রোটারিয়ান মো: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়:
আমি দুঃখ কে সুখ ভেবে বইতে পারি
যদি তুমি পাশে থাকো
আমি সব কিছু হাসি মুখে সইতে পারি
যদি তুমি পাশে থাকো
একটু বাতাস যদি হয়ে যায় ঝড়
সেই ঝড়ে ভেঙে যদি যায় বাঁধা ঘর
আবার নতুন ঘর বাঁধতে পারি
যদি তুমি পাশে থাকো।
বিশ্ব জুড়ে করোনা এসে পাল্টে গেছে সবি
পাল্টাতে পারেনি অনেকেই
তাদের স্বভাব খানি
তাইতো এখন পৃথিবী জুড়ে
চলছে কোভিড-১৯ খেলা
জানিনা কে যে কখন যাবো চলে
আছে কি ভাই তার হিসাব খানা
বিদায়ী ২০২০ বলে গেছে
সামনে আছে আরও অনেক ঝামেলা।
প্রিয় পাঠক আমি আমার ক্ষুদ্র জীবনে মাঝে মাঝে কিছু লেখার চেষ্টা করে থাকি জানিনা আপনাদের কাছে কেমন লাগে, অনেকেই নেশা হিসাবে নিজেকে নানান পথেই পরিচালিত করে, আর আমি নেশা হিসাবে সাংবাদিকতা, লেখালেখি, নাটক এসব করে থাকি। মহান আল্লাহর বান্দা হিসাবে এবং তার দেয়া জীবন আপনি, আমি, আমরা অবশ্যই ভালো কাজেই পরিচালিত করতে হবে। আমি নইতো কবি, লেখক পরিচিত জন নিজেকে তবুও ভাবি পাঠকরাই আমার আপনজন। যাক কথা না বাড়িয়ে প্রবাসের মাটিতে বসে বিদায়ী ২০২০ এ যা হারিয়েছি আর যা পেয়েছি তাই নিয়েই কিছু সুখ-দুঃখের স্মৃতি কথা তুলে ধরছি স্বল্প পরিসরে অল্প করে।
২০১৯ পৃথিবীর মানুষ আনন্দের সাথে কাজের মাধ্যমে নিজের জীবনকে অতিবাহিত করছিলো, ভালই চলছে সবাই যে যার মতো করে, এরি মাঝে হঠাৎ করেই চায়না নামক দেশ থেকে বায়না ধরে করোনা নামক যন্ত্রণার কারণে মুহুর্তেই বদলে গেলো সব, পাল্টে গেলো দুনিয়া।
কি রাজা, কি গরীব সবার চোখে মুখে আতংক, একটু বেচে থাকার চেষ্টা, অঢেল টাকা আছে কিন্তু বাচার জন্য রাস্তা নাই। বিশ্বজুড়ে মহামারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারে গেলো লাখো মানুষ, দেশে-প্রবাসে রাস্তার পাশে মিলেছে মরদেহ, সেকি যন্ত্রণা, আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে, বাসা, রাস্তার ধারে জুবড়িতে একটু বেঁচে থাকার জন্য সৃষ্টি কর্তাকে ডেকেছেন দিন রাত।
কি অমুসলিম, কি হিন্ধু, কি বৌদ্ধ, কি খ্রীষ্টান ধর্মালম্বীরা সকলের মাঝেই বেঁচে থাকার জন্য সেকি কাকুতি। দেশে দেশে সরকার প্রধানগণ নিজেরাও চলে গেলেন ঘরে ঘরে- আর ঘোষণা দেয়া হলো দেশের সাধারণ মানুষদের বাঁচানোর জন্য সবাই ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, একে অন্যের কাজ থেকে দুরত্ব বজায় রেখেই চলুন। মুখে মাস্ক, হাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে, গরম পানি পান করতে, লেবু চা ইত্যাদি।
দুনিয়ার সকল মানুষ তাই পালন করেছে আজও করছে। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেলো আমার চির সবুজ দেশ বাংলাদেশের মানুষের মাঝে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশের আপামর জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার জন্য বল্লেন, নিরাপদে থাকতে বল্লেন, সাধারণ মানুষের পাশে সরকার আছে, দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে করোনায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা সহ যাবতীয় সাহায্য সহযোগিতা দেয়া হবে, তিনি করেছেনও তাই।
করোনায় কর্মহীন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। অনেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দুঃখের বিষয় হচ্ছে- সরকারের দেয়া ঘোষণা উপেক্ষা করে একশ্রেণির উচ্চাভিলাষী ব্যবসায়ী ভাইয়ারা এক টাকার মাল ১০ টাকা নিয়েছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে, আবার দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেয়র সাধারণ মানুষের জন্য দেয়া সরকারের সাহায্য সহযোগিতাগুলি নিজের মনে করে স্বজনপ্রীতি খাটের নিচে, গোয়াল ঘরে, বাগানে লুকিয়ে রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ধরা খেয়েছে, তাদের বিচারও হয়েছে।
