আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি
বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের অধিকার মূলত: এই স্লোগানকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং যৌথ নেতৃত্বের কানেক্ট বাংলাদেশ নামক সংগঠনের পথচলা। এই সংগঠনটির জন্মের কাহিনী কয়েকযুগ আগে থেকে শুরু হলেও মূলত: ফ্রান্স থেকে যাত্রা শুরু। আমাদের মহান জনযুদ্ধের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে পরবর্তীতে ২০১৬ সালে জার্মান কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সংগঠনটি যথানিয়মে প্রবাসীদের জন্য কথা বলে আসছে। বিভিন্নমুখী জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।
‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ প্রবাসীদের পক্ষে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে এ পর্যন্ত অনেকবার কথা বলেছে। ভবিষ্যতেও অনেক দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করার সংকল্প নিয়ে ২০১৮ সালে অনেক দেশের সমন্বয়ক এবং সদস্যদের নিয়ে ইতালি’র রোমে বড় একটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সবার সম্মতিক্রমে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়। সেই গঠনতন্ত্র মোতাবেক ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনটি কার্যক্রম চলে আসছে।

যেমন প্রতিমাসে নিয়মিতভাবে মেসেঞ্জার গ্রুপে সংগঠনের জন্য বিভিন্ন রকম আলোচনা করে আসছে-কিভাবে এই সংগঠনকে সামনে জনস্বার্থে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। প্রবাসীদের ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু কাজ করা যায়।
তবে গত তিন মাস থেকে বাংলাদেশ শাখার সমন্বয়ক এবং আমেরিকা শাখার সমন্বয়কদের একজন ও কুয়েতের সমন্বয়ক মিলে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী নানারকম কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে চেইন অব কমান্ডের তোয়াক্যা না করে সংগঠনের ক্ষতি সাধন করছে। সংগঠনের ভিতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে যা ইতিমধ্যেই কানেক্ট বাংলাদেশের নিয়ম নীতি এবং সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম বলে প্রমানিত হয়েছে।
‘কানেক্ট বাংলাদেশ’র নীতিনির্ধারণী ‘পরিষদ পরিকল্পনা পরিষদ’ এই তিন সমন্বয়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। এই তিন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হলেন বাংলাদেশ শাখার সমন্বয়ক জনাব আব্দুল নূর দুলাল, আমেরিকা শাখার সমন্বয়কদের একজন জনাবা লুৎফা হাসীন রোজী এবং কুয়েত সমন্বয়ক জনাব মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এই তিন সমন্বয়ক অনেকদিন থেকে কানেক্ট বাংলাদেশের সাথে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ করে আসছে এবং কানেক্ট বাংলাদেশের ভিতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অন্যান্য সদস্যদের কে দ্বিধা-দন্দ্বের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন।

এরপর সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিষদ ‘পরিকল্পনা পরিষদ’ সর্বসম্মতিক্রমে এই তিনজনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কেন এইসব সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকবে না-সেজন্য নোটিশ জারি করেছেন এক সপ্তাহের মধ্যে তা জানানোর জন্য। না জানানো হলে তাঁদেরকে কানেক্ট বাংলাদেশের সকল পদ এবং কাজকর্ম থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। এরপরেও তাঁদের কাছ থেকে কোন প্রতিউত্তর না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়কগণের সকলকে অবহিত করে সংগঠনের সকল পদ ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হয়েছে কানেক্ট বাংলাদেশ’র নীতি নির্ধারণী পরিষদ ‘পরিকল্পনা পরিষদ’।
এই তিনজনকে অব্যাহতি দেয়ার পরেও অগণতান্ত্রিক ও গঠনতন্ত্রবিরোধী সংগঠনের নিয়ম নীতি কে তোয়াক্কা না করে তাঁরা এখনও ‘কানেক্ট বাংলাদেশের’নামে বিভিন্ন রকম পোস্ট ফেসবুকের মাধ্যমে দিয়ে যাচ্ছেন। যা জনস্বার্থের বিপরীতে ব্যক্তিস্বার্থসংশ্লিষ্ট।সংগঠনের নীতিনৈতিকতার চুড়ান্ত বরখেলাপ।
কানেক্ট বাংলাদেশ’র পক্ষে সকল প্রবাসী ভাইবোনদের প্রতি সবিনয় আবেদন রইলো-আপনারা এসব ব্যক্তিস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অসাধু লোকজনদের প্ররোচনা থেকে সাবধানে থাকবেন।
উল্লেখ্য যে, এই তিনজনের একজন হলেন জনাব মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। কানেক্ট বাংলাদেশ যৌথ নেতৃত্বে একটি সংগঠন। জনাব মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কানেক্ট বাংলাদেশ’র নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ৫ জন এডমিনকে সরিয়ে দিয়ে তিনি একাই কানেক্ট বাংলাদেশের পেইজটি হ্যাক করেছেন যা যৌথ নেতৃত্বের এই সংগঠনের নিয়ম-নীতি বহির্ভূত কাজ। তাই কানেক্ট বাংলাদেশ’র প্রচার ও প্রসারসহ সকল জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মের স্বার্থে অবশেষে সকল সমন্বয়কদের যৌথ উদ্যোগ কানেক্ট বাংলাদেশ নতুন নামে ‘কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল’ (CONNECT BANGLADESH INTL) ফেইসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। আপনারা যথাশীঘ্রই আমাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পেয়ে যাবেন।আশা করবো এই পেইজে আমাদের সাথে যুক্ত থেকে সত্য ও সুন্দরের জয়গানে সামিল হবেন।
প্রবাসীদের এই সংগঠন কানেক্ট বাংলাদেশয়ের স্লোগান হলো ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের অধিকার’। এর কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সর্বাঙ্গীন সহযোগিতার অন্য কোন বিকল্প নেই। কানেক্ট বাংলাদেশ এখনো অনুধাবন করছে যে, কানেক্ট বাংলাদেশ’র উল্লেখিত তিনজন সমন্বয়ক এখন মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে লেগেছে কিভাবে কেউ প্রবাসী না হয়ে বা কেউ প্রবাসী হয়ে কানেক্ট বাংলাদেশ’র সাথে যুক্ত প্রবাসীদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক প্রতিহিংসামূলক আচরণের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যায় কিংবা ম্যানিপুলেশন করে মিথ্যা রটনার আশ্রয় নিয়েছে।

