প্রবাস মেলা ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব অভিযোগ করেছেন- টেলিযোগাযোগ খাতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় তিনি স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠীর রোষানলে পড়েছেন।
সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের টেলিকম লাইসেন্স পলিসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই কিছু মিডিয়া এবং সুবিধাভোগী মাফিয়া চক্র আমাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।’
তিনি জানান, বিটিআরসি ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আন্তর্জাতিক মানের লাইসেন্স পলিসি তৈরির কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও জিএসএমএ’র নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিলুপ্ত লাইসেন্সগুলো বাদ দেওয়া এবং বাংলাদেশে আধুনিক টেলিকম অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফয়েজ বলেন, ‘২০১০ সালে আইএলডিটিএস পলিসির মাধ্যমে এমএনওদের কার্যক্রম সীমিত করে কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, যারা এখনও টিকে আছে এবং বর্তমান সংস্কারের বিরোধিতা করছে।’
নতুন লাইসেন্সিং রিফর্ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসএমই ও আইএসপিদের জন্য “লাইট টাচ” লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে যাতে তারা কিছুটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে সুবিধা পায়। একই সঙ্গে ডেটা সেন্টার, ক্লাউড নীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ডিরেগুলেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ডেটা অবকাঠামোর অনেক স্তরে বিনিয়োগ ছাড়াই যারা ভ্যালু অ্যাড না করে বিপুল অর্থ আয় করছে, তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’
বর্তমানে প্রচলিত কিছু লাইসেন্স কাঠামো যেমন আইসিএক্স ও নিক্স– বিশ্বে কোথাও নেই উল্লেখ করে ফয়েজ বলেন, ‘২০০৭-০৮ সালে বিটিআরসির মনিটরিং দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই স্তরগুলো তৈরি হয় এবং কিছু কোম্পানি কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বসিয়ে কয়েকশ কোটি টাকা আয় করে।’
তিনি জানান, ‘আইসিএক্স থাকার কারণে গ্রাহকের প্রতি মিনিটে কল খরচ বাড়ে। আমরা এমএনওদের প্রতি কল রেট কমাতে বলেছি যেন সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়।’
ফয়েজ আহমদ আরও অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সহজ ও স্বচ্ছ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া চালু করেনি। বরং নিজেদের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভবান করতে বিভিন্ন স্তরের অকার্যকর কাঠামো চালু রেখেছে।’
বিশেষ করে ২০১৩ সালে সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে গঠিত আইজিডব্লিউ অপারেটরদের ফোরাম (আইওএফ)-এর মাধ্যমে প্রায় ১২ বছর ধরে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন খাতে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে সরকারের প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
দুদক নিয়ে বিতর্কিত এক প্রতিবেদনের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি দৈনিকে প্রকাশিত ডিও লেটার দিয়ে দুদকের তদন্ত থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং সেখানে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।’
ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘আমরা টেলিকম খাতে সত্যিকার পরিবর্তন আনতে চাই। ফলে যারা এতদিন এই খাত থেকে অস্বচ্ছভাবে লাভবান হয়েছে, তারা এখনই বেশি চিৎকার করছে।’