শহিদুল ইসলাম
জগতের চাকচিক্য প্রকৃতিগত হতে পারে আবার মানবসৃষ্ট হতে পারে। তবে দু’টোর সমন্বয়েই পূর্ণতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। মানুষ তার আনন্দ-উচ্ছ্বাসতা এবং ভোগ্য সামগ্রীকে রকমারি করে জীবনের চাহিদাকে বহুমাত্রিক করেছে। বিলাস বহুলতা এবং আরাম আয়েশ দিন দিন বর্ধিত করার জন্যে জীবনশ্রীকে সহজসাধ্য করেছে। ফলে আবিষ্কার জগতে বিস্ফোরণ ঘটা অবাক হওয়ার কিছু নয়। আদিম মানুষ তার চেহারা, চুল, নখ থেকে শুরু করে পরিধানের বস্ত্র পর্যন্ত বন্য দসায় ছিল। ধীরে ধীরে সভ্য মানুষ তার দৈহিক সৌন্দর্য্যকে বর্ধনের জন্যে বিভিন্ন প্রকার প্রসাধন সামগ্রী আবিষ্কার করতে শিখেছে। কেশ থেকে শুরু করে পরিধানের পোশাক পর্যন্ত চাকচিক্যের দিকে যাচ্ছে। মডেলিং এর মাধ্যমে নারীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে ভোগ্যসামগ্রী এবং অন্যদিকে রমনীয় সৌন্দর্য এবং সহজ জীবনযাপন বর্তমান সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ উল্লসতা এবং স্বচ্ছন্দের মধ্যে থেকে ভুলে যায় তার পরিণতির কথা। এমনকি সর্বশ্রেষ্ঠ সত্য মিথ্যার কথা পর্যন্ত ভুলে যায়। আনন্দ, উচ্ছলতা জগতে যত বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের জীবন দুনিয়ায় টিকে থাকা তত দুরূহ হচ্ছে।
জগতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, মরণব্যাধি, দুর্ঘটনা এবং আত্মহত্যার পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পেতে চলেছে। মানুষ যখন জাগতিক চাকচিক্যের ভেতর থেকে নিজেকে মনে করে যে, তার আর দুনিয়া ছেড়ে যেতে হবে না তখন তার কাছে জাগতিক ভোগ্যসামগ্রী এবং সৌন্দর্য চূড়ান্ত এবং স্থায়ী মনে হয়। কিন্তু হঠাৎ করে প্রাণ পদীপ নিভে নিরাশার অন্ধকারে যাত্রাই প্রমাণ করিয়ে দেয় যে, মানুষ ভুলের ভেতর ছিল। এই ভুল শিক্ষা থেকে নিস্কৃতি পাওয়া বড় কঠিন কাজ। আর এই কঠিন কাজকে দুনিয়ার বুকে যারা সহজ করতে পেরেছে তারাই হয়েছে মানবজাতির আলোকবর্তিকা। দুনিয়ায় থাকা না থাকা অথবা সৃষ্টি জগৎ টিকে থাকা অথবা ধ্বংস প্রাপ্ত হওয়া সব কিছুই প্রেম ভালোবাসার ফলাফল। ভালোবাসা যতদিন থাকে ততদিন সম্পর্ক থাকে। ভালোবাসা শেষ হয়ে গেলে বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে ওঠে। নারী পুরুষের প্রেমলীলার কাহিনী প্রাচীনশাস্ত্র বিলুপ্তির হাত থেকে রেহাই করে বিস্তার করতে সাহায্য করেছে। এই ভালোবাসার খেলা শুধু মানসিক দিক দিয়ে নয় বস্তুগত বিশ্ব এবং সমস্ত কিছুর অস্তিত্ব থেকে শুরু করে বিরাজমান অবস্থা পর্যন্ত সার্বিক প্রেমের বলয়ে আবদ্ধ। আর এই প্রেম সৃষ্টির পেছনে আকর্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যদি কোন বস্তু আকাশের দিকে ছুড়ে দেই তাহলে তা আবার মাটির দিকে চলে আসে। এখানে মধ্যাকর্ষণ শক্তি বিদ্যমান। আবার গ্রহ নক্ষত্রগুলো আকাশ থেকে যে ছিটকে পড়ছে না অথবা সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে না এর প্রধান কারণ হল মহাকর্ষণ। এই আকর্ষণের ফলে ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। আর এই ভালোবাসা টিকে থাকতে সাহায্য করে। মাটির কডুকায় কডুকায় ভালোবাসা, রাজা-প্রজার ভালোবাসা দেশের প্রতি ভালোবাসা লক্ষ্য করা যায়। যদি ভালোবাসা না থাকে গ্রহের সাথে গ্রহের সংঘর্ষ হবে, ফলে তার বোটা থেকে ছিটকে পড়ে যাবে স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া বিবাদ লাগবে, রাজা আর এক রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। তদ্রুপ দেশের প্রতি যদি ভালোবাসা না থাকে, দেশপ্রেম না থাকে তাহলে দেশের ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে। সুতরাং জগতে যদি আমরা মানুষের পদচারণা দেখতে চাই তাহলে সৃষ্টি জগৎ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। গোটা সৃষ্টি জগৎ যেমন ভালোবাসার টানে ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে না তদ্রুপ মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যদি থাকে তাহলে শান্তির জন্যে সংগ্রাম করা লাগবে না। কারণ শান্তিতে থাকাই হবে মানুষের স্বভাব।

