তপন দেবনাথ, লস এঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে এখন গ্রীস্মকাল চলছে। বাংলাদেশ বর্ষকাল। বাংলাদেশে ৬টি ঋতু বর্তমান থাকলেও এখানে ৪টি ঋতু। তার মধ্যে এখানকার গ্রীস্মকালটি একটু ব্যতিক্রম কারণ লম্বা সময় ধরে শীতকালের পরে গ্রীস্মকালটি লোকজন বেশ উপভোগ করে থাকে। বাংলাদেশের প্রবল বর্ষা এখানে অনুপস্থিত। চির বসন্তের শহর লস এঞ্জেলসে প্রখর সূর্য কিরণের জন্যই শুধু গ্রীস্মকালকে একটু আলাদা করে চেনা যায়। তবে সে সূর্য কিরণও বাংলাদেশের মতো অসহীয় নয়। বছরে ২/১ দিন তাপমাত্রা অসহনীয় হয়, বাকি সময় প্রায় সহনীয় পর্যায়েই থাকে।
এখানের গ্রীস্মকালকে কেন্দ্র করে গত ১০/১১ বছর ধরে কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ‘গ্রীস্মবরণ অনুষ্ঠান’ উদযাপন করে আসছে। যদিও তারা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীস্মকে গিয়ে অনুষ্ঠান করছেন কিন্তু সব আয়োজন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে নিয়েই। বলা যায় এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি সংস্কৃতিরই লালন পালন করা হচ্ছে। 
আমেরিকার নাম শুনলেই অনেকে হয়তো ভেবে থাকে যে এখানকার জীবন যাপন না জানি কতটা সহজ। তবে তা বাংলাদেশের তুলনায় যে অনেক উন্নত তাতে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু পরিশ্রম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। একজন বাংলাদেশি এখানে যে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করে, সময়ের যে মূল্যায়ন করে, নিয়ম শৃংখলা মেনে চলে তা বাংলাদেশে করলে তাকে এখানে আসতে হতো না। বাংলাদেশেই ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারতো। বাংলাদেশে কেন করে না এবং আমিই বা কেন করিনি তার উত্তর আমার জানা নেই।
দেশ ত্যাগ না করলে দেশের প্রতি টান অনুভব করা যায় না। প্রতিটি প্রবাসী তার নিজের দেশকে হৃদয়ে অনুভব করেন। সেই অনুভব থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেও দেশের তরে কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। সেই তাগিদ থেকেইে এই গ্রীস্মবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। অর্থাৎ বিদেশে স্বদেশেরই শিল্প-সংস্কৃতির লালন পালন করা। এ-ধরনের অনুষ্ঠান যেমন নিজেদের শিল্প সংস্কৃতির চর্চা হয় অন্যদিকে বিদেশে স্বদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। সবচেয়ে বড় পাওনা হলো আমাদের নতুন প্রজন্মকে সম্পুক্ত রেখে আমাদের মূল শেকড়ের সাথে সংযোগ রাখা। এ-ধরণের সাংস্কৃতিক আয়োজন কখনেই তার আবেদন হরাবে না।