প্রবাস মেলা ডেস্ক: সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ঈদের দিন কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ১ জুন ২০২৩, শনিবার জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোরআন বা অন্য যেকোনো পবিত্র গ্রন্থ পোড়ানো আপত্তিকর, অসম্মানজনক ও স্পষ্টভাবে উসকানিমূলক।
ইইউয়ের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক মুখপাত্র নাবিলা মাসরালি বিবৃতিতে বলেছেন, বর্ণবাদ, ধর্মীয় উসকানি ও অসহিষ্ণুতার স্থান ইউরোপে নেই। সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ ইইউ কোনোভাবেই সমর্থন করে না।
তিনি আরও বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক যে মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় এমন কাজ করা হয়েছে।
গত ২৮ জুন ২০২৩, বুধবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে সালওয়ান মোমিকা নামে এক ব্যক্তি মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনের একটি কপি পুড়িয়ে দেয়। সেসময় সুইডেন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেয়। সুইডেনের একটি আদালত সালওয়ানকে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর অনুমতি দেয়।
এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন এমন ঘটনা ঘটায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। এরই মধ্যে সুইডেনে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এ ঘটনার প্রতিবাদে তেহরানে নিযুক্ত সুইডিশ চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে। এছাড়া নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে পুরো আরব বিশ্বসহ অন্য মুসলিম দেশগুলোতে।
কোরআন পোড়ানোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানিয়েছে মিশর, ইরাক, জর্ডান, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও ফিলিস্তিন।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পশ্চিমা দেশগুলোকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি, কিছু দেশ ভিন্ন আচরণ করে। তারা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করে না। তারা এও বলে, কোরআন অবমাননা কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু আমাদের দেশে এটি আইনী ও সাংবিধানিক উভয়ভাবেই অপরাধ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।