শিবব্রত গুহ, কোলকাতা, ভারত থেকে: মায়ানমার ভারতের এক প্রতিবেশী দেশ। মায়ানমারের সাথে ভারতের সম্পর্ক বেশ ভালো। রোহিঙ্গাদের ব্যাপার নিয়ে সারা বিশ্বে মায়ানমার প্রচন্ড চাপে ছিল। গত ৩১ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার মাঝরাতে এক ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেল এই মায়ানমারে। যা ছিল কল্পনার অতীত। মায়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে দিয়ে সেই দেশের শাসনভার দখলে নিয়েছে সেনারা।
মায়ানমারের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, আগামী এক বছর মায়ানমার থাকবে সেনাদের শাসনের অধীনে। সারা দেশ জুড়ে জারি থাকবে এক বছরের জন্য জরুরী অবস্থা। আটকে রাখা হয়েছে মায়ানমারের কিংবদন্তি জননেত্রী তথা স্টেট কাউন্সিলর আং সান সু কি কে। সেনার হাতে বন্দী রয়েছে প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ত সহ অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
তাঁদেরকে এক অজ্ঞাত জায়গায় বন্দী করে রাখা হয়েছে। মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা মিয়াওয়াদি টিভি ও সরকারী রেডিও স্টেশন থেকে এক বার্তা প্রচার করা হয়েছে। তা কি? সেই বিষয়ে আমি কিছু আলোকপাত করছি এখন।
সারা মায়ানমারবাসীকে সংযত থাকতে ও সেনাবাহিনীর নির্দেশ মানতে বলা হয়েছে। মায়ানমারের উপকূলে সদা সর্বদা সজাগ থাকতে বলা হয়েছে সেদেশের নৌবাহিনী ও উপকূল রক্ষী বাহিনীকে।
বাংলাদেশ, চিন ও থাইল্যান্ডের সাথে সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে। সারা মায়ানমার জুড়ে বিরাজ করছে এক থমথমে পরিবেশ। মায়ানমারের অধিবাসীরা হতভম্ব হয়ে গেছে এই ঘটনায়। মায়ানমারের আকাশ পথে নজরদারি চালাচ্ছে সে দেশের বায়ুসেনার কয়েকটি যুদ্ধ বিমান।
সেনা ও পুলিশের যৌথ টহল চলছে ইয়াঙ্গান, মান্দালয়, বাগো প্রভৃতি শহরে। তবে এই সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সারা মায়ানমারে ক্রমশ জনরোষ বাড়ছে। মায়ানমারের সেনাবাহিনী তা টের পেয়েছে ভেতরে ভেতরে। তাই নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত। এজন্য তারা এখন থেকেই নানা রকমের পরিকল্পনা নিতে শুরু করেছে। তৈরি রাখা হয়েছে সেনার রিজার্ভ ব্যাটেলিয়নকে। তবে আর যাই হোক পরিস্থিতি কিন্তু মোটেই স্বাভাবিক নয়। মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। চিনও তাদের মনোভাব করেছে ব্যক্ত। তারা সার্বিক পরিস্থিতির ওপরে কড়া নজর রাখছে। এদিকে নিজেদের সেনাকে সতর্ক থাকতে বলেছে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন সাকি বলেছেন, সাম্প্রতিক ভোটের ফল বদলে ফেলার অথবা মায়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা বরদাস্ত করবে না আমেরিকা। মায়ানমারের সেনা সংযত না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারত বলেছে, অবিলম্বে মায়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করার গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার দাবি জানাচ্ছে ভারত। আং সান সু কি সহ ক্ষমতাসীন দলের সব নেতা নেত্রীদের মুক্তি দিক। ভারত সরকার সেখানকার ঘটনার ওপরে নজর রাখছে।
তবে এই সেনা অভ্যুত্থান কিন্তু দুম করে ঘটনা হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতি বিচার-বিবেচনা করার পরে এটা ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে, এটা রীতিমতো পরিকল্পনা করেই ঘটনা হয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানে জন্য তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে মায়ানমারে- একথা স্বীকার করতেই হবে।