প্রবাস মেলা ডেস্ক: সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী প্রতিবেশী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন উড়িয়ে দিলে সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে ১২ বেসামরিক লোক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বাংলাদেশিও রয়েছেন। বাকিরা হলেন এক ভারতীয়, তিন নেপালি, এক ফিলিপিনো, এক শ্রীলঙ্কা ও দুই সৌদি নাগরিক। তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আরব নিউজ ও এএফপি এমন খবর দিয়েছে।
কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিম্যাসি ইন ইয়েমেন বলছে, বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একটি আন্তঃসীমান্ত হামলা নস্যাৎ করে দিয়েছে সৌদি বিমানবাহিনী। একটি বিমানবন্দরে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইরান-সমর্থিত হুতিরা প্রাণঘাতী ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে।
জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ড্রোনটি ধ্বংস করে দেওয়া হলে সেটির খণ্ডাংশ টুকরো টুকরো হয়ে বিমানবন্দরে পড়ে। এতে ১২ জন আহত হয়েছেন।
বিমানবন্দর, বেসামরিক ভ্রমণকারী ও কর্মীদের ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চল আবহা বিমানবন্দরে হামলাটি হয়েছে। এর আগেও সেখানে হামলা চালানো হয়েছিল।
তুর্কি আল-মালিকি বলেন, বিমানবন্দরটি বেসামরিক কাজে ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুসারে যা সুরক্ষিত। রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার পর সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিমানবন্দরটি দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
এক টুইটবার্তায় হামলার দায় স্বীকার করেছে হুতিরা। বলেছে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে ব্যবহার করা হয়, এমনটি একটি বিমানবন্দরকে তারা হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের এ রকম স্থাপনা থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানিয়েছে তারা।
জবাবে সানায় হুতিদের ড্রোন উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। তারা বলছে, সানায় বাস করা বেসামরিক নাগরিকদের বলা হচ্ছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত স্থাপনা থেকে আপনারা নিরাপদ স্থানে চলে যাবেন।
২০১৫ সাল থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিমান হামলা চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট। তখন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক সমর্থিত সরকারকে রাজধানী সানা থেকে উৎখাত করেছিল শিয়া বিদ্রোহীরা।
এরপর থেকে দেশটিতে আরব জোটের বোমায় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেলস্থাপনা লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে প্রায়ই হামলা চালায় হুতিরা।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি হামলা চালিয়েছে তারা। আমিরাতের প্রশিক্ষিত সরকারপন্থী বাহিনীর হাতে যুদ্ধক্ষেত্রে কয়েকটি পরাজয়ের পর হুতিরা এই হামলা চালায়।