সৃষ্টি জগৎ এক মহারহস্যপুরী এটা অনুধাবন তারা করতে পেরেছে যারা নাকি চাক্ষুষমান। হেগেল, মার্কস নয় শুধু অনেকেই সমন্বয়ের কথা বলেছেন। কিন্তু রুমী বিরুদ্ধভাবাপন্ন এদের মধ্যে ভালোবাসা থাকার কারণে সমন্বয় হতে পেরেছে যার মাধ্যমে তিনি জাগতিক বিকাশকেও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কারণ দ্বন্দ্ব, সংঘাত, বিবাদের মাধ্যমে এখনও একত্রিত হওয়া সম্ভব নয় যদি না তাদের মধ্যে প্রেম থাকে। প্রাচ্যের চিন্তাবিদ বলেন, “সৃষ্টি ও তার টিকে থাকা ভালোবাসার ফলাফল, ধ্বংস তার উল্টোটাই বর্তমান।
মানুষের বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের স্বাধীনতা নেয়া হয়েছে। তবে স্বেচ্ছাচারিতা স্বাধীনতার অর্থকে ম্লান করেছে। স্থান-কাল-পাত্রের উর্ধ্বে থেকে অখন্ড মানবতার দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাবমুক্ত কোন বিষয় যদি সুস্থ মন দ্বারা গৃহীত হয় তাহলে সেটা সর্বজনীন আদর্শে রূপ নিতে পারে। ইন্দ্রিয়ের স্বাধীনতাকে যদি সংযম না করা হয় তাহলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেবে।
পাশ্চাত্যের এক চিন্তাবিদ মাছের মত সাঁতার কাটা আর পাখির মত আকাশে উড়ার স্বাধীনতা মানুষকে না দিয়ে জাগতিক সুখকে বিসর্জন দেয়ার কথা বলেছেন। চিন্তাবিদদের এ ধরনের বক্তব্যের পিছনে যৌক্তিকতা যতটুকু আছে তার চেয়ে জীবনের অস্তিত্বের স্বার্থে অযৌক্তিকতার পরিমাণটা বেশি। কারণ অন্যান্য প্রাণী আর গাছ গাছালির মত মানুষ একই শ্রেণীভুক্ত হতে পারে না। মানুষের ভেতর আক্রমণাত্মক মনোভাব, প্রতিশোধের নেশা, না পাওয়ার হাহাকার আর সরণী প্রবৃত্তি তাকে পাশবিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। হাত দিয়ে আপনি যা খুশি করতে পারেন না, আবার মুখ দিয়ে আপনি খেয়াল খুশি মত কথা বলতে পারবেন না। মুখের কথার কারণে জগতে লক্ষ লক্ষ লোক মরার ঘটনা আছে আবার মুখের কথায় মানুষকে সভ্যতার শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার রেকর্ডও আছে। তবে অনুশাসনের মধ্যে কিছু অনুমোদনও দিতে হয় নইলে মানবজীবন অসহায় হয়ে পড়ে। তবে সেটা যদি মানুষের জন্যে বেশি অকল্যাণকর হয় তাহলে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া ভালো। আজ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ভারতীয় উপমহাদেশ শান্তির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ভারতীয় উপমহাদেশকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক এলাকা বলে মন্তব্য করেছিলেন। ভিন্ন মত যে, সংস্কৃতি, বিশাল ও চেতনার দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারত পাকিস্তান। পাকিস্তানের আণবিক বোমার জনক ড. আব্দুল কাদির খান এবং ভারতের বোমার জনক জনাব আব্দুল কালাম। দুই দেশের মধ্যে টান টান উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে বেঁধে যেতে পারে ভয়াবহ সংঘাত।