এই লজ্জা রাখি কোথায়? যারা করোনাকালীন সময়ে এমন কাজ করেছে সাধারণ মানুষের হোক মেরে খেয়েছে এদের কি বলা উচিৎ ভাষা খুঁজে পাইনা। অপরদিকে বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ বাহিনী, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ডাক্তার, নার্স, চেয়ারম্যান, মেম্বার, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠন এর মানুষগুলি নিজের জীবনের কথা, নিজের পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা না ভেবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং সালাম জানাই।
করোনায় কর্মহীন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে রাজনৈতিক দলের নেতারা, বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্যরা দেশ জুড়ে মহামারী করোনার কারণে অনেক কৃষক ভাইয়ের জমির ধান কাটার লোক ছিলো দেখে সেই সব কৃষক ভাইদের কল পেয়েই ছুটে গিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিবেদিত সদস্যরা, তাদের প্রতি সম্মান জানাই। আবার অনেক জেলায় কিছু রাজনৈতিক বেশি নেতা কৃষক এর জমির কাঁচা ধান কেটে ঘটাও করে সেল্ফিবাজি করতে গিয়ে রসাতলে পড়েছেন, হয়েছে সমালোচিত। যা হারিয়েছি তা ফিরে পাওয়ার নয় আর যা দিয়েছেন তা হারিয়ে যাওয়ার নয়। পাওয়া আর না পাওয়ার নাম জীবন।
বিশ্বজুড়ে করোনা নামক তাণ্ডবের কথা কেউ ভুলে যাবেনা। কোভিড-১৯ এ চোখের সামনে মায়ের, বাবার, আত্মীয়-স্বজনদের মৃত্যু হতে দেখেও কেউ কাছে যেতে পারেনি। চোখের সামনে সন্তানের মৃত্যু হতে কাছে গিয়ে ধরতে পারেনি, মৃত্যুর পরে লাশের পাশে যেতে পারেনি এ কিসের আলামত দেখিয়ে যাচ্ছে করোনা? এর ভেতরেই আবার জন্ম হয়েছে অনেক নবাগত শিশুর।
জন্ম আর মৃত্যুর খেলায় মেতে উঠেছে গোটা পৃথিবী একেই বলে আল্লাহর খেলা, ক্রমশ পৃথিবীটা বাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। করোনার খেলা শেষ না হতেই আবার বৃটেন থেকে শুরু হয়েছে ভিইউ আই নামক ২০২০ সালের স্ট্রেন ভারিয়েন্ট নামক ভাইরাসের। যা করোনা থেকেও মারাত্মক বলে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউইচও বলছে আর বৈজ্ঞানিক নাম দিয়েছে VUI -।
সবিই সৃষ্টির স্রস্টার লিলা খেলা। যা পেয়েছি করোনাকালীন সময়ে-২০ এপ্রিল আমি শিশু কন্যার বাবা হয়েছি যার নাম মারিয়াম আলম। প্রবাসের মাটিতে বসেই সংবাদ পেয়েছি, ভাতিজা সাফোয়ান এর জন্ম হয়েছে তার জন্য শুভ কামনা, ভাগিনার ঘরের সন্তানের নানা হয়েছি তার জন্য শুভ কামনা।
করোনায় যা হারিয়েছি- ১০ জুন ২০২০ আমার প্রাণের প্রিয় মা ফিরোজা বেগমকে যে কষ্ট ভুলবার নয়- মহান আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুন, হারিয়েছি মেহের ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক প্রিয় কবিরুল ইসলাম মজুমদার স্যারকে, হারিয়েছি দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের শাহরাস্তি অফিস ইনচার্জ মইনুল ইসলাম কাজল ভাইয়ের আম্মা আমার প্রিয় খালাম্মাকে। -জান্নাতবাসী করুন।
করোনাকালীন সময়ে দেশের যে যেখানেই মারে গেছেন তাদের সকলের বিদাহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি মহান আল্লাহ সবাইকে জান্নাতবাসী করুন। এক কথায় ২০২০ সালের ইতিহাস লিখে শেষ করা যাবেনা। বিদায় বছরে আল্লাহ যা দিয়েছেন তাই পেয়েছি। মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি আগত ২০২১ সালে পৃথিবীজুড়ে যে অস্থিরতা তা দূর করে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে দিন, মরার আগেই যেন আতংকে মরে না যাই। তোমার নিয়ম-মাফিক ডাকেই যাবো চলে সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে। এখানে নিজের ইচ্ছায় কাহারো থাকার সাধ্য নাই। মনে রাখবেন দুনিয়ায় আসার কালে সবাই খালি হাতে এসেছেন আবার খালি হাতে ভিখারি হয়েই যেতে হবে। তাই আসুন সবাই করোনায় শিক্ষা গ্রহণ করি। সততার সাথে মানুষের কল্যাণে কাজ করি।
লেখক পরিচিতি- প্রবাসী সাংবাদিক, নাট্যকার, কবি, লেখক, টেলিভিশন অভিনেতা, সাংস্কৃতিক সংগঠক।