প্রবাস মেলা ডেস্ক: সিরিয়ার ইদলিবে শরণার্থী শিবিরে সরকার বাহিনীর রকেট হামলায় অন্তত ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রোববার ভোরে সরকারি বাহিনী রকেট হামলা চালালে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ব্রিটেনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্যমতে, আসাদ বাহিনী এদিন সকালে মারাম ক্যাম্পসহ বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে অন্তত ৩০টি রকেট ছোড়ে। বিরোধী দল সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স জানায়, রাজধানীর পশ্চিমে অন্তত ছয়টি ক্যাম্প লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণে শিশু ও নারীসহ কয়েকজন নিহত হন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।
এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। সিরিয়া ও রাশিয়ার যুদ্ধবিমানও ওই এলাকায় হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা জানায়, বাসার আল আসাদের বাহিনী ও রাশিয়ার সেনারা মিলে ইদলিবের পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামগুলোতে রকেট হামলা চালায়। বেশকিছু শিবিরেও রকেট ছোড়ে। ওই শরণার্থী শিবিরগুলোতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নেই। এখানে বাস্তুচ্যুত মানুষরা বাস করে। যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল তা বর্ণনা করা সম্ভব নয়।
এসব হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা খারাপ। তাদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। সরকারপন্থি রেডিও স্টেশন শাম এফএম জানায়, সরকার বাহিনী ইদলিবের সবচেয়ে শক্তিশালী জঙ্গিগোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম গ্রুপের অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করে। বিদ্রোহী দলগুলোও সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়।
২০২০ সালের মার্চে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর বিদ্রোহীরা ইদলিবের প্রাদেশিক রাজধানী থেকে উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই শরণার্থী শিবিরে থাকতে শুরু করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখানে গত দুই বছরে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ার সংঘাত শুরুর পর থেকে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এমনকি সিরিয়ার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।