রোটা: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, রিয়াদ, সৌদিআরব: বাস্তবতায় আমাদের সকলের জীবন-আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জন্মগ্রহণ করি এবং তাহার হুকুমেই আমাদের সবাইকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। আর তারি ধারাবাহিকতায় চলছে সব কিছুই।তবুও হঠাৎ করে প্রিয় বাবার চলে যাওয়াটা অনেক বেদনার, সেই কস্ট কিছুতেই ভুলতে পারিনি আজও। দীর্ঘ ১০ বছর যাবত বাবার আদর পাইনা, বাবার ছায়াও দেখিনা, বাবা আমার ঘুমিয়ে আছেন শাহরাস্তি উপজেলাস্থ পৌরসভা ১১নং ওয়ার্ড এর আলোকিত কৃষ্ণপুর পাটোয়ারী বাড়ির মসজিদের পাশেই, দুচোখে দেখি বাবা মাটির দেয়ালের মধ্যে আছেন, তবুও বাস্তবে নেই বাবা। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ বাবার দশতম মৃত্যু বার্ষিকী।
বাবার সাথে স্মৃতিময় সময় নিয়ে কবিতায় বাবা
যদি হুট করে একা হওয়া যেতো,
আকাশের মতো,
আমি চুপ করে চোখে জল নিতাম,
ইচ্ছে যত
আমি এখনও ভুলের ঘোরে খুঁজি
চেনা পথের বাঁকে
যদি ভুল করে ফের শোনা হতো
প্রিয় সে ডাক আয় বাবা আয়।
আজও অনুতাপে ধুকছে সব
বোবা হাহাকারে চোখ নীরব
বলা হয়ে ওঠেনি তাকে ‘বিদায়’
আজও মন বলে সেই হাত কাঁধে
ছায়ায় জড়িয়ে বাবা
আর শাসনে বারনে তার কথা,
সময়ে সময়ে ।।
আজও উৎসবে কোলাহলে,
খুঁজে যাই চেনা স্বর।
আমি মানতে পারিনা আজও বাবা নেই
আলো আঁধারের মাঝে বাবাকে খুঁজে ফিরি
তবুও তাকে পাইনা-
আট বছর ধরে বাবার খোঁজে
স্মৃতি সব কেঁদে মরে।
২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রিয় বাবা দুনিয়ার সকল মায়া ত্যাগ করে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ১০ বছর হয় বাবা নেই, প্রতিটি মুহুর্তে বাবার কথা মনে পড়ছে, বাবার স্মৃতি গুলো চোখের মাঝে ভেসে ওঠে।
একটি পরিবারের সুখ, শান্তির জন্য বাবা নামক মানুষ গুলি ছুটে চলেন ক্লান্তহীন ভাবে, আয় রোজগার করে এনে তা তুলে দেন সংসারের মূল চালিকাশক্তি, সুখ-দুঃখের প্রধান মা নামক নারীর হাতে, যিনি সন্তানের লেখা পড়া, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি সবাইকে মোকাবিলা করেই সংসার এগিয়ে নেন। সেই মাও নেই এতিম করে ১০ জুন ২০২০ তিনিও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো
আমাদের পরিবারে আমরা ৩ বোন, ৫ ভাই, বাবা, মা সহ ১০ জন তার সাথে আত্মিয় স্বজন-সবাইকে সুখে রাখার জন্য বাবা একাই লড়াই করে চালিয়েছেন, সরকারি একজন কর্মকর্তা ছিলেন, মাস শেষে বেতন আর যে রেশন পেতেন তাই দিয়েই কাটিয়েছেন জীবন অনেক আনন্দে।
বাবার সাথের অনেক বন্ধু রাতারাতি বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন, অনেকেই সম্পদের মালিক হয়েছেন। বাবার সাথে চট্টগ্রাম টেকনিক্যাল সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে ছিলাম আমি, আমার বাবা সবসময় বলতেন, আদর্শগত শিক্ষা জীবন, অন্যের উপকার, সততার সাথে জীবন-যাপন, হালাল ইনকাম, নামাজ, রোজা সহ সকল ভালো কাজের সাথে থাকার নামই জীবন। তোমার ভালো কাজগুলো তুমি আত্মবিশ্বাসের সাথে করে যাবে এতে কেউ আলোচনা করবে আবার কেউ সমালোচনা করবে তা বলে মন খারাপ করে হাল ছেড়ে দিবেনা। যার যে স্বভাব সে তাই করবে এবং বলবে।
তুমি অসত উপায়ে হয়তো অনেক কিছু করতে পারবে, তবে তা মনের সুখ এনে দিবেনা, যত পাবে, মন চাইবে আরও কিছু করি। আর তুমি যদি সৎ উপায়ে আয় করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারো তবেই তুমি সফল। মনে রাখবে- ফুল ঝরে রেখে যায় বৃতি, আর মানুষ মরে রেখে যায় স্মৃতি। ক্ষণিকের জীবনে ভালো কাজের বিকল্প কিছুই নেই।
বাবার শেখানো কথাগুলি পুঁজি করেই আমরা ভাই, বোন সবাই চলছি সেই পথে, আজ সবাই যার যার জায়গায় আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। অনেক টাকা বা অনেক সম্পদ নেই, আমাদের সকলের মাঝে আছে একে অন্যের প্রতি সম্প্রতি, ভালোবাসা আর আন্তরিকতা।
বাবা ছিলেন বটবৃক্ষের ছায়া, নিজের জন্য কিছুই কিনতেন না, তখন আমরা কেউ বুঝতে পারিনি বাবা নিজের জন্য না কিনে, শুধু নতুন জামা কাপড় আমাদের কিনে দিয়েছেন। আমরা নতুন জামা হাতে পেয়ে আনন্দে ভুলে গেছি সব। কেউ বলিনি বাবা তোমার জন্য কি কিনেছো। মা জিজ্ঞাসা করলে মুচকি হেসে বলতেন আমার আছে, আমাকে নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবেনা।
বাবা সবই করেছেন, সবই বলেছেন, সবই দিয়েছেন, বাবাকে যখন আমরা একটু সুখ শান্তিতে রাখার চিন্তা করেছি, সেই অবস্থান হয়েছে, তখনি মহান আল্লাহর হুকুমে বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। যেখান থেকে আর ফিরে আসবেনা। আজ চিৎকার দিয়ে কান্না করতে ইচ্ছে করে বাবা, বাবা বলে।
আজ বাবাকে নতুন জামা ক্রয় করে দেয়ার ক্ষমতা হলেও কিছুই করতে পারছিনা। অথচ বাবা আমাদের পাশের মসজিদ বাড়িতে ঘুমিয়ে আছে নিঝুম নিরালায়, ডাকলেও ঘুম ভাংবেনা।
বাবাহিন জীবন যে কত কস্টের তা আমার মত যারাই বাবাকে হারিয়েছেন, শুধু কেবল তারাই বুঝবেন, বাবা হলেন একটি পরিবার ও সন্তানের জন্য মাথার ছায়া।
যে সকল সন্তান বাবাকে অন্তর থেকে ভালোবাসতে পারেনি তারা বুঝবেনা বাবা কি। আজ নিজেও বাবা হয়েছি, সন্তানের কথা প্রতিটি মুহুর্তে দূরপ্রবাসে বসে মনে পড়ে।
বাবাকে নিয়ে লিখলেও শেষ হবেনা, আর মায়ের কথা তো বলে লিখেও শেষ করা যাবেনা। শুধু সকলের প্রতি একটিই দাবি ও অনুরোধ বাবাকে ভালোবাসুন, মায়ের খেদমত করুন, তাদের সন্মান দিন, তাদের যত্ননীন, সন্তানের জন্য তারাই পীর, ঘরে পীর রেখে অন্যকে পীর মেনে অভিশপ্ত জীবন পরিহার করুন। বাবা, মায়ের চাইতে বড় আপন আর কেও হবেনা, হয়না, হতে পারেও না।
হে আল্লাহ আমার মতো যাদের বাবা-মা দুনিয়ায় বেচে নেই তাদের জান্নাতবাসী করুন। আমিন।