ইতোমধ্যেই কানেক্ট বাংলাদেশের সমন্বয়কদের কাছে এসব কার্যকলাপের প্রমাণ এসে গেছে। আমি কানেক্ট বাংলাদেশের একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হিসেবে সাবেক এ তিনজন সমন্বয়ককে বিনীত অনুরোধ করবো-প্লিজ মিথ্যে দিয়ে সত্যকে ঢেকে রাখার যত অপচেষ্টাই হোকনা কেনো, সত্য ও সুন্দরের জয় অনিবার্য। আপনাদের বিবেকের কাছে এবং কানেক্ট বাংলাদেশ’র কাছে আর কত নিজেদের ছোট করবেন!!সংগঠন করুন।সংগঠনের নিয়ম নীতি মেনে নিজেদের নৈতিকতাকে সমুন্নত রাখুন। প্রকৃত ঈমানদারিত্বের সাথে একটি সংগঠন করতে হলে নৈতিকতার বিকল্প নেই। প্রয়োজনীয় সেই নৈতিকতাকে নষ্ট করে নিজের আত্মার কাছে সংগঠনের কাছে আর ছোট করবেন না।
কারণ আপনারা ভুলে গেছেন যে, গত তিন বছর থেকে আপনাদের সাথে আমরা ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’র প্রবাসীদের জন্য একই টেবিলে কথা বলেছি। আপনারা ভালো করে জানেন-কানেক্ট বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত। আমরা যখন কানেক্ট বাংলাদেশ’র যুক্ত হই-তখন থেকেই কানেক্ট বাংলাদেশ’র যৌথ নেতৃত্বকে ভালোবেসে কানেক্ট বাংলাদেশ’র সাথে যুক্ত হয়েছি। তা কি এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলবে? অবশ্য ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য রক্ত সম্পর্ক অস্বীকারের নজীরও আজকাল যত্রতত্র মেলে। কিন্তু কানেক্ট বাংলাদেশের সকল সমন্বয়কগন ভুলেন নি। কাজেই প্রিয় প্রবাসী দেশপ্রেমিক জনগণের স্বার্থে, সংগঠনের স্বার্থে সাংগঠনিক নিয়মনীতিকে সশ্রদ্ধ চিত্তে মেনে নেওয়াই উত্তম নয় কি?
তাই কোন কথা বলতে বা কোন কথা লিখতে সাংগঠনিক নিয়মনীতি ও নৈতিকতা যেনো লংঘন না হয়-তা স্মরণ রাখতে হবে। যথাযথ তথ্যসূত্র ও প্রমান ব্যতিরেকে নিম্নমানের ও নিম্নরুচিসম্পন্ন প্রপাগান্ডা চালানো যে বড় ধরণের আত্মপ্রবনঞ্চনা তা যেনো ভুলে না যাই।কানেক্ট বাংলাদেশ’য়ের মূল ধারার সমন্বয়করা এবং সদস্যরা কখনোই কানেক্ট বাংলাদেশ’র গঠনতন্ত্রের বাইরে একটি কথাও যেমন বলেন না। সাংগঠনিক নিয়মে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সাহস এবং সততা থাকলে সামনাসামনি মোকাবিলা করুন। নীতি এবং নৈতিকতা বজায় রেখে মোকাবিলা করুন।
(লেখক, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ ইতালি)