আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: ২০২০ সালের যেকোন সময় ইতালিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বৈধকরণ শুরু করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে সরকার। ৩ ডিসেম্বর ইতালির আইন সভার সিনেট কমিশন এই বিলটি নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০২০ সালে যেকোন সময় এই বৈধকরণ বিলটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে। এই প্রক্রিয়ায় ইতালিতে বসবাসকারী যেকোন অবৈধ ব্যক্তির একটি কাজের চুক্তিনামা থাকতে হবে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন খবর মাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে সরকারি হিসাবে গত ২০১৮ সালের শেষে ইতালিতে ৫ লক্ষ ৩০ হাজার অবৈধ অভিবাসীর তথ্য রয়েছে। বর্তমানে এই সংখ্যা ৬ লক্ষ ৭০ হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কয়েক হাজার বাংলাদেশিও রয়েছে। ইতালির বর্তমান সরকার সাধারণ ক্ষমার আওতায় এই বৈধকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে ২০০২ সালের সাধারণ ক্ষমার আওতায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার অবৈধ অভিবাসী ইতালিতে বৈধ হবার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেইসব নতুন শ্রমিকরা আট বছর পরে এসে একটি জরিপ মোতাবেক ৮৫ শতাংশ কর্মে নিয়োজিত ছিলেন। তারমধ্যে ৩০ শতাংশ বাংলাদেশি অভিবাসী বাঙালি মালিকানাধীন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো বেতনে কাজ করছে । বর্তমানে ইতালিতে বাংলাদেশিদের কাজের চাহিদা অনেক বিশেষ করে ইতালিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে চায়না রেস্টুরেন্টগুলোতে সব বাংলাদেশীদের দখলে, ভালো বেতনে কাজ করছে প্রবাসী বৈধ বাংলাদেশিরা । অবশ্য অবৈধদের বেলায় ভিন্ন, তারা কন্টাকে কোনো কাজ যেমন পায় না তাদেরকে কেউ কাজ দিতেও চায়না কারণ ইতালির সরকার ঘনঘন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কন্ট্রোল করে এবং যারা অবৈধদের কাজ দেয় তাদেরকে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করে ,সেই ভয়ে মূলত বাংলাদেশি মালিকানাধীন কোন প্রতিষ্ঠান কোন ব্যবসায়ী বাংলাদেশী অবৈধদের কে কাজ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে না । নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশি ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান যেমন কনফেকশনারী , মিনি সুপার মার্কেট, ফোন সেন্টার সবজি দোকান কিংবামাছ মাংসের দোকান ইত্যাদি বিভিন্ন রকম ব্যবসা বাংলাদেশিরা সততা এবং সফলতার সহিত ইতালির অর্থনীতিতে যোগান দিচ্ছে ।এই সব ব্যবসাগুলো বেশিরভাগেই বাঙালি মালিকানাধীন বাংলাদেশীদের দখলে । ২০১৯ সালে ইতালিতে ২০১৮ তুলনায় অর্থনৈতিক অবস্থা একটু উন্নতি হয়েছে যদিও অনেক বছর থেকেই বিশ্বমন্দার প্রভাব জেঁকে বসে আছে সুদূর ইতালিতে শুধুমাত্র প্রবাসীদের কর্মক্ষমতার এই অর্থনীতির চাকা একটু সচল হয়েছে। যা ইতালির অর্থনীতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে ।
ইতালিতে অন্যান্য প্রবাসীদের তুলনায় বাংলাদেশি প্রবাসীরা এবং চায়নারা অনেক পরিশ্রম করে এবং যেখানে কাজ করছে সেখানেই সুনামের সহিত ভালো করছে। তার উপর বাংলাদেশিদের ছেলেমেয়েরাও লেখাপড়ায় অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের তুলনায় অনেক ভালো এটা বাংলাদেশিদের জন্য একটা ইতিবাচক দিক ।