বশির মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তাগণ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ মুক্তিযুদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভ্রম হারানো সব বীর নারীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বক্তাগণ মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান ও জাতীয় চার নেতার অসামান্য অবদান তুলে ধরেন। দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স জনাব মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন , বাংলাদেশের গৌরবময় অভ্যুদয়ে যে সূর্য সন্তানেরা বঙ্গবন্ধু’র আহবানে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরেছিলেন আমরা কখনই তাদের ঋণ শােধ করতে পারবনা । ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বােনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষায় আমাদের সর্বদাই সচেষ্ট থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সপ্নের সােনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন , তাঁর সফল নেতৃত্ব গুণে বাংলাদেশ যেভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রােল মডেলে পরিণত হয়েছে ।
তিনি আরও বলেন প্রবাসে প্রত্যেক বাংলাদেশিই একজন বাংলাদেশের প্রতিনিধি । তাই এখানে সকলকেই দেশের সুনাম বিনষ্ট হয় এমন যেকোনাে কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে । তিনি জর্ডানের প্রচলিত আইন মেনেই দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে সকলকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান । তিনি যেকোনাে প্রয়ােজনে সবাইকে দূতাবাসের পরামর্শ গ্রহণের অনুরােধ করেন। দূতাবাসের প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান জনাব মাে: বশির এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলােচনা শেষে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশ ও জাতির সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মােনাজাত করা হয় । আলােচনা শেষে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামান্য চিত্র প্রদর্শিত হয় ।