হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: ৪ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ড. খসরুজ্জামান চৌধুরীর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী । তিনি ছিলেন অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, দক্ষ সরকারী কর্মকর্তা, নন্দিত কথাসাহিত্যিক, মুক্তিযোদ্ধা, সর্বোপরি দেশ প্রেমিক। তিনি ২০১৩ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অংগরাজ্যের ব্যাটন রুজ শহরে নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন।
খসরুজ্জামান চৌধুরীর জন্ম সিলেট জেলার বিয়ানী বাজারে। ১৯৬৬ সালে তিনি তদানিন্তন পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। ৭১ এ কিশোরগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসাবে কর্মরত ছিলেন। স্বাধীনতার পরেই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জেলা ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের হর্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স এবং সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করে লুইজিআনা অংগরাজ্যের সাদার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি, ফিনান্স এবং পাবলিক পলিসি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন।
মরহুম চৌধুরী ছিলেন বাংলা এবং ইংরেজী ভাষার সুলেখক। অর্থনীতি ছাড়াও তার লেখা ছোট গল্প, কবিতা, ছড়া, দেশ ভ্রমণ, কৌতুক প্রভৃতি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রকায় প্রকাশিত হয়েছে। এই নি:স্বার্থ দেশ প্রেমিক এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ড. খসরুজ্জামান চৌধুরী মৃত্যুর সময়ে রেখে যান তার স্ত্রী অধ্যাপিকা তাহমিনা জামান, পুত্র, কন্যা, পুত্রবধু, জামাতা, নাতী-নাতনী এবং বহু শুভাকাঙ্খী। ড. খসরুজ্জামান চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিচিত এবং আপনজনেরা দোয়া করেছেন এবং দেশে বিদেশে মসজিদে দোয়া পাঠ করেছেন। তার শুভাকাংখী এবং পাঠকদের কাছ থেকেও দোয়া চাওয়া হয়েছ।
উল্লেখ্য, ড. খসরুজ্জামান চৌধুরী ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে কিশোরগঞ্জে নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং সংগঠক হিসেবে সাহসী ও অনন্য ভূমিকা রাখার জন্য ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সন্মাননা মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন।