হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: ইউএসএ-এর কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলের বাইরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা যখন তাণ্ডব চালাচ্ছিল, ভেতরে তখন ক্যাপিটেল হিলের সব প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়। দরজার দিকে তাক করে বন্দুক উঁচিয়ে ধরেন নিরাপত্তারক্ষীরা। যেকোনো সময় দরজা ভেঙ্গে ঢুকে পড়তে পারে উগ্র সমর্থকরা। শেষমেশ গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে নিরাপদ ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় সিনেটরদের।
৬ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার এমনই নজিরবিহীন রুদ্ধশ্বাস নাটকীয় পরিস্থিতি দেখল যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা। ক্যাপিটল হিল ভবনের বাইরে যখন তাণ্ডব চলছিল, তখন মার্কিন সিনেটররাও বাইরের দিকে উঁকিঝুঁকি মারছেন বাইরে ঠিক কী হয়েছে, বোঝার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা কোনো দিন ঘটেনি। ফলে তারাও ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কী হয়েছে। তখনো ততটা ‘সিরিয়াসলি’নেননি সিনেটররা। কিন্তু বিষয়টা যে ট্রাম্প সমর্থকদের ‘হামলা’ সেটা স্পষ্ট হয়, যখন একের পর এক দরজা সজোরে বন্ধ করে দিচ্ছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। পরপর ভেঙ্গে পড়ছে দরজা-জানালার কাচ।
ট্রাম্পের রিপাবলিকান সিনেটরদের দিকে কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ-ডাকুন আপনার নেতাকে! তার জন্যই তো এসব হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টা যে ভয়ানক, সেটা সিনেটররা টের পেলেন আরও কিছুটা পরে। ক্যাপিটল হিলের মূল দরজা শুধু বন্ধ করাই নয়, ভেতর থেকে আসবাবপত্র রেখে সাপোর্ট দিয়ে দিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির ফ্লোর ডিরেক্টর কেইথ স্টার্ন বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ আসনে বসে পড়ুন। শান্ত থাকুন। এর মধ্যেই বাইরে কাঁদানে গ্যাসের মতো কিছু একটা ছোড়া হয় হামলাকারীদের আটকানোর জন্য। এবার ঘোষণা, ‘সিটের নিচে রাখা গ্যাস মাস্ক পরে নিন সবাই।’ যেকোনো সময় যেকোনো দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকতে পারে বাইরের আতঙ্ক। গোড়ার দিকে যেটা ছিল কৌতূহলের বিষয়, সেটাই হয়ে দাঁড়াল বিভীষিকা।
শেষ পর্যন্ত আর ঝুঁকি নেননি ক্যাপিটল হিলের নিরাপত্তা অফিসাররা। সিনেটরদের বললেন, সুড়ঙ্গ দিয়ে নিরাপদ কক্ষে পৌঁছে যেতে। সেভাবেই ফাঁকা করা হলো ক্যাপিটল হিল ভবন। হাউস সার্জেন্টকে কোনো এক নিরাপত্তা অফিসারকে নির্দেশ দিতে শোনা যায়, ‘ক্যাপিটলকে আমরা যেন নিরাপদ রাখতে পারি, সেটা নিশ্চিত করুন।’