রুশ বিপ্লব এবং চীন বিপ্লবের সময় মার্কসবাদ আকর্ষিক চেতনা ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ার পর এবং বর্তমান চীন মার্কসবাদ এর দর্শন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। নৈতিকতা বর্জিত যুক্তিবুদ্ধির চর্চা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ধর্মের বিরোধীতা করলে নিজেকে প্রগতিশীল ভাবা যায় কিন্তু বাস্তবে প্রগতিশীল প্রমাণ করা যায় না। ভোগবাদ এবং চাকচিক্যময় বিলাসবহুল জীবন কোন জ্ঞানী ব্যক্তির উদাহরণ হতে পারে না। আলবার্ট আইনস্টাইন ভোগবাদ এবং জাঁকজমকপূর্ণ জীবনকে জীবনের লক্ষ্য বস্তু হিসেবে ভাবেন নি। তিনি ‘Ideas and opinions’ গ্রন্থের ‘The world as I see it’- শীর্ষক প্রবন্ধে বলেন, ‘ভোগবাদ যে নৈতিক আদর্শের কাঠামো খাড়া করে তাকে আমি শূকরের খোঁয়াড় বলে অভিহিত করি। যেসব আদর্শ আমার জীবন পথে আলো জ্বালিয়েছে এবং আনন্দের সঙ্গে জীবন যাপনে সাহস যুগিয়েছে যে গুলো হলো সহানুভূতি, সৌন্দর্য ও সত্য। সমমনা লোকদের সঙ্গে আত্মীয়তাবোধ আর বাস্তব জগতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক না থাকলে এবং শিলাকণা এবং বিজ্ঞানের জগতের চির অধরাকে ধরার নিরন্তন চেষ্টা না থাকলে জীবন আমার কাছে অন্তঃসংসাশূণ্য মনে হতো। গতানুগতিক জীবন ধারার মানুষ যা কিছুর জন্য প্রয়াসপর থাকে। যেমনÑসম্পত্তি, ক্ষমতা, জাঁকজমক সেগুলোকে সব সময় আমার কাছে অবজ্ঞাযোগ্য বলে মনে হয়েছে।’

দুনিয়ায় সোরগোল থেকে এবং হানাহানি থেকে মানব সমাজকে উদ্ধার করতে হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকতে হয়। আজ বিশ্বে সহযোগিতার পরিবর্তে প্রতিযোগিতা, ভ্রাতৃত্বের পরিবর্তে শত্রুতা, মানবিক সম্পর্কের পরিবর্তে বাহ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুঁজির দাপট এবং মুনাফা লাভের পাল্লা চলছে। হতাশা এবং সংশয় মানব সমাজকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজ আত্মকেন্দ্রিকতাবাদ, স্বার্থবাদ, উপনৈতিকবাদ পদধ্বনি শুনাচ্ছে। তবে অন্যায় প্রতিরোধ এবং আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধকে অনুমোদন দেওয়া যায়। খামাখা রক্তপাতকে বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির কথা স্মরণীয়। দ্বন্দ্ব সংযত, নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার অহিংসা নীতি গ্রহণীয় মতাদর্শ। দর্শনগত দিক দিয়ে ত্রুটি থাকলে ইহার ফলাফল হতাশাব্যঞ্জক হওয়া স্বাভাবিক। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রও অহিংস নীতির কথা বলেছিলেন। Nwe York থেকে প্রকাশিত ‘Applied Ethics: A Multicultural Approach – গ্রন্থে Larry May and Jill B Delston বলেন যে, জেল থেকে পাঠানো চিঠির বিশ্লেষণে আমরা লুথারের অহিংস আন্দোলনকে চার পর্যায়ে বিভক্ত হতে দেখি। যেমন- (১) নির্ধারণ কর যে অবিচার হচ্ছে (২) অবিচার নিরসনে আলাপ আলোচনা কর (৩) একটি শুদ্ধ প্রক্রিয়া যা ঘৃণা ও প্রতিশোধের বিরুদ্ধে শক্তভাবে কাজ করে (৪) সরাসরি অহিংসা কাজ।
যুদ্ধ থেকে মানব জাতিকে বাঁচানোর জন্য দার্শনিক আর এম হেয়ার এবং বাটার্ন্ড রাসেল চিন্তা করেছিলেন। অর এম হোয়ার জাতীয়তাবাদ এবং গোঁড়ামীকে যুদ্ধের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। উগ্রজাতীয়তাবাদের কারণেই হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সূচনা করেন। বাটার্ন্ড রাসেল যুদ্ধ থেকে মানব জাতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য বিশ্ব সরকারের ধারণা প্রচার করেন। এই সরকারের হাতে সামরিক ক্ষমতা থাকবে একচ্ছত্র। তবে এই সরকার যদি বিপজ্জনক হয় তাহলে আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসক রাষ্ট্র। এই ধরনের স্বায়ত্ত্বশাসন সমাজে হবে বলে তিনি মনে করে না তার জন্য শক্তি প্রয়োগও করতে হতে পারে। এ ধরনের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধতে পারে। তাই এ ধরনের সরকার অনেকে অবাস্তব বলে আখ্যায়িত করে থাকেন।
শান্তির জন্য পূর্ব সত্য হল সত্যজ্ঞান। যে জ্ঞান লাভ করার পর একজন ব্যক্তি আচরণগতভাবে সংযত হতে বাধ্য থাকে। এই জ্ঞান যদি প্রতিটি মানুষের মধ্যে থাকে তাহলে হাঙ্গামা এবং দাঙ্গা মুক্ত হবে বিশ্ব সমাজ। গ্রীক মহাগুরু সক্রেটিস তাই বলেছিলেন- Knowledge is virtue and virtue is knowledge.”
পূণ্যই জ্ঞান এবং জ্ঞানই পূণ্য। একজন মানুষ যদি জ্ঞানী হয় তাহলে তিনি পূণ্য থেকে নিজেকে গাফিল রাখতে পারেন না। আর জ্ঞানটা হতে হবে সত্যের জ্ঞান। কারণ একজন ব্যক্তি অনেক কিছু জানেন। কিন্তু যা জানেন তা যদি ভুল হয় তাহলে তিনি মূর্খ। আর একজন ব্যক্তি সত্য জানেন কিন্তু মানেন না তাহলে সেও মূর্খ। মানুষকে সত্যবাদী হতে হবে এবং কাজে কর্মে সেটায় প্রমাণ রাখতে হবে, তিনিই হবে পূণ্যবান এবং জ্ঞানী। পৃথিবীর যারা সৃষ্ট মনীষী তাদের কাজ ছিল আগে মানুষকে তৈরী করা তারপর রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে যাওয়া। মানুষ যদি তৈরী না হয় তাহলে রাষ্ট্রে পদে পদে বিপর্যয় ঘটবে। আর যদি জাতি তৈরী হয় তাহলে শান্তির জন্য সংগ্রাম করা লাগবে না। শান্তিতে থাকাই হবে তখন সমাজবাসীর ধর্ম। বিশ্ব শান্তির জন্যে বিশ্বের চিন্তাবিদরা যে সমস্ত কথা বলেছেন তার ভেতর আইনস্টাইনের কথা উল্লেখযোগ্য। মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মতে মানুষ যদি শান্তিতে থাকতে চায় তাহলে একটা অতি শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করতে হবে যার কথা শুনতে সবাই বাধ্য থাকবে। ইঙ্গ মার্কিন যদি পারমাণবিক বোমা ফাটিয়ে সাম্রাজ্যবাদী নীতির মাধ্যমে পৃথিবীর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে যেয়ে কোটি কোটি মানুষ মারা শুরু করে দেয় তাহলে তাদের শায়েস্তা করার মত কোন শক্তি পৃথিবীতে বর্তমানে নেই। তারা বস্তুতান্ত্রিক ভোগবাদী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে নৈতিকতা বর্জিত সভ্যসমাজে পরিণত হয়েছে, যার পরিণতি ভয়াবহ! মহাবিজ্ঞানী যে সংগঠনের কথা বলেছেন তার দ্বারা দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তবে পরিপূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষে তার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বস্তির শিক্ষা গোটা মানবজাতিকে উপহার দিয়েছেন। এই কর্তৃপক্ষের পরিচয় দিতে যেয়ে তিনি সমস্ত অক্ষমতা থেকে মুক্ত একচ্ছত্র বিচার এর অধিকারী এবং সমস্ত সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র অধিপতির পরিচয় দিয়েছেন যার কাছ থেকে সকলের প্রত্যাগমন করতে হবে।
জবাবদিহিতা এবং শাস্তির ভয়ে, মানুষ মূল্যবোধ লালন এবং ইন্দ্রিয় সংযম করতে বাধ্য হয়। আর মানুষের যদি জবাবদিহিতা না থাকে তাহলে অতি কর্তৃত্ব ও ভোগের আশায় যা খুশি তাই সে করবে। যার কারণে সেক্স এবং ভায়োলেন্সের ভয়াবহতার দিকে সে ছুটে চলেছে যা মানবসমাজ এবং সভ্যতার জন্যে হুমকিস্বরূপ। তাহলে মানুষ বাঁচার জন্যে একটু স্বস্তির জন্যে কি করবে? স্বস্তি পরিষদ তো স্বস্তি দিতে পারবে না কারণ সে অন্যের গোলামীর কারণে পুতুলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এমতাবস্থায় জগতের যারা প্রকৃত বন্ধু তাদেরকে রাষ্ট্রসংঘ সম্বন্ধে নতুনভাবে চিন্তার সময় এসেছে।
(লেখক পরিচিতি: প্রাবন্ধিক, প্রভাষক,
দর্শন বিভাগ, সরকারী ইস্পাহানি কলেজ
কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা)।